প্রায় তিন বছর পেমেন্ট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পুরসভার ঠিকাদাররা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ায় পুজোর আগে কলকাতার রাস্তা সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন ও পুর পরিষেবা সংকটের মুখে। শুধু তাই নয়, পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের সমস্ত বিল আটকে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা। ওয়ার্ক অর্ডার থাকা সত্ত্বেও বস্তি উন্নয়ন ও নিকাশির অধিকাংশ কাজেও হাত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে গত তিন বছরে কলকাতা পুরসভার ঠিকাদারদের পাওনা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা বলছেন, আগের তৃণমূল সরকার পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ করিয়ে মাত্র ১০/১২ শতাংশ পেমেন্ট দিয়ে চলে গিয়েছে। এর সঙ্গে তো আর আগের সমস্ত কাজের কোটি কোটি টাকা বকেয়া। এত বছর ধরে সরকারি কাজ করে সরকার বদলালেও নিয়ম মেনে টাকা পেয়েছি। কথা ছিল, অডিট করে ১০ জুনের পর পেমেন্ট দেওয়া হবে। কিন্তু জুলাই হয়ে গেল, বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় দুু’হাজার ঠিকাদারের কেউ এক টাকাও পাননি। তবে বসে নেই ইঞ্জিনিয়াররা, তাঁরা পুজোর আগের রাস্তা সংস্কার, আলো ও রং করা নিয়ে ফাইল করে চলেছেন। বস্তি উন্নয়ন নিয়েও একটার পর একটা ফাইল জমা দিচ্ছেন।
কিন্তু টেন্ডার হলেও বকেয়া পেমেন্টের অজুহাত দিয়ে ঠিকাদাররা কেউই অংশ নিচ্ছেন না। স্বভাবতই পুজোর আগের কাজ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। ঠিকাদাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যতক্ষণ পেমেন্ট না হবে ততক্ষণ টেন্ডার ফেলবেন না কেউ। বিশেষ করে কলকাতায় বিভিন্ন জল বা নিকাশির জন্য পিচ খুঁড়ে রাখা নির্মাণ বছর ঘুরে গেলেও ঠিকাদারদের গাফিলতিতে সেই রাস্তা মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আগের সরকার রাজ্যের তরফে ৪০ শতাংশ টাকা ম্যাচিং গ্রান্ট না দেওয়ায় প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা ফেরত চলে গিয়েছে। অথচ ওই খাতে দক্ষিণ কলকাতার চার পাঁচটি বরো এলাকায় প্রায় ৬০ কিমি রাস্তা ঠিকাদারদের মেরামতের জন্য দিলেও মেরামত শুরু না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়ে আছে। বরো ইঞ্জিনিয়াররা ঠিকাদারদের শোকজ করলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছেও বহু ফাইল গিয়ে জমা হয়ে আছে। কিন্তু নানা সরকারি কাজে ব্যস্ততার কারণে সেই ফাইল ছাড়তে পারছেন না কমিশনার। স্বভাবতই ঠিকাদারদের বেঁকে বসায় নানা কাজকর্মের গতি আপাতত কিছুটা শ্লথ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর, স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ ৫ জনের রক্তে লাল হল মাটি!
-
‘বেঁচে আছে তো?’ বেড়াতে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে নিঁখোজ কলকাতার ৬! উৎকণ্ঠায় পরিবার
-
মুহূর্তে ‘জলরাক্ষস’ গ্রাস করল স্ত্রী-পুত্রকে! নেপালের ব্যবসায়ীর দু’চোখে এখনও আতঙ্ক ও বিষাদ
-
ক্যামাক স্ট্রিটে ফের ঝুলল ‘বেআইনি’ হোর্ডিং! ‘যতদূর যেতে হয়, যাব’ পুলিশের সঙ্গে গাজোয়ারির পর হুঁশিয়ারি অভিষেকের
-
মহারাষ্ট্র পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ‘ফাঁস’! ব্যর্থ প্রেমকাহিনিতেই প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি