নন্দীগ্রাম ও খেজুরিতে খুন ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলায় বর্তমানে পুলিশ হেফজাতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী। সোমবার রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য শুনে মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
শুক্রবার চণ্ডীপুর থেকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল মিলন প্রধানের। নন্দীগ্রাম ও খেজুরিতে খুন ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা রয়েছে মিলনের নামে। প্রায় দু’দশকের পুরনো ওইসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার এ প্রসঙ্গে আদালতে মিলনের আইনজীবী সওয়াল করেন, একটি মামলায় তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। এদিন আদালতে মিলনের আইনজীবী বলেন, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর মক্কেল। সওয়ালের পর মিলনের আইনজীবীকে মামলা দায়ের করতে বলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার মামলা শুনবেন বিচারপতি।
মনোনয়ন পর্ব থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে নাটক চলছে। মমতা ও ঋতব্রত প্রতীক-দ্বন্দ্বে টানাপড়েনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন মমতা শিবিরের তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার দুপুরে সেই ডামাডোলের আবহেই মমতা সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন, তাঁর দল মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবে। ঘটনাচক্রে, মমতা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছে। শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। রবিবার আরও একটি মামলা হওয়ায় মিলনের শিওরে মোট ৫ মামলার খাঁড়া ঝুলছে।
অন্যদিকে, জেলবন্দি স্বামীর হয়ে নন্দীগ্রামে ভোট প্রার্থনা করেন মিলন প্রধানের স্ত্রী। ১৯ বছরের পুরনো মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। এবার মিলনের হয়ে তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান ভিডিয়োবার্তায় স্বামীকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান। মিলনের গ্রেপ্তারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভিডিওবার্তায় মিলনের স্ত্রী বলেন, “ভোটে রায় দিয়েই মানুষ সত্যের পক্ষে জবাব দিক।” ভোটের মুখে কংগ্রেস প্রার্থীর স্ত্রীর এই বার্তা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমতায় থাকার সময় অমর হওয়ার কৌশল ফাঁদে রাজারা, কোন কাজে লাগে তা?
-
নাকে-মুখে রক্তের দাগ! নিঠারি কাণ্ডে ‘বেকসুর খালাস’ সুরেন্দ্রর রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবি দাদার
-
ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান
-
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন রমেশ পওয়ার! হতে পারেন নির্বাচকও
-
উনিশের কিশোরী স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা! ধৃত ৭৫-এর জামাত এমপি