ক’দিন আগেই নেটফ্লিক্সে এসেছে ‘লাস্ট স্টোরিজ থ্রি’। বিষয়গত কারণে প্রথম সিজন থেকেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজি দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল। তৃতীয় সিজন প্রধানত নারীর চাহিদা, প্লেজার এবং মনের অন্তস্তলের দিকে আলো ফেলে। বলা ভালো, যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে এখনও আমাদের মধ্যে জড়তা কাজ করে, এবং দু’জন মহিলাও নিজেদের মধ্যে শরীর নিয়ে, যৌন চাহিদা নিয়ে অকপটে কথা বলতে পারেন কি– সেই সব দিক উঠে এসেছে এবারের সিজনে।
আর সব চেয়ে বড় কথা উল্টোদিকের মানুষের কাছে কাম্য বা ডিজায়ারেবল হয়ে ওঠার যে অস্ফুট বাসনা আমাদের থাকে সে কথা বলে এবারের অ্যান্থোলজি। চারটি গল্পের চারজন পরিচালক– বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, কিরণ রাও, শকুন বাত্রা ও বিশাল ভরদ্বাজ। দুর্দান্ত কয়েকজন অভিনেতা যেমন– কঙ্কণা সেনশর্মা, রাধিকা আপ্তে, অদিতি রাও হায়দরির কথা বিশেষ উল্লেখ্য। প্রথম কাহিনির নির্দেশনায় বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। একটি কাপলের চরিত্রে কঙ্কণা (সোনালি) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর অন্য দম্পতি রাধিকা আপ্তে (পদ্ম) ও বিজয় বর্মা।
দুটি দাম্পত্যেই দু’জন নারী অসুখী। তারাই একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে জন্মদিন উপলক্ষে খান্ডালা যাওয়ার প্ল্যান করে। স্বামীদের কোনওভাবে উত্তেজিত করার অভিপ্রায়ে। আর অবশ্যই পার্টনার পাল্টে গেলে কী হতে পারে, তেমন অদ্ভুত পরিস্থিতিও তৈরি হয়। কঙ্কণার চরিত্রটি ঝুঁকি নিতে তৎপর। লাউড, ইনহিবিশন ফ্রি চরিত্রে তিনি দুর্দান্ত। তুলনায় রাধিকার পদ্ম কম সাহসী। দুর্দান্ত কমিক টাইমিং, মধ্যবিত্ত স্ত্রীর চরিত্রে রাধিকার সাবলীল অভিনয় অন্য মাত্রায় নিয়ে যায় প্রথম গল্পটাকে।

চমৎকার হিউমার চিত্রনাট্য জুড়ে। বিজয় বর্মা ও অভিষেকও দারুণ। দ্বিতীয় গল্পের পরিচালনায় কিরণ রাও, অভিনয়ে গুরফতেহ পিরজাদা আর সানা থাম্পি। মুম্বইয়ের প্রেক্ষাপটে দু’জন অচেনা মানুষের উদ্দাম শারীরিক আকর্ষণ থেকে চিত্রনাট্য ক্লাইম্যাক্সের দিকে যায়। পিরজাদা এখানে দ্বৈত চরিত্রে। মেয়েটি একটা নেল পার্লারে কাজ করে, আর ছেলেটা পিজ্জা ডেলিভারি করে, একই সঙ্গে ড্রাগ পেডলার। তাদের মধ্যে তুমুল শারীরিক চাহিদার পরে ঝড় খানিকটা শান্ত হলে যখনই দর্শকের প্রেম মনে হতে থাকে, অবিশ্বাস্য টুইস্ট আসে গল্পে।
ক্লাইম্যাক্স নির্ধারণ করে শেষ পর্যন্ত মেয়েটি, কী ভাবে ছবিতে দেখতে হয়। কিরণ রাও অপ্রত্যাশিত চমক দিয়েছেন। পরের গল্প শকুন বাত্রার। কেন্দ্রচরিত্রে রাধিকা মদন আর আলি ফজল। তাদের কাছে আসা-দূরে যাওয়া, প্রত্যেকটা সিকোয়েন্স অসম্ভব লিরিক্যাল। এই ছেলে-মেয়েটির বিয়ের সম্পর্ক খাদের কিনারে। তিক্ত থেকে ক্রমশ তিক্ততর হয়েছে যোগাযোগ আর কথা হারিয়ে গেছে বিশ্রী ঝগড়ায়। সেক্স তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। ‘লাস্ট’ ভাঙা সম্পর্কে যেন সাময়িক রিলিফ। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে মেয়েটি ছেলেটিকে বার বার বলে, বলো তোমার মা ম্যানিপুলেটর!

বিচ্ছেদের আগে বাড়ির কোন কোন জিনিস কার কেনা হিসেবে-নিকেশ করতে করতে পরস্পরের বিরুদ্ধে শুধুই অগ্নিশলাকা নিক্ষেপ করেছে তারা। আশ্চর্যের বিষয়, তেমন উত্তপ্ত সময়েও তাদের শান্ত করেছে যৌনতা। যদি অভিমান-বিরক্তি আর চরম শারীরিক আকর্ষণ একসঙ্গে সহাবস্থান করে, ঠিক কেমন হয়? অদ্ভুত অভিনয়ে ঠিক সেটাই বিশ্বাসযোগ্য করেছেন আলি আর রাধিকা। ছবিতে তারা বাধ্য হয়েছে মনোবিদের সাহায্য নিতে। তাহলে, ডিজায়ার কি সমস্ত অশান্তির, আরোগ্য? নাকি পেনকিলার মাত্র? দুরন্ত রসায়ন রাধিকা মদন আর আলি ফজলের।
শেষ গল্পের পরিচালনায় বিশাল ভরদ্বাজ, অভিনয়ে অদিতি রাও হায়দরি আর সিদ্ধার্থ। ১৯৮০-র হায়দরাবাদ এই গল্পের প্রেক্ষাপট। সাইরা (অদিতি) সাহিত্যের শিক্ষিকা, চিকিৎসক বদরু (সিদ্ধার্থ) সঙ্গে যার বিয়ে হয়েছে। তাঁদের জীবনে প্রেম আছে কিন্তু সাইরার শরীরী প্রত্যাশা যতটা, ততটা নয়। ফলে তার সাহিত্য-কল্পনার মতো তার বিছানা উড়ান নেয়! ফ্যান্টাসির জায়গা আছে। এখানেই ছবিটার মজা।
অদিতি চরিত্রের কল্পনা, রোমান্স, দুষ্টুমি সবটা নিয়ে ভয়ানক প্রাণবন্ত। আর ডাক্তারের চরিত্রে সিদ্ধার্থ অপূর্ব! চারটি ছোট গল্পের স্বাদ চার রকমের হলেও, সম্পর্ক-প্রেম-প্যাশন, যৌনতার গভীর-গোপন কথাগুলো খুব স্পষ্ট করা বলা, আর নারী চরিত্রেরা স্বাধীন ভাবে তার ইচ্ছে-অনিচ্ছের কথা বলতে পেরেছে দ্বিধাহীন ভাবে। অভিনেতারা সকলেই এত দক্ষ, কোনও গল্প সামান্য দুর্বল হলেও তা পুষিয়ে গিয়েছে পারফরম্যান্সের জোরে।
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমতায় থাকার সময় অমর হওয়ার কৌশল ফাঁদে রাজারা, কোন কাজে লাগে তা?
-
নাকে-মুখে রক্তের দাগ! নিঠারি কাণ্ডে ‘বেকসুর খালাস’ সুরেন্দ্রর রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবি দাদার
-
ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান
-
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন রমেশ পওয়ার! হতে পারেন নির্বাচকও
-
উনিশের কিশোরী স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা! ধৃত ৭৫-এর জামাত এমপি