Inter Kashi

হাজারও সমস্যা সামলে প্রথমবার আইএসএলে, হাবাসের মগজাস্ত্রই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইন্টার কাশীকে

উত্তরপ্রদেশে একমাত্র পেশাদার ফুটবল ক্লাব, ইন্টার কাশী। কিন্তু মাচ খেলার জন্য কোনও ফুটবল স্টেডিয়াম নেই। ফলে অন্য কোনও রাজ্যে ম্যাচ খেলা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। আইএসএলে ১৩টি ম্যাচই এই মরশুমে ইন্টার কাশীর জন্য অ্যাওয়ে ম্যাচ।

Advertisement
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১৩:৪০

options
link
হাজারও সমস্যা সামলে প্রথমবার আইএসএলে, হাবাসের মগজাস্ত্রই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইন্টার কাশীকে
আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ফাইল ছবি

আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেখানে ড্যাং ড্যাং করতে করতে আইএসএলে খেলার কথা, সেখানে শুরু থেকেই অশান্তি। শুরুতে ফেডারেশনের দৌলতে চার্চিলের সঙ্গে ঝামেলা। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি আইএসএল খেলার কথা থাকলেও ফেডারেশন শুরুতে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দিল চার্চিল ব্রাদার্সকে। ফলে চ্যাম্পিয়ন হয়েও আইএসএল খেলার সম্ভাবনা তখন বিশ বাঁও জলে। শেষে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ট্রাইবুনাল ‘ক্যাস’-এর শরণাপন্ন হয় ইন্টার কাশী। শেষ পর্যন্ত ক্যাস-এর নির্দেশে ইন্টার কাশীকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন যোষণা করতে বাধ্য হয় ফেডারেশন। যাও বা আইএসএলে খেলার সুযোগ এল, কিন্তু এই মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ হবে কি না, তা নিয়েই নানা টালবাহানা। সেপ্টেম্বর থেকে যে আইএসএল শুরু হওয়ার কথা, সেখানে আইএসএল শুরু হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেটাও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের হস্তক্ষেপে। ফলে একটা দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টার কাশী কর্তারা বুঝতেই পারছিলেন না, এই মরশুমের আইএসএলের জন্য আদৌ দল গড়তে হবে তো। শেষ পর্যন্ত যখন সরকারি ভাবে আইএসএলের কথা ঘোষণ হল, তখন আইএসএল শুরু হতে হাতে আর একমাসও নেই। ফলে দ্রুততার সঙ্গে কোনওমতে দল গড়ে আইএসএলে নেমে পড়তে হচ্ছে ইন্টার কাশীকে।

Advertisement

কবে আইএসএল হবে, যখন কিছুই ঠিক হয়নি, তখনও নিয়ম করে প্র্যাকটিস করে যাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। ফলে স্পেনে বসে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন কোচ হাবাস। বারবার করে ইন্টার কাশীর কর্তাদের কাছে জানতে চাইছিলেন, কবে থেকে দলবল নিয়ে প্র্যাকটিসে নামতে পারবেন তিনি। একটু বেশি সময় ধরে আইএসএলের প্রস্তুতি নিতে না পেরে রীতিমতো বিরক্ত হচ্ছিলেন হাবাস। অবশেষে যখন প্র্যাকটিসে নামলেন, আইএসএলের ম্যাচ খেলার জন্য ইন্টার কাশী কোচের হাতে তখন মাত্র ১৯ দিন সময়। সঙ্গে হাতে গতবারের মাত্র ১২ জন ফুটবলার। যার মধ্যে আবার দু’জন মাত্র বিদেশি, স্পেনের মারিও বার্কো এবং ডেভিড হুমনে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ইন্টার কাশী কর্তারা দ্রুততার সঙ্গে ঠিক করেন, এই মরশুমে ২৬ জনের দল গড়া হবে। গতবারের ১২ জন ফুটবলার বাদ দিলে এই মরশুমে নিতে হবে আরও ১৪ জন ফুটবলার। যেরকম ভাবনা সেরকম কাজ। দ্রুততার সঙ্গে আরও ৪ জন বিদেশি ফুটবলার সহ মোট ২৬ জন ফুটবলারকে সই করিয়ে নিয়েছে ইন্টার কাশী। চেষ্টা করা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে খেলা ফুটবলারকে নিতে হবে। কারণ প্রস্তুতির জন্য বিশেষ সময় পাওয়া যাবে না। প্রবীর দাসকে নেওয়া হয়েছে, মুম্বই থেকে। নীশু কুমার যোগ দিয়েছেন, জামশেদপুর থেকে। নতুন চার বিদেশি হলেন- আলফ্রেড মোয়া, লুই ক্যাম্পোস, সার্জিও পার্তো, এবং নওরিস। কিন্তু প্র্যাকটিস হবে কোথায়?

Advertisement

ইন্টার কাশী কর্তারা দ্রুততার সঙ্গে ঠিক করেন, এই মরশুমে ২৬ জনের দল গড়া হবে। গতবারের ১২ জন ফুটবলার বাদ দিলে এই মরশুমে নিতে হবে আরও ১৪ জন ফুটবলার। দ্রুততার সঙ্গে আরও ৪ জন বিদেশি ফুটবলার সহ মোট ২৬ জন ফুটবলারকে সই করিয়ে নিয়েছে ইন্টার কাশী।

পুরো উত্তরপ্রদেশে একমাত্র পেশাদার ফুটবল ক্লাব, ইন্টার কাশী। কিন্তু মাচ খেলার জন্য কোনও ফুটবল স্টেডিয়াম নেই। ফলে অন্য কোনও রাজ্যে ম্যাচ খেলা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। প্রথমে ভাবনা ছিল, বাংলা থেকে ম্যাচ খেলবে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান-মহামেডানকে ম্যাচের জায়গা করে দিতেই সমস্যা হচ্ছে। তার উপর আবার ইন্টার কাশী। ফলে কাশীর এই দলকে প্র্যাকটিস করতে হচ্ছে চেন্নাইতে এফসি মাদ্রাজ ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। কিন্তু কোথায় হবে হোম গ্রাউন্ড এখনও ঠিক করতে পারেনি ইন্টার কাশী। ক্লাবের সভাপতি বঙ্গ সন্তান পৃথ্বীজিৎ দাস বলছিলেন, “হোম গ্রাউন্ডের জন্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, জামশেদপুর তিন জায়গাতেই চেষ্টা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যে জায়গা পাব, সেটাই হোম গ্রাউন্ড করার জন্য সংগঠকদের বলা হবে।”

Antonio Lopez Habas is the main strength of Inter Kashi in upcoming ISL
আই লিগ জয়ী ইন্টার কাশী। ফাইল ছবি

আইএসএলে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সফল কোচ হাবাস। তিনিই ইন্টার কাশীর দায়িত্বে। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশা তো একটু বাড়বেই। কিন্তু মাঠের অভাবে কাশীর সমর্থকদের সামনে খেলার সুযোগই পাওয়া যাবে না, কিছুটা হতাশার সঙ্গেই বলছিলেন পৃথ্বীজিৎ। ফলে আইএসএলে ১৩টি ম্যাচই এই মরশুমে ইন্টার কাশীর জন্য অ্যাওয়ে ম্যাচ। তাহলে এই মরশুমে লক্ষ্য কী? কারণ, ক্লাবগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবনমন বন্ধ করার দাবি জানালেও, সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কিছুই এখনও জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে দল গড়ে কি অবনমনের চিন্তা থাকতে পারে কাশীর জন্য? পৃথ্বীজিৎ বললেন, “প্রথম মরশুমে ভাঙা দলে হয়তো চ্যাম্পিয়ন হতে পারব না। কিন্তু প্রথম ছয়-সাতের মধ্যে অবশ্যই থাকার চেষ্টা করব। কারণ, আমাদের কোচের নাম- হাবাস।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Inter Kashi (@interkashi)

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.