চশমার ঝক্কি এড়িয়ে অনেকেই এখন কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। কারও কাছে তা প্রয়োজন, কারও কাছে আবার সাজের অংশ। কিন্তু লেন্স পরার পর চোখ লাল হয়ে গেলে সেটিকে সবসময় সাধারণ জ্বালা, শুষ্কতা বা অ্যালার্জি বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে লালচে ভাবের সঙ্গে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত জল পড়া বা আলোয় চোখে অস্বস্তি শুরু হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের কথায়, কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীর চোখ লাল হওয়া কখনও কখনও কর্নিয়ার সংক্রমণ বা কেরাটাইটিসের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে লেন্স পরে থাকা অবস্থায় তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
সব লাল চোখ এক নয়
কনট্যাক্ট লেন্স ঠিকমতো ফিট না হলে চোখে ঘর্ষণ ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। লেন্সে কোনও সমস্যা থাকলেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চোখের শুষ্কতা, অ্যালার্জি বা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও চোখ লাল হতে পারে।
তবে লেন্স ব্যবহারের পরিচ্ছন্নতার ভুলও বড় কারণ। নোংরা হাতে লেন্স ধরলে, লেন্সের কেস ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে বা পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স সলিউশন ব্যবহার করলে চোখে জ্বালা ও সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

লালভাবের সঙ্গে এই লক্ষণগুলি থাকলে সতর্ক
চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে যদি ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত জল পড়া, আলো সহ্য না হওয়া বা ক্রমশ বাড়তে থাকা লালচে ভাব ও জ্বালা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি আর সাধারণ অস্বস্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই লক্ষণগুলি কেরাটাইটিস অর্থাৎ কর্নিয়ার প্রদাহ বা সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণে কর্নিয়ায় আলসারের আশঙ্কাও থাকে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চোখ লাল? আপাতত লেন্স নয়
লেন্স পরার পর চোখ লাল হয়ে গেলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত লেন্স খুলে ফেলা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করা নিরাপদ। বিশেষ করে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা আলো সহ্য না হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে নিজের মতো করে আবার লেন্স পরা ঠিক নয়।
চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ না থাকলে লেন্স পরে ঘুমানোও এড়াতে হবে। রাতে লেন্স পরে থাকলে কর্নিয়ায় অক্সিজেন পৌঁছনো কমে যেতে পারে, ফলে চোখের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

লেন্সের যত্নে সামান্য ভুলও নয়
লেন্স ধরার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। নির্দিষ্ট নিয়মে লেন্স পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং লেন্সের কেসও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ সলিউশন ব্যবহার করা যাবে না।
ডিসপোজেবল লেন্সের নির্ধারিত সময়সীমাও মেনে চলা জরুরি। এক মাসের জন্য নির্ধারিত লেন্স হলে তা আরও কয়েক মাস চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে লেন্সে জ্বালা বা সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
ঠান্ডা সেঁক, তবে সব সমস্যার সমাধান নয়
চোখে সামান্য ফোলা বা অস্বস্তি থাকলে পরিষ্কার ঠান্ডা জলে ভেজানো নরম কাপড় চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট আলতোভাবে রাখলে সাময়িক আরাম মিলতে পারে। কিন্তু চোখের সংক্রমণ থাকলে ঠান্ডা সেঁক কোনও চিকিৎসা নয়।
তাই লেন্স পরার পর চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে ব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন, অতিরিক্ত জল পড়া বা আলো সহ্য না হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে ঘরোয়া উপায়ে অপেক্ষা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্ত্রী সুনীতা একা, কোমলকে আগলে গণপতি দর্শনে গোবিন্দা, ভগবানকে সাক্ষী রেখে প্রেমে সিলমোহর!
-
মাঝরাতে কমান্ডো অভিযান যোগীরাজ্যে! এনকাউন্টারে খতম স্ত্রী, পুত্র-সহ ২ পুরোহিত খুনে অভিযুক্ত
-
কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ! রাষ্ট্রসংঘে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই ওয়াক আউট হাভানার
-
শিল্ডে প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের কাঁটা দুই প্রাক্তন, আজ কলকাতা লিগের ট্রফি দেবেন ক্রীড়ামন্ত্রী
-
পুজোর মুখে পাথরশিল্পে ‘লাল সংকেত’! বন্ধের মুখে ১৯৩ ক্রাশার