বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিনের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। যা ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ হাসিনা সরকার তিস্তা নিয়ে ভারতের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিল। সম্প্রতি বেজিং সফরে গিয়ে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান দেশটির বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা বলেন। উল্লেখ্য, চিন আগেই এই প্রকল্পে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে উদ্যোগী হয়েছে তারেক সরকার। সেক্ষেত্রেও কি বেজিংয়ের দ্বারস্থ হবে ঢাকা? ভূ-রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কারণে বাংলাদেশের এই চিন-প্রীতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি।
বুধবার প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে তারেক সরকার। বুধবার (১৩ মে) ঢাকায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি সূত্রে দাবি, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর জলপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অনুমোদনকে।
বৈঠক শেষে শহিদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ
বিষয়। তবে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নবায়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কমিশন কাজ করছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশ্ন হল, ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণেও কি বেজিংয়ের দ্বারস্থ হবে ঢাকা? সেক্ষেত্রে তা মাথা ব্যথার কারণ হবে দিল্লির।
প্রসঙ্গত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরের নিকটবর্তী এলাকায় চিনের উপস্থিতি ভারতের জন্য বরাবর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত মনে করে, তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের আড়ালে চিনের মূল লক্ষ্য হল এই অঞ্চলে ভূ-কৌশলগত আধিপত্য বিস্তার করা। যা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য অস্বস্তির হয়ে উঠতে পারে।
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া