Lalit Modi

আইপিএলের সাফল্যের নেপথ্যে কে? তরজার মাঝেই গোয়েঙ্কাকে ‘ভাঁড়’ বলে কটাক্ষ ললিত মোদির

বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি জয় শাহর 'দূরদর্শিতা'কেই লিগের বর্তমান উচ্চতায় পৌঁছনোর মূল কারণ হিসাবে তুলে ধরেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। আর তাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইপিএলের প্রথম চেয়ারম্যান ললিত মোদি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১৪:২৮

options
link
আইপিএলের সাফল্যের নেপথ্যে কে? তরজার মাঝেই গোয়েঙ্কাকে ‘ভাঁড়’ বলে কটাক্ষ ললিত মোদির

আইপিএলের সাফল্যের নেপথ্য কারিগর কে, এই প্রশ্নে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। তিনি বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি জয় শাহর ‘দূরদর্শিতা’কেই লিগের বর্তমান উচ্চতায় পৌঁছনোর মূল কারণ হিসাবে তুলে ধরেন। আর তাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইপিএলের প্রথম চেয়ারম্যান ললিত মোদি (Lalit Modi)। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে মোদির কটাক্ষ, ‘মনে হয় তাঁর স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে। এই মডেলের ভাবনা কার, সেটা বেমালুম ভুলে গিয়েছেন! উনি মনে হয় নিজের জগতে আছেন। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা একটা ভাঁড়। ওঁর ভাই হর্ষবর্ধন গোয়েঙ্কা আসল ক্রিকেটপ্রেমী। কিন্তু এই ভাঁড় মনে করছেন একটা টুইটেই ইতিহাস বদলে ফেলা যাবে। এক্কেবারে হিতাহিত শূন্য।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এর আগে গোয়েঙ্কা অবশ্য অন্য সুরে কথা বলেছেন। রাজস্থান রয়্যালস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু রেকর্ড দামে বিক্রি ঘয়ে যাওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে লখনউ সুপারজায়ান্টসের কর্ণধার লেখেন, ‘২০০৮ সালে প্রায় ২৭০ কোটিতে কেনা রাজস্থান বিক্রি হল ১৫ হাজার কোটিরও বেশি টাকায়। ৪৮৫ কোটির আরসিবি ১৬,৬০০ কোটিতে। যেভাবে সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্ব সাজানো হয়েছে, যেভাবে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, তাতেই বড় ব্র্যান্ডগুলি আস্থা পেয়েছে। এই ভিত্তি তৈরিতে জয় শাহর ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর অন্যতম কারণ জয় শাহর দূরদর্শিতা।’ উল্লেখ্য, বিজয় মালিয়ার কেনা আরসিবি’র মূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৭ গুণ।

Advertisement

তবে এই সাফল্যের শিকড় আরও গভীরে। শূন্য দশকের (২০০০) গোড়ার দিকে শহরভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগের ভাবনা প্রথম উঠে আসে। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ক্রিকেট প্রশাসনের বাইরের মানুষ হয়েও ললিত মোদি সেই ধারণাকে সামনে আনেন। পরে শরদ পওয়ারের সমর্থনে ক্রিকেট প্রশাসনে ঢুকে এই লিগ বাস্তবায়নের পথে এগোন। এদিকে সুভাষ চন্দ্রর হাত ধরে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এই লিগ বিসিসিআইয়ের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। সেই চাপেই বিসিসিআই এগিয়ে আসে। তারপরেই জন্ম নেয় আইপিএল। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়, বিসিসিআই এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল উভয়ের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। একই বছর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় টিম ইন্ডিয়া। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ভারতে যে জয়প্রিয়তা পাবে, সেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল।

প্রথমে সংশয় থাকলেও, প্রথম নিলামেই আটটি দল বিক্রি হয়। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএল। কিন্তু তার সাফল্যের আসল কৃতিত্ব কার, সেই প্রশ্নেই এখন নতুন করে জোর বিতর্ক। এই আবহে গোয়েঙ্কা কৃতিত্ব দিয়েছেন জয় শাহকে। যা হয়তো হজম হয়নি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ‘নেপথ্য মস্তিষ্ক’ হিসাবে পরিচিত ললিত মোদির। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। কর ফাঁকি, অর্থ পাচার ও আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব বরাদ্দে কারসাজির অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দাবি করেছিল, ২০০৯ সালের সম্প্রচার স্বত্বে অনিয়ম করে ১২৫ কোটিরও বেশি ঘুষ নেন মোদি। কিন্তু সেই ঘটনার ১৭ বছর পরেও কার দূরদৃষ্টিতে আইপিএল এতদূর এল, তা নিয়ে চর্চা অব্যাহত। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.