বাংলাদেশে ফের খবরের শিরোনামে শিশু নির্যাতন। দুই পৃথক জায়গায় মোট ৭ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে দেশের পশ্চিমের জেলা নড়াইলে। সেখানে ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তার জন্য এক মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এক ছাত্রের মায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনা পূর্বের জেলা নোয়াখালির। এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে। দুটি ঘটনারই তদন্তে নেমেছে র্যাব।
র্যাব সূত্রে খবর, নোয়াখালির ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নলদিয়া এলাকায় শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের শোয়ার ঘরে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। তারপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক ছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালি এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর যৌথভাবে অভিযান চালায়। রংপুরের তারাগঞ্জ থানার অধীন চৌপট্টি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হৃদয় নামে মাদ্রাসার ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালির কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অপরদিকে নড়াইলে কাণ্ডে রবিবার অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গাজীপুর জেলার গাছা থানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মাহবুবুর রহমান, বয়স ২৫ বছর। সে নড়াইল মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগির হোসেনের ছেলে। নড়াইল পৌরসভার ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক। মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা তার সন্তানকে দেখতে ডুমুরতলা গ্রামে অবস্থিত ওই মাদ্রাসায় যান। এসময় ভুক্তভোগী শিশু মাকে জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান রাতে তাকে ধর্ষণ করেছে। শিশুর মা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানান। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার সঙ্গে ঘটা সব কিছু খুলে বলে।
এ সময় ওই মাদ্রাসায় থাকা অন্য আরও পাঁচ ছাত্রও অভিযোগ জানায়, তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। এদিকে এসব ঘটনা প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মা শনিবার সদর থানায় মামলা করেন। মামলার ১০ ঘণ্টা পর অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘‘এক ভুক্তভোগী নারী তার বাচ্চাকে ধর্ষণ করেছে, এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন।”
নোয়াখালির সেনবাগে প্রথম শ্রেণির মাদ্রাসার এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে বছর সাতাশের মহম্মদ আবদুল কাদের হৃদয় নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ থানাধীন চৌপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়! লোকেশনের তথ্য দিতেন কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট
-
উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে ওরাংওটাং উদ্ধারে দিঘা যোগ, হোটেল থেকে আটক ৩
-
‘বিগ বস বাংলা’য় দ্বিতীয় ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি জীতু কমল, ‘রোমিও’ রাজবীর কি এবার চ্যালেঞ্জের মুখে?
-
বাঁকুড়া পুলিশের নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের ‘ডেরা’য় যৌথ অভিযান, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-গুলি
-
আফগান সিরিজের আগে অনুশীলনে চোট ঈশানের! ‘ছুটি’ অভিষেকের, চিন্তা বাড়াল বৈভবও