দশ বছর পর ভারতে ফিরেই কাজ শুরু করে দিলেন করিম বেঞ্চারিফা। রবিরার থেকে শুরু হচ্ছে কেরলের পেশাদার লিগ। আর সেখানেই মালাপ্পুরম এফসির কোচের দায়িত্বে করিম। সেভাবে বলতে গেলে ভারতীয় ফুটবলে শুরু হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস।
আরও পড়ুন:
আজ থেকে ১৭ বছর আগে চার্চিল ব্রাদার্সের হাত ধরে ভারতীয় ফুটবলে পা দিয়েছিলেন এই মরোক্কান কোচ। প্রথম দফায় ছিলেন টানা ৯ বছর। যা এখনকার কোনও বিদেশি কোচ ভাবতেই পারেন না। চার্চিল ব্রাদার্স, মোহনবাগান, সালগাঁওকর, পুণে এফসি-তে শুধু কোচিং করাননি। সাফল্যও এনে দিয়েছেন একাধিক। চার্চিলের হয়ে জাতীয় লিগ যেমন জয় করেছেন, মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগে রানার্স। জিতেছেন সুপার কাপ, ফেডারেশন কাপ। স্বাভাবিক কারণেই টানা ৯ বছর ভারতীয় ফুটবলে কোচ হিসাবে টিকে গিয়েছেন তিনি।
তবে শুধু ভারত নয়। মরক্কোর বাইরে মালটা, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা বিভিন্ন দেশে কোচিং করিয়েছেন তিনি। এই কিছুদিন আগেও মরক্কোর সিনিয়র মহিলা জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনি। সহকারী কোচ ছিলেন মরক্কোর অনূর্ধ-২৩ জাতীয় দলেরও। কোচিং করিয়েছেন মরক্কোর জাতীয় লিগের ক্লাবেও। এ হেন প্রোফাইল যুক্ত কোচের চাকরির অভাব হবে না বলাই বাহুল্য। কিন্তু মরক্কো ছেড়ে ফের ভারতীয় ফুটবলে কেন? যেখানে মরক্কো এই মুহূর্তে বিশ্বফুটবলের অন্যতম পাওয়ার হাউস।

কেরল থেকে ফোনে করিম বললেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবলেও তো আমার অভিজ্ঞতা কম নয়। আর কোচিং কেরিয়ারে আমি কোনও দিন এক দেশে আবদ্ধ থাকিনি। তবে ভারতের বাইরে থাকলেও মাঝেমধ্যেই সময় পেলে আইএসএলের ম্যাচ দেখেছি। ডার্বি কখনও মিস করিনি। ফলে ভারতীয় ফুটবলে ফিরে আসাটা আমার জন্য খুব একটা নতুন কিছু নয়। পাশাপাশি আরেকটা কথা বলি। বিভিন্ন দেশে কোচিং করিয়ে দেখেছি, এখানকার সমর্থকরাই শুধু নয়। আমার কোচিংয়ে ফুটবলাররা সব সময় জেতার তীব্র মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। বিশ্বের অনেক দেশে কিন্তু ফুটবলারদের মধ্যে জেতার এই তীব্র খিদে অনেক সময় লক্ষ্য করিনি। মোহনবাগানে আমার কোচিংয়ে যখন বাইচুং-ব্যারেটো খেলেছে, সেই মরশুমটা একবার মনে করুন।’’
মরক্কোর এই ফুটবল বিপ্লবটা কি শুধুই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বংশোদ্ভূত মরক্কোর ফুটবলারদের জন্যই সম্ভব হয়েছে? করিম অবশ্য মানলেন না শুধুই বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জন্যই বদলে গিয়েছে মরক্কোর ফুটবল। বলছিলেন, ‘‘মরক্কোর রাজা ভীষণভাবে ফুটবল নিয়ে আগ্রহী। ওঁর পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে আধুনিক মানের ছ-ছ’টি ফুটবল অ্যাকাডেমি চলে। সেখানে শুধুই ফুটবল খেলা নয়। পাশাপাশি ফুটবলারদের ব্যবহার কীরকম হবে। কথাবার্তা কীভাবে বলবে। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হয়। সঙ্গে ফুটবল প্রশিক্ষণের আধুনিক সবরকম ব্যবস্থা। তবে দেশে এখন ‘বুয়াদ্দি’ ঝড় চলছে। অবশ্যই দেশে হাকিমির প্রভাব মারাত্মক। কিন্তু আধুনিক প্রজন্ম ‘বুয়াদ্দি’তে মজে। ওর ম্যান সিটিতে যোগদানের পর আমাদের দেশে বড় করে খবর প্রকাশিত হয়েছে।’’
কেরল লিগ কেমন লাগছে? করিম বললেন, ‘‘সবে তো রবিবার শুরু হবে। আগে শুনেছি। কিন্তু এসে দেখছি, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই লিগ নিয়ে দারুণ উত্তেজনা। সব ক’টা দল খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে লিগে নামছে।’’ যা জানা যাচ্ছে, তাতে লিগের প্রস্তুতির জন্য বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে কিছুদিন আগেই মালাপ্পুরম এফসি নিয়ে বেঙ্গালুরুত গিয়েছিলেন করিম বেঞ্চারিফা। সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচে সুনীল-গুরপ্রীত-সহ বেঙ্গালুরু এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে করিম বেঞ্চারিফার দল।
সেই প্রসঙ্গ তুলতেই কেরল থেকে ফোনে মোহনবাগানে কোচিং করিয়ে যাওয়া করিম বেঞ্চারিফা বলছিলেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবলে কোচিং করতে আসা অনেক বিদেশি কোচের মধ্যে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি। এখানে কিছুদিন কোচিং করানোর পরই বলতে শুরু করেন, মাঠ ভালো নেই। স্টেডিয়াম নেই। পরিকাঠামো ভালো নয়। অ্যাকাডেমি নেই। নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি, আমি ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামো পরিবর্তন করতে পারব না। সেটা আমার হাতে নেই। পরিকাঠামো বদলের দায়িত্ব দেশের ফেডারেশন এবং সরকারের। আমার কাজ কোচিং করা। আমার কোচিংয়ে ফুটবলাররা তাদের সেরাটুকু দিচ্ছে কি না, সেটাই আমার দেখার কাজ। আর এটুকুই আমার হাতে আছে। খুব বেশি হলে ফুটবলাররা যেন সেরা সুবিধা পায়, তার জন্য ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি। কোচ হিসাবে সেইটুকু আমার হাতে। কিন্তু যে বিষয়টা আমার হাতে নেই, সেটা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামাতে চাই না।’’
সবই তো হল। কিন্তু কলকাতায় কবে আসবেন? ফোনের ওপ্রান্তে হেসে করিম বললেন, ‘‘সময় বলবে।’’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৭২ ঘণ্টাও কাটল না, চন্দ্রশেখরের পুনর্নিয়োগ বেআইনি বলল নোয়েলের টাটা ট্রাস্ট
-
ক্ষমতায় থাকার সময় অমর হওয়ার কৌশল ফাঁদে রাজারা, কোন কাজে লাগে তা?
-
নাকে-মুখে রক্তের দাগ! নিঠারি কাণ্ডে ‘বেকসুর খালাস’ সুরেন্দ্রর রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবি দাদার
-
ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান
-
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন রমেশ পওয়ার! হতে পারেন নির্বাচকও