৯/১১ জঙ্গি হামলার পর ২৫ বছর কেটে গেলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক তদন্তে জানা যাচ্ছে, আল কায়দার তরফে ভয়াবহ সেই জঙ্গি হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন সৌদির নাগরিক আল বায়ুমি। এফবিআইয়ের হাতে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা সৌদি যোগের কোনও তদন্ত করেনি। জানা যাচ্ছে, টুইন টাওয়ারে হামলার নেপথ্যে থাকা ১৯ জন জঙ্গির মধ্যে দু’জনকে সাহায্য করেছিলেন এই আল বায়ুমি।
সোমবার বিবিসির তরফে পুরনো বেশকিছু ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয়েছে শোরগোল। ভিডিওতেই স্পষ্ট যে আল কায়েদার জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল বায়ুমির। জানা যাচ্ছে, ১৯৯৪ সালে সৌদি আরব থেকে সান দিয়াগোতে ঘাঁটি গাড়েন বায়ুমি। তাঁর দাবি ছিল, ইংরেজি শিখতেই আমেরিকায় আসেন তিনি। পরে অবশ্য জানা যায়, পড়াশোনা নয়, ধর্মীয় কার্যকলাপ চালাতেই আমেরিকায় পা রাখেন তিনি। এমনকী তদন্তে জানা গিয়েছে, ৯/১১ হামলা বাস্তবায়িত করতে জঙ্গিরা দুটি বিমান ছিনতাই করেছিল। এই দুই ছিনতাইকারী নওয়াফ আল-হাজমি এবং খালিদ আল-মিধারের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। আমেরিকায় এদের থাকার জন্য বাড়ি ভাড়া করে দিয়েছিলেন বায়ুমি।
আরও পড়ুন:
১৯৯৭-৯৮ সালে তোলা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বায়ুমি এবং আল কায়দা নেতা আল আওলাকি পেইন্টবল দিয়ে যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন সৌদির ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রকের এক আধিকারিক।
সৌদির এই নাগরিকের সঙ্গে আল কায়দার যে ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল তা বিবিসির প্রকাশিত একাধিক ভিডিওর দৌলতে প্রকাশ্যে এসেছে। ১৯৯৭-৯৮ সালে তোলা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বায়ুমি এবং আল কায়দা নেতা আল আওলাকি পেইন্টবল দিয়ে যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন সৌদির ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রকের এক আধিকারিক। এই পেইন্টবল জেহাদের ট্রেনিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় আর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বায়ুমি আওলাকিকে আলিঙ্গন করছেন।
শুধু তাই নয়, বিবিসির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই বায়ুমির কাছ থেকে একটি প্লেনের নকশা পাওয়া যায়। সেখান একটি ডায়াগ্রাম ছিল। যেখানে ককপিট কীভাবে ভাঙা যায় তার হিসেব নিকেষ ছিল। এই প্রমাণ ৯/১১-র ঘটনার পর সংগ্রহ করা হয়েছিল এফবিআইয়ের তরফে। কিন্তু তা জনসমক্ষে আনা হয়নি। ৯/১১তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তরফে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল এই হামলার সঙ্গে সৌদি আরবের যোগ ছিল। এই মামলার ভিত্তিতেই এখন প্রকাশ্যে এসেছে এই তথ্য।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বায়ুমি সম্পর্কে এইসব তথ্যপ্রমাণ এফবিআইয়ের নিউ ইয়র্কের অফিসে পাঠানো হলেও, বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তা সান দিয়োগো ও এলএ অফিসে পাঠানো হয়নি। বায়ুমির সঙ্গে যুক্ত সৌদির সরকারি আধিকারিকদের জেরা করতেও এসবিআইকে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই এজেন্ট ড্যানিয়েল বলেন, “এই তথ্যগুলি এখন কেন প্রকাশ্যে আসছে? ৯/১১ হামলার তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাতে এগুলো আসা উচিত ছিল।” শুধু তাই নয়, জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে এফবিআইএর এক গোপন রিপোর্ট পেশ হয়েছিল। যেখানে দাবি করা হয়েছিল বায়ুমির ৯/১১ হামলা সম্পর্কে আগে থেকে জানার সম্ভাবনা ৫০/৫০ ছিল। সৌদি আরব অবশ্য এই সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত