Lebanon War

ক্রিকেটই বাঁচার মন্ত্র! যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাইশ গজে একই দলে ভারত-পাকিস্তানের পরিযায়ী শ্রমিকরা

বেইরুটে বোমা-গুলির শব্দের মধ্যেও ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মেতে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেটাই তাঁদের বাঁচার 'স্পিরিট'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১৮:৩৫

options
link
ক্রিকেটই বাঁচার মন্ত্র! যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাইশ গজে একই দলে ভারত-পাকিস্তানের পরিযায়ী শ্রমিকরা
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

যুদ্ধ (War) সব কিছু থামিয়ে দিতে পারে! গুলি-বোমার শব্দ, বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় ঢাকে সাধারণ মানুষের জীবন। কিন্তু বেঁচে থাকার, ভালো থাকার আর্তি কি এত সহজে হারতে পারে? যুদ্ধের অন্ধকারকে ভেদ করে আসে জীবনের আলো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য আটকে পড়া উপমহাদেশীয় মানুষদের বাঁচার মন্ত্র কী? উত্তর হল ক্রিকেট। লেবাননের (Lebanon) বেইরুটে বোমা-গুলির শব্দের মধ্যেও ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মেতে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেটাই তাঁদের বাঁচার ‘স্পিরিট’।

Advertisement

প্রতি সপ্তাহের রবিবার বেইরুটের আর্চাফিয়েহ এলাকার পার্কিং লট একটা ক্রিকেট মাঠে পরিণত হয়ে যায়। মাটিতে টেনিস বলের শব্দ, ব্যাটের ঠিক মাঝখান দিয়ে খেলার শব্দ- এসব থেকে একটু দূরে কান পাতলেই শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। হয়তো কয়েক কিলোমিটার দূরে ইজরায়েলি বোমায় বাড়ি, হাসপাতাল কিংবা কোনও স্কুল ধ্বংস হয়ে গেল। কিন্তু তাতে ক্রিকেট থামে না। ভারত-পাকিস্তান এমনিতে ‘শত্রু।’ কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে খেলতে থাকেন দুই দেশের পরিযায়ী শ্রমিকরা। সঙ্গে আছেন শ্রীলঙ্কার মানুষজনও।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রীতিমতো আটঘাট বেঁধে মাঠে নামেন ক্রিকেটাররা। জার্সি পরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন তাঁরা। ৪২ বছর বয়সি মজিদ সাট্টি ‘১১ ব্রাদার্স’ দলের হয়ে খেলেন। যেটা ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসছে। লেবাননের মানুষ এই খেলাটার সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন। তাঁরাও নতুন খেলাটা উপভোগ করেন। যেহেতু আর্চাফিয়েহ খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা, তাই এই অঞ্চলে খুব একটা যুদ্ধের প্রভাব পড়ে না। মূলত লেবাননের শিয়া প্রভাবিত অঞ্চলগুলি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে ইস্টার রবিবারে আর্চাফিয়েহ থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা পথের দূরত্বে ইজরায়েলি আক্রমণে ৩৯ জন নিহত হন।

Advertisement
Lebanon, destroyed in war, finds calm in cricket
বেইরুটে ক্রিকেট। ছবি: সংগৃহীত

তখন ঠিক কী পরিস্থিতি হয়েছিল আর্চাফিয়েহর ক্রিকেট মাঠে? লেবাননের এক সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তানি আহমেদ বলেন, “আমরা আর কী করতাম? সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলে বাড়ি চলে গেলাম।” ক্রিকেট নিয়ে এতটাই নিশ্চিন্ত তাঁরা। অনেকেই লেবানন হয়ে ইউরোপে যেতে চেয়েছিলেন। টাকার জন্য আটকে পড়েছেন। যেমন ৫৩ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কার সুগত প্রিয়ন্ত ফার্নান্দো। ৩০ বছর ধরে লেবাননেই আছেন। তিন-চারটে যুদ্ধ দেখেছেন। কীভাবে সাহস-শক্তি জোগাড় করেন? ফার্নান্দোর উত্তর- ক্রিকেট। তিনি বলেন, “যদি ক্রিকেট না থাকত, আর রবিবারে ছুটি না থাকত, তাহলে আমি এখানে ৩০ বছর থাকতাম না। এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে আমরা কিছুটা শক্তি ও স্বাধীনতা পাই।” যুদ্ধ চলুক, তো কী হয়েছে? জীবন থামে না। আহমেদ-ফার্নান্দোরা বলছেন, ‘ক্রিকেট কখনও থামে না।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.