শরীরের প্রদাহ কমাতে ওষুধ নয়, এই সহজ ৭ ব্যায়ামেই হবে ম্যাজিক!
শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন প্রথমে তেমন বোঝা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। ক্লান্তি, সন্ধিস্থলে ব্যথা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরের প্রদাহ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম এই কাজে বিশেষভাবে কার্যকর এবং শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা নেয়।
হাঁটা এমন একটি সহজ ব্যায়াম যা প্রায় সব বয়সের মানুষই করতে পারেন। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর প্রদাহজনিত উপাদান বা টক্সিন দ্রুত বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। এতে হার্ট ভালো থাকে এবং শরীর বেশি অক্সিজেন পায়। আর সকালে হাঁটলে মানসিক চাপও কমে, যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নিয়মিত হাঁটা শরীরকে রাখে সক্রিয়।
আরও পড়ুন:
সাঁতার শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি লো-ইমপ্যাক্ট ব্যায়াম। জলের ভাসমানতা শরীরের ওজনের চাপ কমিয়ে দেয়, ফলে হাঁটু বা কোমরের উপর বাড়তি চাপ পড়ে না। যাঁদের সন্ধিস্থলের ব্যথা আছে, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। সাঁতার কাটলে পুরো শরীরের পেশি একসঙ্গে কাজ করে, হার্ট ভালো থাকে এবং প্রদাহ কমানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে শরীরে আনে স্বস্তি।
যোগব্যায়াম শরীর ও মনের জন্য একসঙ্গে কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর এবং স্ট্রেস কমলে শরীরের প্রদাহও কমে। বিভিন্ন আসন শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়, পেশির টান কমায় এবং রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে। শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছু সময় যোগব্যায়াম করলে শরীর ও মন দুয়েরই ভারসাম্যে বজায় থাকে।
স্ট্রেন্থ ট্রেনিং শুধু পেশি গঠনের জন্য নয়, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কার্যকর। স্কোয়াট, লাঞ্জ, পুশ-আপ বা হালকা ডাম্বেল ব্যবহার করে ব্যায়াম করলে শরীরে পেশির পরিমাণ বাড়ে এবং অতিরিক্ত ফ্যাট কমে। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি প্রদাহ বাড়াতে পারে, তাই পেশি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সপ্তাহে দু থেকে চারদিন এই ধরনের ব্যায়াম করলে সন্ধিস্থল শক্তিশালী হয় এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও উন্নত হয়।
আরও পড়ুন:
হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভেল ট্রেনিং স্বল্প সময়ে বেশি উপকার দেয়। এতে অল্প সময়ের জন্য দ্রুত ব্যায়াম এবং তার মাঝে বিশ্রামের পর্যায় থাকে। এই ধরনের ব্যায়াম শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। তবে এটি সঠিকভাবে করা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত করলে উলটে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। সপ্তাহে দু থেকে তিন দিন ১৫-২০ মিনিট হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভেল ট্রেনিংই যথেষ্ট।
তাই চি, একটি প্রাচীন চীনা ব্যায়াম, ধীরগতির নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ও গভীর মনোযোগের ব্যায়াম। এটি শরীরকে নমনীয় রাখে, ভারসাম্য উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। বিশেষ করে যাঁদের বয়স বেশি বা উচ্চমাত্রায় ব্যায়ামে অসুবিধা হয়, তাঁদের জন্য এটি দারুণ উপকারী। ধীরে ধীরে শরীরচর্চার মাধ্যমে এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত শরীরচর্চায় শরীর ও মন দুই স্থিতিশীল থাকে।