Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Katoa

আঙুলের ইশারা, মুখের ভঙ্গিই ভরসা! মূক-বধিরদের ‘পাঠ’ খুদে ছাত্রী নাসিমার

কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই মূক-বধির সহপাঠীকে ইশারায় পড়া বোঝাচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির নাসিমা খাতুন।

ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৫:৫১

link
ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৫:৫১

options
link
আঙুলের ইশারা, মুখের ভঙ্গিই ভরসা! মূক-বধিরদের ‘পাঠ’ খুদে ছাত্রী নাসিমার zoom
পড়া বোঝাচ্ছে নাসিমা খাতুন। ছবি: জয়ন্ত দাস
Advertisement

হেলেন কেলারের জীবনে অন্ধকার ও নীরবতার জগত ভেঙে আলো এনেছিলেন শিক্ষিকা অ্যান সুলিভান। স্পর্শ আর ইশারার ভাষায় তিনি ধীরে ধীরে হেলেনকে চিনিয়েছিলেন শব্দ ও পৃথিবীকে। কাটোয়ার লোহাপোতা গ্রামের এক খুদে পড়ুয়ার গল্পেও যেন সেই সম্পর্কেরই ছায়া। কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই মূক-বধির সহপাঠীকে ইশারায় পড়া বোঝাচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির নাসিমা খাতুন।

লোহাপোতা প্রাথমিক স্কুলে ১৬৯ জন পড়ুয়া। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচ জন। স্কুলে মূক-বধির পড়ুয়াদের আলাদা ভাবে পড়ানোর জন্য কোনও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই। এই পরিস্থিতিতেই শিক্ষকদের ‘সহকারী’ হয়ে উঠেছে নাসিমা। চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া রাবিয়া খাতুন জন্ম থেকেই মূক ও বধির। নিয়মিত স্কুলে এলেও শিক্ষকের পড়ানো বা নির্দেশ সব সময় বুঝতে পারে না সে। কথা বলেও নিজের কথা জানাতে পারে না। কিন্তু নাসিমার কাছে যেন সেই প্রতিবন্ধকতার কোনও অস্তিত্ব নেই। হাতের আঙুলের ইশারা, মুখের ভঙ্গি এবং নানা সংকেতের মাধ্যমে শিক্ষকের পড়ানো বিষয় রাবিয়াকে বুঝিয়ে দেয় সে। এমনকি ক্লাসে শিক্ষক কী নির্দেশ দিলেন, সেটাও পৌঁছে যায় রাবিয়ার কাছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শিক্ষকরা জানান, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই রাবিয়ার পাশে রয়েছে নাসিমা। টানা তিন বছর ধরে বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে হতে তার ইশারা ও অনুভূতির ভাষা রপ্ত করে ফেলেছে সে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই এমন দক্ষতা অর্জন বিস্মিত করেছে স্কুলের শিক্ষকদেরও। প্রধান শিক্ষক বলরাম চাল বলেন, “স্কুলে ছ’জন বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়া রয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন মূক-বধির। নাসিমা আমাদের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। ওর এই ক্ষমতা সত্যিই আশ্চর্যজনক।”

দুই ছাত্রীর পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। রাবিয়ার বাবা আজিজুল মল্লিক ফেরিওয়ালা। তবু মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করতে চান না। নাসিমার বাবা সাকু সেখ শ্রমিকের কাজ করতেন। এখন বাড়িতেই থাকেন। তার পরিবারও জানত না, মেয়ের মধ্যে এমন বিরল প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে। বন্ধুর পড়াশোনা যাতে থেমে না যায়, সেই দায়িত্বই যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে নাসিমা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.