প্রবল ভালোবাসেন বাড়ির বাগানে ফুলগাছ করতে। বারান্দার সুদৃশ্য টব যখন ফুলে ভরে ওঠে, মুহূর্তে যেন আনন্দের উচ্ছ্বাস অনুভব করেন। ঘরের পড়ার টেবিলেও সাজিয়ে রাখতে ভালোবাসেন একরত্তি পাতাবাহার। কিন্তু বাধ সাধে ব্যস্ত জীবন! গাছ কেবল মাটিতে পুঁতে দিলেই তো আর দায়িত্ব মেটে না। সুষ্ঠুভাবে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে, তার নিয়মিত যত্ন করতে লাগে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল-আলো লাগাতে হয়, শুকনো পাতা ঝেড়ে দিতে হয়। কোনও অংশে পচন ধরলে, তা ছেঁটে দিতে হয় দ্রুত।
আরও পড়ুন:
কিন্তু আপনারও যে দু-হাত বাঁধা! অফিসের ব্যস্ত স্কেডিউল হোক, বা সারাদিনের ঘরের কাজ, এসব সামলে যে গাছেদের সময় দেবেন, তেমন বাড়তি সময় কোথায়? আর তাছাড়া সামনেই গরমের ছুটি। কয়েকদিনের ছুটি পেয়ে কাছেপিঠে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান। সেই সমস্ত সময় কে দেখবে গাছেদের? সন্তানসম গাছেদের দায়িত্ব ভরসা করে কারও ওপরেই ছেড়ে রাখা যায় না। তাহলে কি বেড়াতে যেতে হলে জলাঞ্জলি দিতে হবে বাগান করার শখ? আজ্ঞে না! বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রয়েছে এমন এক ঘরোয়া টোটকা, যা জানা থাকলেই কেল্লা ফতে।

এই অভিনব পদ্ধতির নাম খড়ের ‘মালচিং’ (Straw mulching)। ‘মালচিং’ করার অর্থ, খড় দিয়ে এমন এক আস্তরণ তৈরি করা, যা খানিক কম্বলের মতো কাজ করে। কারও সাহায্য ছাড়া সহজেই এই আস্তরণ তৈরি করা যায়।
১। গাছের চারদিকে বিছিয়ে দিন খড়ের টুকরো। খেয়াল রাখুন, প্রতিটি টুকরোই যেন অন্ততপক্ষে ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা তালাবন্দি হয়ে থাকবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। সহজে মাটি শুকিয়ে যাবে না। আর মাটিতে আগাছা জন্মানোও প্রতিরোধ করবে।
২। যে-আবহাওয়ায় রয়েছেন, সেই অনুযায়ী ঘনত্ব রাখুন ‘মালচিং’-এর। যদি বারেবারে বৃষ্টি হয়, বা হাওয়ায় জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেশি থাকে, তবে মালচিং-এর ঘনত্ব কম রাখুন। নয়তো খড় জল লেগে পচে যেতে পারে। আর গাছের ভালো হওয়ার বদলে বেধে যেতে পারে বিপদ। বাতাস শুষ্ক হলে, মাটি ভিজিয়ে, খড়ের ঘন পরত বিছিয়ে দিন তার ওপর।

৩। মালচিং-এ কাজ অবশ্যই হবে, তবে কোন গাছের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন, সে বিষয়েও সচেতন হওয়া জরুরি। সবজির গাছ, যেমন, টমেটো, ক্যাপসিকাম, স্কোয়াশ প্রভৃতির ক্ষেত্রে খুব সহজেই কাজে দেয় এই পদ্ধতি। সাধারণ ফুলগাছের ক্ষেত্রে চিত্র প্রায় একই। কিন্তু শৌখিন কিছু গাছ, যেমন, ল্যাভেন্ডার রোজমেরি প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত সংবেদনশীল। তাছাড়া এ ধরনের গাছে খুব বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এমন গাছেদের ক্ষেত্রে মালচিং-এর ফলে যদি গোড়ায় জল জমে যায়, তবে তা গাছকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শুনতে আপাতভাবে জটিল বলে মনে হলেও অত্যন্ত সহজেই খড় দিয়ে মালচিং করা যায় বাড়ি বসেই। আর গাছের জন্য ঠিক কেমন খড়ের ‘কম্বল’ মানানসই, তা হাতেকলমে করলে তবেই বুঝতে সুবিধা হয়। গরমের ছুটির আগেই একবার তা চেষ্টা করেই দেখুন না! কাজে দিলে, আজীবনের ব্যস্ত দিনলিপির মাঝেই দিব্যি শখপূরণ হবে মনের মতো বাগান করার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের এনকাউন্টার যোগীরাজ্যে, পুলিশের গুলিতে খতম নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত
-
অ্যাকশনের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন শমীক, এবার সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটছে রাজ্য বিজেপি
-
চা-চক্রের গভীর ব্যঞ্জনা, উষ্ণ জীবনবোধের পানীয়
-
‘এত চুরি করেছেন, চোর শুনতেই হবে!’ মমতার হেনস্তাকে ‘জনরোষ’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী
-
দ্বিতীয় দিন ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ভবানীভবনে, ‘আত্মগোপন’ নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক