Barasat Medical College

২৪ ঘণ্টা সিনিয়র চিকিৎসক থাকেন না, জরুরি অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ অপেক্ষা

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ চতুর্দশ পর্ব।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৮:০৪

options
link
২৪ ঘণ্টা সিনিয়র চিকিৎসক থাকেন  না, জরুরি অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ অপেক্ষা
পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ?

উত্তর ২৪ পরগনার সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বারাসত সরকারি মেডিক‌্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (Barasat Government Medical College)। জেলার পাশাপাশি নদিয়া ও সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষের ভরসা এই হাসপাতাল। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় চার হাজার রোগী আসেন, ভরতি থাকেন প্রায় ৭০০ জন। অথচ ২৪ ঘণ্টা সিনিয়র চিকিৎসক না থাকা, জরুরী অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ অপেক্ষা, বেডের অভাব, আধুনিক পরিকাঠামোর ঘাটতি ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাব নিয়ে উঠছে একের পর এক অভিযোগ।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ মেডিসিন বিভাগে। রোগীর পরিজনদের দাবি, সকালে ওয়ার্ড রাউন্ডের পর সিনিয়র চিকিৎসকেরা চলে যান। এরপর চিকিৎসার দায়িত্ব থাকে জুনিয়র চিকিৎসক ও নার্সদের উপর। রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। একই অভিযোগ জরুরী বিভাগেও। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওয়ার্ডে পাঠানো হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পৌঁছতে অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। ইএনটি ও সার্জারি বিভাগ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, মাথা ফেটে যাওয়া বা হাত-পা কেটে যাওয়ার মতো জরুরী রোগীদেরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ। বহু ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পরে সেলাই বা অস্ত্রোপচার শুরু হয়। এতে রোগীর যন্ত্রণা যেমন বাড়ে, তেমনই সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে। ওয়ার্ড ও করিডরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর পরিজনেরা।

Advertisement

বেডের সংকট দীর্ঘদিনের। হাসপাতালের বেড ৬১২টি হলেও ভরতি রোগীর সংখ্যা প্রায়ই ৭০০ ছাড়িয়ে যায় বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি। ফলে একটি বেডে একাধিক রোগী বা করিডরে রোগী রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কখনও জরুরি বিভাগের সামনে ‘বেড নেই’ বোর্ডও টাঙাতে হচ্ছে। জ্বর বা পেটব্যথার মতো রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর বহির্বিভাগে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর জন্য মাত্র দুটি ইউএসজি মেশিন থাকায় পরীক্ষার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি কেন্দ্রে পরীক্ষা করাচ্ছেন। মেডিক‌্যাল কলেজ হলেও এখনও কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, প্লাস্টিক সার্জারি ও এমআরআই পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে জটিল রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। আবার সিসিইউ-তে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক সময় সংকটজনক রোগীকেও সাধারণ ওয়ার্ডে রাখতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, “মেডিসিন বিভাগে আরও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড বাড়ানো গেলে পরিষেবা দিতে সুবিধা হবে। অন্যান্য বিভাগে আপাতত ম্যানেজ করা যাচ্ছে। রাতে সিনিয়র চিকিৎসকেরা অন-কলেই থাকেন। অন-ডিউটিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থাকেন, প্রয়োজনে পরবর্তী স্তরের চিকিৎসকরাও পরিষেবা দেন। কার্ডিওলজি, নিউরোলজি ও এমআরআই চালুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরও একটি ইউএসজি মেশিন পেলে পরিষেবা আরও উন্নত হবে।”

Advertisement

(চলবে)

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.