২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে ‘আরব লিগ’-এর পদ ছাড়ল প্যালেস্তাইন

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: September 23, 2020 3:35 pm|    Updated: September 23, 2020 3:35 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন পৌরহিত্যে মিটছে আরব-ইহুদি সংঘাত। সংযুক্ত আরব অমিরশাহীর পর ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে মুসলিম দুনিয়ার অন্যতম ধনী রাষ্ট্র বাহরাইন। মাত্র মাসখানেকের মধ্যেই ইজরায়েলের সঙ্গে দু’টি আরব দেশের সমঝোতা করিয়ে রীতিমতো বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এর ফলে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এবার ‘আরব লিগ’-এর সভাপতির পদ ছাড়ল প্যালেস্তাইন (Palestine)।

[আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে খোঁচা তুরস্কের, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক না গলানোর’ হুঁশিয়ারি ভারতের]

ইজরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব অমিরশাহী ও বাহরাইনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মনে করছে প্যালেস্তাইন। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ইজরায়েলের দখলে থাক জমি মুক্ত করে পৃথক প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রসঙ্গে আর তাঁদের পাশে থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে মুসলিম দেশগুলি। তাই প্রতিবাদে ‘আরব লিগ’-এর সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছে দেশটি। আগামী ছয় মাসের জন্য ওই পদে থাকার কথা ছিল প্যালেস্তাইনের। ইজরায়েলের দখলে থাক ওয়েস্ট ব্যাংকের রামাল্লা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে আরব লিগের পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন প্যালেস্তাইনের বিদেশমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি। সরাসরি ইজরায়েল, বাহরাইন বা সংযুক্ত আরব অমিরশাহীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মুখ না খুললেও ইঙ্গিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা লিগের পদটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেভাবে সম্পর্ক শুধরে নেওয়ার দৌড় শুরু হয়েছে তা কোনও গৌরব করার মতো বিষয় নয়।”

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, মিশর, ইরাক-সহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ মিলে ১৯৪৫ সালে কায়রোয় আরব লিগ গঠন করে। তারপর থেকেই প্যালেস্তাইন ইস্যুতে বরাবর ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে সংগঠনটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমীকরণ পালটেছে। আমেরিকার চাপে প্রকাশ্যে না হলেও, ইজরায়েলের (Israel) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করতে রাজি হয়েছে সৌদি আরব। ইতিমধ্যেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পৌরহিত্যে ইজরায়েলকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও বাহরাইন।

প্রসঙ্গত, মিশর, জর্ডন ও সংযুক্ত আরব অমিরশাহীর পর চতুর্থ দেশ হিসেবে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করল বাহরাইন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর নেপথ্যে অনেকটাই কাজ করছে বাহরাইনের ইরান ভীতি। মূলত শিয়া অধ্যুষিত ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের শাসনভার রয়েছে সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত আল খলিফা রাজপরিবারের হাতে। ১৭৮৩ সাল থেকেই বাহরাইন শাসন করে আসছে এই পরিবার। রাজপরিবারের বিরুদ্ধে শিয়া সম্প্রদায়ের অভিযোগ, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। এর ফলে সে দেশে জন্ম নিয়ে শিয়া সন্ত্রাসবাদী সংগঠনও। সব মিলিয়ে ঘরোয়া রাজনীতির চাপে নীতি বদল করায় মুসলিম বিশ্বে ক্রমাগত ‘বন্ধু’ হারাচ্ছে প্যালেস্তিনীয়রা।

[আরও পড়ুন: ‘ঠান্ডা, গরম কোনও লড়াই চাই না’, রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে পরোক্ষে বার্তা জিনপিংয়ের]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement