Drugs

যৌন মাদকে ক্ষণিকের স্বর্গ! নাছোড় আসক্তি থেকে মুক্তির পথ কোথায়?

এই মাদকের চলতি নাম ‘লাভ ড্রাগ’। বিদেশি নাম ‘এমডি এমএ’। বহু তরুণ-তরুণী ইতিমধ্যে যৌন মাদকে আসক্ত হয়ে নিরাময়হীন নরকের পথে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ২১:৩২

options
link
যৌন মাদকে ক্ষণিকের স্বর্গ! নাছোড় আসক্তি থেকে মুক্তির পথ কোথায়?
প্রতীকী ছবি।

মেক্সিকো অনেক দূরের দেশ। কোথায় মেক্সিকো আর কোথায় মালদা! কিন্তু সেই মালদাতেও দেখা দিয়েছে মানচোর বঙ্গ সংস্করণ। মনে রাখতে হবে, মিল্টন, ‘প্যারাডাইস লস্ট’ মহাকাব্যে শয়তানকে বলেছেন, ‘দ‌্য ইনফারনাল সারপেন্ট’, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ‘দ‌্য মাদার অফ ম্যানকাইন্ড’-এর শরীরে বিষ ঢালা। সেই সাপ ছোবল মেরেছে মালদায়। মাদকের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।

Advertisement

এই মাদকের চলতি নাম ‘লাভ ড্রাগ’। বিদেশি নাম ‘এমডি এমএ’। সুখবর হল, মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কালিয়াচক থানার পুলিশের টিম নিয়ে অভিযান চালিয়ে ৪৫৩ গ্রামে এই উচ্চমানের বিদেশি ড্রাগ উদ্ধার করেছেন, যার বাজারদর নাকি ১ কোটি টাকার বেশি। এবং ড্রাগ মাফিয়াদের দুই মাথা, মহম্মদ সামাউল হক এবং মোবারক হোসেন গ্রেপ্তারও হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সাপ ছোবল মেরেছে মালদায়। মাদকের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।

জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে এদের যোগাযোগ আছে। এবং এরা যে লাভ ড্রাগের ফাঁদ পেতেছে, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং কম বয়সের ছেলেমেয়েদের জন্যে, সেই ড্রাগ যৌন উদ্দীপনাকে খুব তাড়াতাড়ি চরম জায়গায় নিয়ে যায়, যখন আর তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। বিত্তবানদের নৈশপার্টিতে এই লাভ ড্রাগের চাহিদা সবথেকে বেশি। এবং বহু তরুণ-তরুণী ইতিমধ্যে এই সেক্স মাদকের ক্ষণিক স্বর্গে আসক্ত হয়ে নিরাময়হীন নরকের পথে।
সবথেকে বিপজ্জনক খবর হল, লাভ ড্রাগের অবদানে ক্রমে বাড়ছে রাতজুড়ে রেভপার্টি ও ডান্স পার্টির প্রমোদ ও উন্মাদনা।

Advertisement
What is the way out of sex drug addiction?
ড্রাগের স্বর্গ-নরক, হাক্সলের ভাষায়, ‘আর দ্য টু অ্যান্টিপোডস অফ দ্য মাইন্ড’। প্রতীকী ছবি।

মনে পড়ছে বহু বছর আগে লেখা ইংরেজ ইন্টেলেকচুয়াল, দার্শনিক, লেখক ওল্ডাস হাক্সলের লেখা ‘গেটস টু হেভেন অ্যান্ড হেল’। এই লেখা তাঁর নিজের শরীর, মন, ও বীক্ষণের উপর উত্তেজক মাদক এলএসডি-র প্রভাবের ফসল। হাক্সলে বর্ণনা করেছেন ড্রাগ আমাদের নিয়ে যায় কোন ক্ষণিক কল্পনার স্বর্গে। তারপর আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে কী নারকীয় যন্ত্রণা এবং নাছোড় আসক্তি! ড্রাগের স্বর্গ-নরক, হাক্সলের ভাষায়, ‘আর দ‌্য টু অ্যান্টিপোডস অফ দ্য মাইন্ড’। মনের সেই পরস্পরবিরোধী আবছা অনির্ণেয় মেরুতে আমাদের পক্ষে না যাওয়াই মঙ্গলের।

তবে সবথেকে বড় মাদকতা নিঃসন্দেহে ক্ষমতার, অর্থের, দম্ভের। মেক্সিকোর ড্রাগ মাফিয়া মানচো-কে গ্রেপ্তারের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গুলিহেলন যে স্পষ্টভাবেই ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সামনে কটাক্ষ ভরে উল্লেখ করেছেন– সব ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিতে যাচ্ছে, এটি ঠিক নয়। ট্রাম্পের কাছে সব খবর রয়েছে, দেশ ও দুনিয়ার সবই তাঁর নখদর্পণে। কিছু দিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যেভাবে তুলে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা, তা পেশিশক্তির প্রদর্শন বই তো নয়। লাতিন আমেরিকাকে ড্রাগ-মুক্ত করে আমেরিকা নিজ ভূখণ্ডে ড্রাগের অনুপ্রবেশ রোধ করতে চাইছে, তবে এমন করে ক্ষমতার বিস্তার দেখানোর কি সত্যি দরকার আছে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.