দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী থাকা ভাইকে নিজেই থেঁতলে খুন করেন দাদা। বাগুইআটি খুনে এমনই তথ্য পুলিশের হাতে। বলরাম রাজবংশী মৃত্যু মামলায় তাঁর দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করল বাগুইআটি থানার পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক কারণ। দীর্ঘদিন ধরে বলরামের চিকিৎসার পিছনে পরিবারের বিপুল টাকা খরচ হচ্ছিল বলে জানান তাঁর দাদা। পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন কৃষ্ণ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক কারণ। দীর্ঘদিন ধরে বলরামের চিকিৎসার পিছনে পরিবারের বিপুল টাকা খরচ হচ্ছিল বলে জানান তাঁর দাদা। পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রবিবার বাগুইআটির রঘুনাথপুরে বাড়ি থেকে বলরাম রাজবংশীর দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে ঘটনাটি লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হলেও তদন্তে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। জানা যায়, ঘটনায় আরও তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। ধৃত কৃষ্ণ রাজবংশীকে সোমবার বারাসাত আদালতে তোলা হবে।
রবিবার ভরদুপুরে হাড়হিম ঘটনা ঘটে বাগুইআটিতে। ঘরে উদ্ধার হওয়া বলরামের কপালে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান করেছিল, ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের উদ্দেশেই যুবককে খুন করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা যাতে গুণাক্ষরেও টের না পান, বাড়ির পোষ্য কুকুরটিকেও পাশের ঘরে আটকে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, রবিবার সকাল ৭ টা নাগাদ কাজের উদ্দেশে মা-বাবা-দাদা সকলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে থাকার মধ্যে ছিলেন ওই শয্যাশায়ী যুবক। আর তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী সারমেয়টি। রবিবারও দুপুরে যুবকের মা বাড়ি ফিরে গেটের তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই দেখেন ছেলের রক্তাক্ত দেহ বিছানা পড়ে। গোটা ঘর লন্ডভন্ড, আলমারি খোলা। পাশের ঘরে আটকে রাখা তাঁদের পোষ্যটিকে। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছিল, বাড়ি থেকে লাখ দুয়েকের মতো নগদ, সোনা-দানা লুট হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর যুবককে কেউ বা কারা খুন করেছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিল পুলিশ। কিন্তু গেটের তালা খুলে ঘরে ঢুকে, খুন করে আবার গেটে তালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টাই তদন্তকারীদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির চাবি ছিল, এমন কেউ কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তেই পুলিশের কাছে বলরামের দাদার-কীর্তি ফাঁস হয় বাগুইআটিতে। ফাঁকা বাড়িতে মা-বাবার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সারমেয়কে এক ঘরে আটকে ভাইকে থেঁতলে খুন করেন তাঁর দাদাই! জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমতায় থাকার সময় অমর হওয়ার কৌশল ফাঁদে রাজারা, কোন কাজে লাগে তা?
-
নাকে-মুখে রক্তের দাগ! নিঠারি কাণ্ডে ‘বেকসুর খালাস’ সুরেন্দ্রর রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবি দাদার
-
ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান
-
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন রমেশ পওয়ার! হতে পারেন নির্বাচকও
-
উনিশের কিশোরী স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা! ধৃত ৭৫-এর জামাত এমপি