সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর, সে কথা স্বীকার করে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুক্রবারই ‘রাশিয়া টু-ডে’ সংবাদমাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, “আটের দশকে পাকিস্তানেই পাক জেহাদিরা তৈরি হয়েছিল। আফগানিস্তানে সোভিয়েত-রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে তখন জঙ্গিদের তৈরির জন্য পাকিস্তানকে মদত দিয়েছিল আমেরিকাই। আর এখন তারাই আমাদের ঘাড়ে সব দোষ চাপাচ্ছে। এটা খুবই অন্যায্য হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, এই সব জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ৭০ হাজার পাকিস্তানি নিহত হয়েছে। ইসলামাবাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭.১০ লক্ষ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ, তাদের সন্ত্রাসী কাজে মদত দিতেই লেগে গিয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ অর্থাৎ নানা বিস্ফোরণের জেরেও দেশজুড়ে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। সেই সময় আমেরিকার কথায় সাড়া না দিয়ে নিরপেক্ষ থেকে কাউকে সাহায্য না করাই উচিত ছিল বলে আক্ষেপ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
[ আরও পড়ুন: ভাল নেই সংখ্যালঘুরা, ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা পাকিস্তান ]
সম্প্রতি কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে পাকিস্তান বারবার রাষ্ট্রসংঘ—সহ আমেরিকার কাছেও এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য আরজি জানিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা বারবার ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসের মদতকারী বলে কোণঠাসা করছে। কূটনীতিকদের অনুমান, এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই আমেরিকাকে তোপ দেগেছেন ইমরান। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বলে স্বীকার যেমন করেছেন তিনি, তেমনই ফাঁস করেছেন, অতীতে জঙ্গিদের তৈরি করতে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ পাকিস্তানকে মদত দিয়েছিল। তাঁর কথায়, সোভিয়েত যখন আফগানিস্তান দখল করছিল তখন পাকিস্তান যাতে আফগানিস্তানকে সাহায্য করতে সোভিয়েতের বিরুদ্ধে জেহাদ করতে পারে তার জন্য মুজাহিদিন তৈরির ছক কষেছিল আমেরিকা। পরিকল্পনা মতো পাকিস্তানি মুজাহিদিনদের আর্থিক ও অস্ত্র সাহায্য করেছিল ওয়াশিংটনই। আর এখন কয়েক দশক পরে সেই আমেরিকা আফগানিস্তানে এসে বলছে পাকিস্তান না কি সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ওরা যে জেহাদের সূত্রপাত করেছিল সেটাকেই এখন সন্ত্রাসবাদ বলে পাকিস্তানের বিরোধিতা করছে। ইমরানের মতে, সেই সময় পাকিস্তান নিরপেক্ষ থাকলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মতোই আমেরিকাও ইসলামাবাদের বিরোধী হয়ে যেত না।
[ আরও পড়ুন: আইএস অধিকৃত দ্বীপে ৪০ টন বোমা ফেলল আমেরিকা, খতম ২৫ জঙ্গি ]
উল্লেখ্য, সোভিয়েত-রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার জন্যই তৎকালীন মার্কিন সরকারের মদতে ওসামা বিন লাদেনের মতো কুখ্যাত জঙ্গিরাও তৈরি হয়েছিল। ওসামার আল কায়দা গোষ্ঠী, আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গিদেরও অস্ত্র সাহায্য করত আমেরিকাই। সেই সময় আমেরিকার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আর এক শক্তিশালী দেশ রাশিয়া। রাশিয়া আফগানিস্তান আগ্রাসন করলে আরও শক্তিশালী হয়ে যাবে, এই আশঙ্কাতেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে মুজাহিদিনদের মদত দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ, ড্রয়ারে ভর্তি কন্ডোম! শোরগোল পাণ্ডবেশ্বরে
-
বিশ্বকাপে ডাক পেয়েও খেলতে নারাজ ফরাসি তারকা! কারণ জানলে স্যালুট করবেন
-
সন্দীপনের বাড়িতে জনরোষে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে নিশানা ঋতব্রতের, মৃদুস্বরে তোপ বিজেপিকে
-
রুখতে পারলেন না অমিত শাহও! তামিলনাড়ুর ‘পোস্টার বয়ে’র সঙ্গে বিচ্ছেদে সিলমোহর বিজেপির
-
INDIA জোট ছাড়ল স্ট্যালিনের ডিএমকে, মমতার বৈঠকের আগেই ভাঙন বিরোধী শিবিরে