CM Suvendu Adhikari

‘গণপতি বাবা, ছটপুজো সনাতনীদের’, গণেশ পুজোর উদ্বোধনে বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ ঘোচালেন মুখ্যমন্ত্রী

সমস্ত বিভেদ ঘুচে 'সনাতনী বাংলা' গড়ার শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৪:২২

options
link
‘গণপতি বাবা, ছটপুজো সনাতনীদের’, গণেশ পুজোর উদ্বোধনে বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ ঘোচালেন মুখ্যমন্ত্রী
গণেশ পুজোর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজস্ব চিত্র

গণেশ পুজোর উদ্বোধন করে বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ ঘোচালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, বাম শাসনের ৩৯ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে ইচ্ছাকৃতভাবে সনাতনী সংস্কৃতির ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে এবার সমস্ত বিভেদ ঘুচে ‘সনাতনী বাংলা’ গড়ার শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

শনিবার সকালে কেষ্টপুরে গণেশ পুজো উদ্বোধনের পর শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সবসময় ভাষা, জাত, উৎসবের নামে বাঙালি, সনাতনীদের বিভাজিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বা কারা ভাবত গণেশ পুজো মহারাষ্ট্রের। মোটেও না। গণপতি বাবা গোটা দেশের সনাতনীদের। তারা চেষ্টা করত মা দুর্গা শুধু কলকাতার। না গোটা দেশের সনাতনীদের। কেউ বা কারা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন ছটপুজো বিহারীদের। মোটেও না আমাদের বাড়ির মা-বোনেরাও সূর্যপ্রণাম করেন। ব্রতপালন করেন। প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিল তুমি বাঙালি, গুজরাটি। আমরা ছাব্বিশে সেই প্রাচীর ভেঙে দিয়েছি। আমরা সকলে সনাতনী, হিন্দুস্তানি।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

চিন্ময় প্রভুর কান্নাকাটির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু আরও বলেন, “আমরা বিগত ৩৪ বছর ধর্মকে আফিম যারা বলেছেন, কমিউনিস্টরা রাজত্ব করেছেন। আর ১৫ বছর গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরি করায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও প্রণবানন্দের ভূমিকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চাই আমরা। আমরা অবিভক্ত বাংলার মানুষ। বিভীষিকাময় দেশভাগ ক্ষতি করেছে। চিন্ময় প্রভুর চোখের জল সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। ভাবছিলাম শ্যামাপ্রসাদ কিংবা প্রণবানন্দের মাধ্যমে যদি ভারতভুক্তি না পেতাম, তবে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হত। আমার নিজের জীবনেও যন্ত্রণা রয়েছে। আমার মাকেও হিন্দু বলে তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে।”

Advertisement

বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দিবে না। পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, সাত্ত্বিকতা ভুলিয়ে দিয়েছিল লাল রাজত্বে তারা দুর্গাপুজো লিখবে না। মহালয়া শুনবে না। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না। তারা প্যান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল শালু লাগিয়ে বসত। দেখবেন আপনারা আমার কথা পরীক্ষা করবেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাবেন না। সেখানে বাংলা তৈরির তত্ত্বের কোনও বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগে বই পাবেন না। কার্ল মার্কস, লেনিনের বই পাবেন। হনুমান চালিশা পাবেন না।’

তৃণমূলকেও তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বলেন, “১৫ বছর প্রথম দিকে না হলেও শেষের দিকে বাংলাকে জামাতিকরণের চেষ্টা হয়েছে। এক বছর বিসর্জনের দিন বদলে দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুজোর সমন্বয় বৈঠকে বলেছিলেন এবছর মহরম আছে। তাই বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে না। আপনি পারেন না। যা পঞ্জিকায় আছে তাই হবে। আমাদের পরম্পরা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। পুজো উদ্বোধন হত পিতৃপক্ষে। এবার আর সেসব হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কাজ সকলকে করতে হবে। নিজের নাম, পরিচয়, ধর্ম, সংস্কার, পরম্পরা – এগুলো যাতে কেউ বদলে দিতে না পারে তাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.