২৮ আশ্বিন  ১৪২৬  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার খেয়ে পালটা মার৷ সবক্ষেত্রে অবশ্য প্রত্যক্ষভাবে মারামারির প্রয়োজন হয় না৷ ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘাত-প্রত্যাঘাতের লড়াই হয় বেশি৷ ঠিক সে পথেই হাঁটল ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ কন্যা মুনসিমর কউর৷ বছর দশের মেয়েটি যেভাবে বন্ধুদের কাছে ব্রাত্য হয়েছে, তারই পালটা হিসেবে সে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্যে সবটা স্পষ্ট করেছে৷ দশম বর্ষীয়া কন্যার সেই বক্তব্যই এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল৷

[ আরও পড়ুন: প্রবল বৃষ্টির জের, মায়ানমারে পাহাড় ধসে মৃত অন্তত ৩৪]

লন্ডনের বাসিন্দা মুনসিমর রোজকার মতো বৃহস্পতিবারও বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল পার্কে৷ অন্যদিনের মতোই বন্ধুদের সে ডাকে খেলার জন্য৷ কিন্তু এই দিন তার একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল৷ মুনসিমরের চেয়ে বয়সে বড় দুজন ছেলে এবং দুই মেয়ে এসে তাকে জানায়, ‘আমরা তোকে খেলতে নেব না৷ তুই আপাতভাবে খুবই বিপজ্জনক৷ শুনেছি, তুই সন্ত্রাসবাদী৷’ একথা শুনে আর স্থির থাকতে পারেনি মুনসিমর৷ পরেরদিন ফের মাঠে যায়৷ বয়সে ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে খেলাও করে৷ কিন্তু সেখানেও আরেক অভিজ্ঞতা৷ মেয়েটির মা তাকে ফোন করে বলে, মুনসিমরের সঙ্গে খেলার দরকার নেই৷ সে যেন বাড়ি ফিরে যায়৷
পরপর দুদিন এমন ঘটনা,শ্বেতাঙ্গ বন্ধুদের কাছে ব্রাত্য হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা তাকে যত না বিঁধেছে, তার চেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছে, তার সম্প্রদায়কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে দেগে দেওয়ায়৷বন্ধুদের মুখের উপর কিছু বলতে না পারলেও,বাড়ি ফিরে দশ বছরের মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সে এর প্রতিবাদ জানাবে৷ সেইমতো টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তার বাবা৷ যেখানে মুনসিমর তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়, অবহেলার কথা তুলে ধরেছে৷ সে বলেছে, সেদিন বন্ধুদের কথাগুলো কীভাবে তার হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল৷ তা সত্ত্বেও সে মাথা উঁচু করে মাঠ থেকে সে বাড়ি ফিরেছিল৷ মুনসিমর আরও বলেছে, শিখদের সম্পর্কে সকলের সঠিক ধারণা নেই৷ তবে তারা যে স্বভাবজাত বেশ যত্নবান এবং সকলকে আপন করে নিতে জানে, এই বার্তা দিতেও ভোলেনি দশ বছরের মেয়েটি৷


টুইটারে তা ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা তার এমন অভিনব প্রতিবাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷ ছোট মেয়েটির কথা অনেকেই মন দিয়ে শুনছেন৷ এসবের মাঝেও উদ্বেগের বিষয় থেকেই যাচ্ছে৷ বিদেশে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্বেষের বিষ, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ৷ এমনিতেই নয় এগারো হামলার পর মার্কিন মুলুকে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন ‘সন্ত্রাসবাদী’ বনে গিয়েছিলেন প্রশাসনের কাছে৷ লাদেনের চেহারার সঙ্গে শিখদের দাড়ি এবং পাগড়ির মিল থাকায় এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল৷ পরে তা মিটলেও, লন্ডনবাসীর মধ্যে সেই ভ্রান্ত ধারণা রয়ে গিয়েছে৷ নাহলে কি আর মাত্র ১০ বছরের মেয়েকে এমন শিকার হতে হয়?

[ আরও পড়ুন: রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগারে রকেট বিস্ফোরণ, মৃত ৫ পরমাণু বিজ্ঞানী]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং