West Bengal Assembly Election

রাহুল-অভিষেক কথার পরদিনই তৃণমূলকে নিশানা, বঙ্গে সরকার গড়ার ডাক কংগ্রেসের

রাজ্যে একক শক্তিতে সরকার গঠনের জায়গায় আছে কংগ্রেস, দাবি নেতৃত্বের।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ২১:৫১

options
link
রাহুল-অভিষেক কথার পরদিনই তৃণমূলকে নিশানা, বঙ্গে সরকার গড়ার ডাক কংগ্রেসের
আজ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। নিজস্ব ছবি।

সংসদের ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন নিয়ে রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে কথা হওয়ার পর রাজ্যে ভোটের আবহে নতুন করে সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। যদিও শনিবারই হিমাচল প্রদেশের মুখ‌্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু-সহ এআইসিসি নেতৃত্ব এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকাররা সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ইঙ্গিত মুছে পালটা দাবি করলেন, রাজ্যে একক শক্তিতে সরকার গঠনের জায়গায় আছে কংগ্রেস। মূল শত্রু বিজেপি হলেও লড়াই তৃণমূলের বিরুদ্ধেও। তাঁর দাবি, ৪ মে এই রাজ্যের বহু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাবে।

Advertisement

শনিবার প্রথম দফায় প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস ও পরে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তর বিধান ভবনে হিমাচল প্রদেশের মুখ‌্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু, রাজ‌্য পর্যবেক্ষক গুলাম মীররা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের সামনে শুভঙ্করের দাবি, “কংগ্রেস একাই সরকার গঠনের অবস্থায় রয়েছে। একমাত্র কংগ্রেসই ২৯৪ আসনে লড়ছে। অন্য কোনও দলের সেই ক্ষমতা নেই। সেই কারণেই একক শক্তিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।” বিজেপি আর তৃণমূলকে একযোগে তোপ দেগে শুভঙ্কর বলেন, “বিজেপি আরএসএসের রেগুলার ছাত্র, আর তৃণমূল ডিসট্যান্স এডুকেশনে পড়াশোনা করে। তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া, আর তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া।” যদিও এরপরও বিজেপিকেই মূল শত্রু বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি। সঙ্গে প্রাক্তন মুখ‌্যমন্ত্রী বিধান রায়ের আমলের কথা মনে করিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যত উন্নয়ন হয়েছে, তা কংগ্রেস আমলেই হয়েছে। তার পরবর্তী সময়ে অন্য দলগুলি গড়ার থেকে ভাঙার কাজই বেশি করেছে।”

Advertisement

সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মসৃণ ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনের জেরে বিজেপির ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর কৌশল ভেস্তে যায়। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রাহুল গান্ধীর ফোন আসে। দুর্দান্ত ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনেই যে বিজেপির কৌশল ধরাশায়ী হয়েছে, তার জন‌্য অভিষেককে কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। তাতেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মেলে। কিন্তু শুভঙ্কর এদিন পালটা বলেন, “সংসদীয় রাজনীতিতে তিনটি স্তর আছে। রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা। বিরোধী শক্তিকে বাহবা দেওয়া তাঁর দায়িত্ব। দেশের স্বার্থে সকলে মিলে এই বিলকে আটকেছে। সব বিরোধী দলের সংসদীয় নেতাকেই ফোন করেছেন রাহুল গান্ধী। কোনও একটা রাজ্যের নেতৃত্বকে ফোন করেননি। যাঁরা দুর্বল তাঁরা এই সমস্ত খুঁজে বের করেন।” অন‌্যদিকে, হিমাচলের মুখ‌্যমন্ত্রী সুখবিন্দর ও তৃণমূলের ১৫ বছরের সরকারে কোনও উন্নয়নই হয়নি বলে দাবি করে বলেন, “এতগুলো বছর শুধু স্লোগান আর আবেগের বশে রাজ‌্য চালানো হয়েছে। এই রাজ্যে গণতন্ত্র নেই, সরকারের স্বচ্ছতা নেই।” সঙ্গে চিটফান্ড, দুর্নীতি ইসুতেও সুর চড়ান তিনি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.