পুজোর সময় নিঃসঙ্গ লাগে? বন্ধু বা বান্ধবী ‘ভাড়া’ নিতে চান? সারারাতটা কাটাতে চান প্যান্ডেল হপিং করে, অথবা ‘ভাড়া’ নেওয়া বন্ধু বা বান্ধবীটি রাজি থাকলে একসঙ্গে ঘুরে আসতে চান কাছাকাছি কোথাও? সাবধান। উৎসবের মুখে সোশাল মিডিয়ায় এই ধরনের কোনও প্রস্তাব এলে কোনওভাবেই রাজি হবেন না। বরং ফিরিয়ে দেবেন। কারণ, এই বন্ধু বা বান্ধবীদের ‘ভাড়া’ দেওয়ার অফারের আড়ালেই ফাঁদ পাতছে সাইবার জালিয়াতরা। এমনভাবেই সবাইকে সতর্ক করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রে মূলত নিঃসঙ্গতাকে ‘মূলধন’ করেই বাজারে নেমেছে সাইবার জালিয়াতরা। সোশাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের আকারে ছাড়া হচ্ছে মেসেজ। পাঠানো হচ্ছে পুরুষবন্ধু অথবা বান্ধবীর ‘ভাড়া’ নেওয়ার বার্তা। যারা এই বার্তা পাঠাচ্ছে, তারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘ড্রিমবয়’ অথবা ‘ড্রিমগার্ল’ বলে। পাঠানো হচ্ছে সুন্দরী যুবতী বা সুঠাম যুবকের ছবি। যদিও পুলিশের দাবি, ওই যুবক বা যুবতীর কোনও অস্বিস্ত নেই। এমনভাবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে ওই ছবি তৈরি করা হয় যে, সহজে ধরাও যায় না যে, ওই ‘বন্ধু’ বা ‘বান্ধবী’ আদৌ আসল নয়।
ওই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে বলা হচ্ছে যে, ওই সঙ্গী বা সঙ্গিনীটি যে কোনও পর্বেই আপনার অতি পছন্দের হবে। তা পার্টি বা ইভেন্টের ক্ষেত্রে হোক। বাইরে যাওয়ার জন্য কোনও ট্রিপের ক্ষেত্রেও এই সঙ্গীদের জুড়ি নেই। আবার পুজোর মতো উৎসবের সময় এই বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গ পেলে সুন্দর সময় কেটে যায়। তা ছাড়াও বলা হচ্ছে, এই সঙ্গীরা যে কোনও সময় সঙ্গ দিতে রাজি। গোপনীয়তা সম্পর্কে সবাই নিশ্চিত হতে পারেন। তলায় একটি আইকনে তখনই ‘বুক’ করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, কেউ লোভে পড়ে এই ভুয়ো বিজ্ঞাপনে সাড়া দিলে বা ‘বুক নাউ’ আইকনে আঙুল ছোঁয়ালেই তাঁকে জানানো হচ্ছে বুকিংয়ের জন্য আগাম টাকা দিতে হবে। তাহলেই তাঁর নাম সেই অ্যাপে নথিভুক্ত হবে। কেউ নথিভুক্ত হওয়ার জন্য টাকা দিলে তাঁকে ‘উৎসাহিত’ করা হয়। কখনও বা তাঁকে কয়েকজন তরুণ বা তরুণীর ছবি পাঠানো হয়। তার সঙ্গে তাদের নাম বা বিবরণও। সহজে বোঝাও যায় না যে, ওই ছবিগুলি এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ও প্রোফাইলগুলি সম্পূর্ণ ভুয়া। কোনও সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে পছন্দও করতে বলা হয়। এরপর বুকিংয়ের জন্য আগাম টাকা, তার সঙ্গে কিছু ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ ও ‘ভেরিফিকেশন চার্জ’ পাঠাতে বলা হয়। এই ফাঁদে কেউ পা দিয়ে টাকা পাঠালেই পড়তে পারেন বিপদে।
কারণ পুলিশের দাবি, একবার এই টাকা দেওয়ার পরই সেই ব্যক্তি বা মহিলাকে ব্লক করে দেওয়া হবে। সব ধরনের সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হবে পুরো টাকা। এভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ এসেছে বলে এই রাজ্যের গোয়েন্দাদের কাছেও খবর। তাঁদের মতে, পুজোর আগে এই ‘মোডাস অপারেন্ডি’তে কলকাতা ও রাজ্যের বাসিন্দাদের টাকা হাতানোর ছক কষতে পারে সাইবার জালিয়াতরা। পুলিশের মতে, এর আগে এই পদ্ধতিতে ভুয়া ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমেও জালিয়াতরা টাকা হাতিয়েছে। পুজোর আগে যাতে রাজ্যের মানুষ সাইবার জালিয়াতদের ফাঁদে না পড়েন, তার জন্য তাঁদের সোশাল মিডিয়া ও বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমতায় থাকার সময় অমর হওয়ার কৌশল ফাঁদে রাজারা, কোন কাজে লাগে তা?
-
নাকে-মুখে রক্তের দাগ! নিঠারি কাণ্ডে ‘বেকসুর খালাস’ সুরেন্দ্রর রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবি দাদার
-
ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান
-
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন রমেশ পওয়ার! হতে পারেন নির্বাচকও
-
উনিশের কিশোরী স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা! ধৃত ৭৫-এর জামাত এমপি