Heart Disease

স্ট্রেস আর নেশায় কাহিল হার্ট! কীভাবে রেহাই? জানুন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক এখন আর ব্যতিক্রম নয়। ৩০ বা ৪০-এর আগেই অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কেন ত্রিশ-চল্লিশ বা তারও কম বয়স আমাদের ঠেলে দিচ্ছে হার্টের অসুখের দিকে?‌

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৭, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
স্ট্রেস আর নেশায় কাহিল হার্ট! কীভাবে রেহাই? জানুন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ
কম বয়সে বাড়ছে হার্টের অসুখের ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

একটা সময় ভাবা হত হার্টের অসুখ শুধুমাত্র প্রবীণদের সমস্যা। কিন্তু এখন আর নবীন-প্রবীণের ভেদাভেদ নেই। যে কোনও বয়সেই দেখা দিতে পারে হার্টের অসুখ। কেন কম বয়সে বাড়ছে হার্টের ব্যামো? রেহাই কীভাবে? জানালেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ধীমান কাহালি

Advertisement

মানসিক চাপ ও আধুনিক জীবনযাপন
আজকের প্রতিযোগিতামূলক জীবনে চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। কাজ, পড়াশোনা এবং সফল হওয়ার দৌড় অনেককে মানসিকভাবে ক্লান্ত করছে। এই চাপ সামলাতে অনেকে ভুল অভ্যেসে জড়িয়ে পড়েন, যেমন অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ধূমপান, যা ধীরে ধীরে হার্টের ক্ষতি করে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ধূমপান ও তামাকের প্রভাব
তামাক ও ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু ধূমপায়ী নয়, আশপাশের মানুষও পরোক্ষ ধোঁয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পানমশলা বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যও হার্ট ও শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর।

Advertisement
Know causes, risks, and expert tips to prevent heart disease and stay fit.
স্ট্রেস হার্টের অসুখের অন্যতম প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর। ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক ঝুঁকি
পরিবারে কারও হৃদরোগ থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় বংশগত উচ্চ কোলেস্টেরল অল্প বয়সেই ধমনিতে ব্লক তৈরি করে, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও ডায়াবেটিস
শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যেস ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বাড়ায়। এই দুটিই হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

হরমোন থেরাপি
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোন বা কিছু ওষুধ ব্যবহার হৃদযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম, হার্টের গতি ও চাপ বাড়িয়ে ঝুঁকি তৈরি করে।

হাইপারথাইরিজম
হাইপারথাইরিজমের কারণেও তরুণ–তরুণীদের হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে হার্টের মেন আর্টারি ব্লক পর্যন্ত হতে পারে।

Know causes, and expert tips to prevent heart disease and stay healthy.
শুধু প্রবীণরা নয়, কম বয়সেও বাড়ছে ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুধুমাত্র হার্ট অ্যাটাকই নয়, সেরিব্রাল স্ট্রোকও হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ওরাল ক্যাভেটি
ওরাল ক্যাভেটি থেকেও অনেক সময় হার্টের অসুখের সূত্রপাত হয়। কোলেস্টেরল নর্মাল, ডায়াবেটিস নেই, রক্তচাপ স্বাভাবিক;‌ কিন্তু ৩০, ৩৫ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাক! সব শেষে দেখা গেল হার্ট অ্যাটাকের কারণ ওরাল ক্যাভেটি।‌

কায়িক পরিশ্রমের অভাব
তরুণ-তরুণীদের আজ কায়িক পরিশ্রমে রয়েছে অনীহা। এই কায়িক পরিশ্রম বিমুখতা আমাদের ঠেলে দিচ্ছে হার্টের অসুখের দিকে। শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ৪-৫ কিমি হাঁটতেই হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ।

ইনফ্ল্যামেশন
শরীরে যদি কোনও ক্রনিক প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন থাকে, তা হলে তা থেকেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

Know causes, risks, and expert tips to prevent heart disease
হার্টকে সুস্থ রাখতে ডায়েটের রয়েছে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

বাঁচার উপায়

  • জাঙ্ক ফুড, তেল মশলা, ডিপ ফ্রাই এড়িয়ে চলতে হবে। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার খাবেন না। একই তেল বারবার গরম করার ফলে তাতে যে ট্রান্সফ্যাট উৎপন্ন হয়, তা হার্টের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর।
  • হার্টের পক্ষে সবচেয়ে ভালো অলিভ অয়েল। রিফাইনড ময়দা, চাল, চিনি এগুলো খাওয়া চলবে না। বদলে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ব্রাউন চাল, আটা, ফলমূল, শাকসবজি অর্থাৎ যে সব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে।
  • ওষুধ খেয়ে বা শরীরচর্চা করে বেশিদিন বাঁচা বা দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। নিজেকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখতে প্রতিদিনকার খাওয়াদাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শস্যজাতীয় জিনিস বেশি করে খান।
  • সুষম খাবার ক্যালরি মেপে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পাশাপাশি জরুরি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
Know causes, risks, and expert tips to prevent heart disease and stay healthy.
রোজ কমপক্ষে দশ হাজার স্টেপ। ছবি: সংগৃহীত
  • ডায়াবেটিস থাকুক বা না থাকুক খাবারে চিনি বা মিষ্টির পরিমাণ কমাতে হবে। কোনও সাদা জিনিস ভালো না। যেমন চিনি, ময়দা, রসগোল্লা, সন্দেশ।
    নিয়মিত কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে।
  • সব রকমের নেশা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • জরুরি নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নিজেকে চাপমুক্ত বা রিল্যাক্স রাখতে মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারেন।

খুব কঠিন নয়, সামান্য কটা জিনিস মেনে চললেই আমরা হার্টকে সুস্থ রাখতে পারব এবং কম বয়সে হার্ট অ্যাটক এড়াতে পারব।‌

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.