Sonajhuri

সোনাঝুরিতে কাটা পড়ছে একের পর এক গাছ! ‘আত্মহত্যার শামিল’, বলছেন ‘ব্যথিত’ সুভাষ দত্ত

পরিবেশ আদালতে এনিয়ে মামলা চলছে। তবে দীর্ঘদিন আদালত নিষ্ক্রিয় বলেও অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ।

Advertisement
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: মে ১২, ২০২৬, ১৪:৩৭

options
link
সোনাঝুরিতে কাটা পড়ছে একের পর এক গাছ! ‘আত্মহত্যার শামিল’, বলছেন ‘ব্যথিত’ সুভাষ দত্ত
সোনাঝুরি জঙ্গলে গাছ কাটা দেখে 'ব্যথিত' পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। নিজস্ব ছবি

শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরিতে হাট বসায় আইনভঙ্গের অভিযোগে বহু আগেই মামলা হয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। মামলা চলাকালীন সোনাঝুরির জঙ্গলে নতুন করে গাছ কাটা নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সোনাঝুরির জঙ্গল ঘুরে দেখে ‘ব্যথিত’ বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও মামলাকারী সুভাষ দত্ত। মঙ্গলবার তিনি সদলবলে জঙ্গল ঘুরে দেখেন। যত্রতত্র শুধু কাটা গাছের ডাল, সবুজ বহু দূর। এসব দেখে পরিবেশ আদালতের কাজকর্ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন সুভাষবাবু। কেন দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের বেঞ্চটি নিষ্ক্রিয়, সেই প্রশ্ন তোলেন। এও জানান, এই মুহূর্তে যা অবস্থা সোনাঝুরির, সেসব প্রমাণ তিনি তুলে ধরবেন আদালতে। ফের আবেদন করবেন, দ্রুত এখানে যাতে গাছ কাটা বন্ধ হোক, সে বিষয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করতে হবে।

Advertisement

আসলে সোনাঝুরির যে অংশজুড়ে হাট বসে, তা বনদপ্তরের অধীনে। এখানে হাট বসা বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে আগেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। কিন্তু কলকাতায় পরিবেশ আদালতের যে বেঞ্চ রয়েছে, সেখানে বিচারকের অভাবে নিয়মিত শুনানি হয় না বলে অভিযোগ তাঁর। সেই কারণে মামলা অগ্রগতি নেই। এদিকে, তার মাঝেই দিনের পর দিন সোনাঝুরিতে হাট বসছে, রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। মঙ্গলবার সেখানকার পরিস্থিতি আরেকবার খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মামলাকারী সুভাষ দত্ত। সরেজমিনে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, সমস্যার সমাধান দূর অস্ত, প্রায় নেড়া সোনাঝুরি দেখে তিনি ‘ব্যথিত’।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
সোনাঝুরির জঙ্গল পরিদর্শনে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। নিজস্ব ছবি

সুভাষ দত্তর কথায়, ‘‘এখানে শুধু দেখছি, একের পর এক গাছ কাটা হয়ে গিয়েছে। এমন বেআইনি কাজ চলতে থাকলে সোনাঝুরি জঙ্গলটাই একদিন হাওয়া হয়ে যাবে। এটা আত্মহত্যার শামিল। জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু পরিবেশ নিয়ে তো কোনও রাজনৈতিক দলেরই কোনও মাথাব্যথা নেই। তাই কেন কলকাতায় পরিবেশ আদালতের কাজ ঠিকমতো হয় না, কেন বিচারকের অভাব, এসব নিয়ে কেউ সোচ্চার নয়। আর বনদপ্তর তো তুলে দেওয়ার মতো অবস্থা। কেন গাছ কাটা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে এতদিন বনদপ্তরের উত্তর ছিল, তারা কিছু জানে না। তাহলে জানেটা কে? এমন দপ্তর থাকার চেয়ে না থাকা ভালো। অবশ্য এখন সরকার বদল হয়েছে। ফলে এখন দপ্তর কীভাবে চলবে, জানা নেই। আমি সরাসরি আদালতে এনিয়ে আবারও সরব হব। এসব ছবি দেখিয়ে আবেদন করব, যাতে অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ হয়, তার নির্দেশ দেওয়ার জন্য।” সোনাঝুরির হাট নিয়ে নানা সময়ে নানা জটিলতা তৈরি হলেও হাট চলছেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, সোনাঝুরিতে সোনাঝুরি গাছই যদি না থাকে, তাহলে নামমাহাত্ম্যই সংকটের মুখে পড়বে।

Advertisement
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.