চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার অ্যান্টিবায়োটিক। যে ওষুধ বহু মানুষকে সুস্থ জীবনে ফেরাচ্ছে, সেই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারও কম হচ্ছে না। দেখা দিচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।
আরও পড়ুন:
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচায় অ্যান্টিবায়োটিক। এগুলো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি থামায়। তবে ভাইরাসজনিত অসুখ, যেমন সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। শ্বাসনালীর সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা, ইউরিন ইনফেকশন- এমন নানা ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দেন। অনেক সময় অপারেশনের আগে সংক্রমণ ঠেকাতেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন:

কিন্তু সমস্যা হল, এই ওষুধ শুধু খারাপ ব্যাকটেরিয়াই নয়, আমাদের শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়াকেও প্রভাবিত করে। বিশেষ করে অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে ডায়রিয়া, বমি বমিভাব বা পেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিকের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ডায়রিয়া
- বমি বমিভাব ও বমি
- অ্যালার্জি
- ফাঙ্গাল সংক্রমণ
- রোদে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়া
ডায়রিয়া হলে কি ওষুধ বন্ধ করবেন?
অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন ডায়রিয়া হলে, অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা সঠিক পদক্ষেপ নয়। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে সংক্রমণ পুরোপুরি সারে না। ফলে পরে আবার ফিরে আসতে পারে। শুধু তাই নয়, এতে ব্যাকটেরিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে ওষুধে কাজ নাও করতে পারে, যাকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।

কখন সতর্ক হবেন?
হালকা ডায়রিয়া অনেক সময়ই সহজেই সামলানো যায়-
- বেশি করে জলপান
- হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া
- চিকিৎসকের পরামর্শে প্রোবায়োটিক খাওয়া
- তবে যদি ডায়রিয়া খুব বেশি হয়, বারবার পাতলা পায়খানা হয়, সঙ্গে জ্বর, পেটব্যথা বা পায়খানায় রক্ত যায়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিজে ডাক্তারি নয়
ডায়রিয়া উপশমে ওভার দ্যা কাউন্টার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় নিজের ডাক্তারির ফল হয় উলটো। মূল সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই যে কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

মনে রাখুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই অ্যান্টিবায়োটিক
- পুরো কোর্স শেষ করুন
- কোনওরকম অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসককে জানান
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান
- প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রোবায়োটিক বা দই খেতে পারেন
- শরীরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখুন
সব মিলিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ডায়রিয়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়। সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সর্বশেষ খবর
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া
-
প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে ফের আন্দোলন, যুবসমাজকে তৈরি থাকতে বলে বিবৃতি ‘আরশোলা’র
-
মীরা ভট্টাচার্যের অসুস্থতা নিয়ে নেটদুনিয়ায় গুজব! আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সন্তান সুচেতনের
-
শহিদ পরিবারকে চাকরি বিলিতেও প্রতারণা তৃণমূল সরকারের! মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন ঋতব্রত