৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকরী, সুদূরপ্রসারী ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানকে বলেছিল সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। এজন্য ১৫ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তারা একটি তালিকা পাকিস্তান সরকারের হাতে তুলে দিয়ে জানিয়েছিল, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির রমরমা ও দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পাকিস্তানকে ২৭টি কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাক সরকার এই ব্যবস্থাগুলি নিচ্ছে কি না তার উপর নজরদারি চালানো হবে। যদি পাকিস্তান ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে পাকিস্তানের উপর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একঘরে করা হবে ইসলামাবাদকে।

শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংগঠন এফএটিএফ-এর ওই হুঁশিয়ারি কানে তোলেনি ইসলামাবাদ। লোকদেখানো কিছু ব্যবস্থা নিলেও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির পরিকাঠামো এখনও অটুট রয়েছে সে দেশে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ এফএটিএফ-এর প্রতিনিধিদের। সংস্থার পরিদর্শক ও পর্যবেক্ষক দলে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এফএটিএফ-এর দেওয়া ২৭টি নির্দেশিকা কার্যকর করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে অক্টোবরে। এর মধ্যে পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য এবং কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির আর্থিক উৎস ও আর্থিক মদত এখনও অটুট রয়েছে বলে মনে করছে ফাটফ।

এই অবস্থায় সন্ত্রাস দমন নিয়ে পাকিস্তানের ঢিলেমির জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানকে আগাম কালো তালিকাভুক্ত করল এফএটিএফ-এর আঞ্চলিক শাখা এপিজি। এপিজি অর্থাৎ এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ এপিজি-র আন্তর্জাতিক আধিকারিকরা এফএটিএফ-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে তাঁদের পক্ষ থেকে ১১টি পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান তার ১০টি পদক্ষেপই করেনি। তাই পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হল।

সূত্রের খবর, পাকিস্তানকে এফএটিএফ-এর পক্ষ থেকে কালো তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে শুক্রবারের ঘটনা বড় ভূমিকা নিতে পারে। ইসলামাবাদকে ফের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য এখন সবরকম চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তা পাকিস্তানের কাছে কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগ অর্থ-তছরুপ ও সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে তহবিল গঠনের বিষয়ের ৪০ টি কমপ্লায়েন্স প্যারামিটারের ৩২ টিতে পাকিস্তানকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছে।

চলতি বছর জুন মাসে ওয়াচডগ সংস্থা এপিজি পাকিস্তানকে অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ তহবিল সংগ্রহ বন্ধ করার ব্যাপারে কড়া সতর্কতা জারি করেছিল। বলা হয়েছিল, এই তহবিল সংগ্রহ বন্ধ না হলে কঠিন পরিস্থিতির সামনে পড়তে হতে পারে ইমরান খান সরকারকে। কিন্তু এই সংক্রান্ত ১১টি প্যারামিটারের মধ্যে ১০টিতে খুব খারাপ হাল পাকিস্তানের।

এফএটিএফ-এর তরফে সাফ জানানো হয়েছে, অক্টোবর মাসের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে পাকিস্তানকে। যদি ইমরান খান সরকার এই নির্দেশিকা না মানে, তাহলে ফের তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে বলেই খবর। সেক্ষেত্রে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হলে ভয়াবহ সংকটে পড়ে যাবে ইমরান কান সরকার। এমনিতেই আর্থিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থা পাকিস্তানের। সৌদি আরব ও চিনের কাছে দেনার দায়ে ডুবে রয়েছে গোটা দেশ। আগামী এক দশকেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনও সম্ভাবনা এবং দিশা নেই।

২০১৮ সালের জুন মাসের আগে ‘ধূসর তালিকাভুক্ত’ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আর্থিক তছরুপ ও সন্ত্রাসবাদ তহবিল গঠন বন্ধ করার মতো বিষয়ে অনেক দুর্বল বলেই বিবেচিত হয় পাকিস্তান। আর তার ফলে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকেই কালো তালিকাভুক্ত করা হয় পাকিস্তানকে। তারপরেই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে গ্লোবাল টেররিস্ট বা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এফএটিএফ-এ ভারত ও অন্যান্য সদস্য দেশ বারবার অভিযোগ করে, পাকিস্তান হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহার-এর মতো একাধিক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই তারা সক্রিয় হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এফএটিএফ এবং এপিজি স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন এখনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই আইনগুলি এখনও দুর্বল।

যদিও পাকিস্তান দাবি করে যে লস্কর-ই-তইবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশন এবং জইশ-ই-মহম্মদ-সহ ৭০০টিরও বেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সম্পত্তি দখলের মাধ্যমে তারা যথেষ্ট কাজ করেছে। যদিও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিমত এপিজি এবং এফএটিএফের।

[আরও পড়ুন: আমাজনের আগুন ‘ম্যানমেড’, স্যাটেলাইট ছবি দেখে নিশ্চিত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং