শ্রীনিধি ডেকানকে হাফডজন গোল দিয়ে আইএফএ শিল্ড অভিযান শুরু করেছে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। এই ম্যাচে নামার আগে ক্লাব লনে পতাকা উত্তোলন করলেন সবুজ-মেরুন কর্তারা। ছিলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস, সভাপতি দেবাশিস দত্ত। এরপর বিরতিতে কলকাতা লিগ জয়ের ট্রফি তুলে দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। সেই আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় সিএফএল ট্রফি সবুজ-মেরুন ক্লাব তাঁবুতে নিয়ে গেলেন। ক্লাব সভাপতি জানালেন, “এবার থেকে ট্রফি থাকবে ক্লাবেই।”
আরও পড়ুন:
মোহনবাগানের হাতে কলকাতা লিগের ট্রফি তুলে দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বললেন, “এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের দিন। মোহনবাগান সিএফএল ট্রফি পেল। এ দিন আইএফএ শিল্ডও শুরু হয়ে গেল। শিল্ড তো বটেই, আইএসএলেও মোহনবাগানকে নিয়ে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। বছরের পর বছর ধরে ভারতকে গর্বিত করে আসছে মোহনবাগান। চাইব, আগামী দিনেও এই ধারা বজায় থাকবে।”

১৯ সেপ্টেম্বর বারাসত স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও মহামেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আট বছর পরে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সবুজ-মেরুন। তার পরেই জানা গিয়েছিল, শিল্ডের প্রথম ম্যাচে সাহাল আবদুল সামাদ, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাতে সেই ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। এই সায়নই শিল্ডের উদ্বোধনী ম্যাচের পর ট্রফি নিয়ে ক্লাব তাঁবুতে গেলেন। সিএফএল ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায় সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মধ্যে।
এই প্রসঙ্গে মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, “ট্রফি জিতলে খেলোয়াড়রাই ট্রফি নিয়ে আসে, কর্মকর্তাদের গাড়িতে নয়। আমাদের প্রথম চেষ্টা ছিল এটিকে নাম সরানো। আলোচনার মাধ্যমে কমিটি তাতে সফল হয়েছে। এর পরেই চেষ্টা ছিল, ট্রফি যেন ক্লাব তাঁবুতে রাখা যায়। ম্যানেজমেন্টের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আজ সকালেই ওদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরাও রাজি হয়েছে। তাই এখন থেকে ট্রফি এখানেই থাকবে। আইএফএ শিল্ড জিতলেও ট্রফি ক্লাবেই থাকবে।” অতীতে ট্রফি জিতেও সবুজ-মেরুন তাঁবুতে বেশিদিন তা দেখার সুযোগ হয়নি। এমন আক্ষেপ ছিল সমর্থকদের একাংশের। এই ঘোষণায় সেই আক্ষেপ হয়তো মিটতে চলেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে চিঠি দিয়েছিল মোহনবাগান। ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের তরফে প্রস্তাব উঠেছিল, ভবিষ্যতে মোহনবাগান কোনও ট্রফি জিতলে সেটি যেন আরও বেশি দিন ক্লাব তাঁবুতে রাখা হয়। সেই সময় ক্লাব কর্তারা আশ্বাসও দিয়েছিলেন। বুধবারের ঘোষণায় সেই প্রতিশ্রুতিই কার্যত বাস্তবায়িত হল।

এরই মধ্যে কলকাতায় ফুটবল-উৎসবের আবহ আরও জমজমাট হতে চলেছে। আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের বিরুদ্ধে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল। ইতিমধ্যেই ঘোষিত হয়ে গিয়েছে তাদের স্কোয়াড। ভিনি, রাফিনহার মতো মহাতারকারা পা রাখবেন শহরে। ঐতিহাসিক এই ম্যাচ নিয়ে ইন্দ্রনীল বললেন, “দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এই ম্যাচ। ফুটবল মানেই পশ্চিমবঙ্গ। ফুটবল মানেই বাঙালি।” ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে তেমন উন্মাদনা নেই, টিকিট বিক্রি হচ্ছে না– এমন নানা কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বললেন, “কে বলেছে উন্মাদনা নেই? ৩ তারিখ দেখবেন, উন্মাদনা কোন জায়গায়। ইতিহাসের সাক্ষী হবেন আপনারাও।”
শুধু ম্যাচ নয়, ব্রাজিলের অতিথিদের জন্যও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ইন্দ্রনীল জানালেন, “ব্রাজিলের বিশ্বকাপ খেলা দল এখানে আসছে। দলের কেউ আবার ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পেয়েছেন। অতিথিদের আমরা বিশেষ আপ্যায়ন করব। আগের দিন স্টেট ডিনারের আয়োজন থাকবে। স্টেট রিসেপশনও হবে। ম্যাচের দিনও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ৬ তারিখ উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।” সব মিলিয়ে পুজোর আগে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জোড়া ধামাকা! ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “বলতে পারেন পুজোর আগে ডবল ধামাকা। বিশ্বকাপ খেলা দলের খেলা এবার দেশের মাটিতেই!”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের