Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Migrant Labour Death

বেঙ্গালুরুতে রহস্যমৃত্যু পুরুলিয়ায় পরিযায়ী শ্রমিকের, অভিষেকের হস্তক্ষেপে বিমানে ফিরছে দেহ

পরিবারের অভিযোগ, উদ্ধারের পর মৃতদেহ ফেলেই রাখা হয়েছিল। এরপরই তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। নেতাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৩:৩০

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৩:৩০

options
link
বেঙ্গালুরুতে রহস্যমৃত্যু পুরুলিয়ায় পরিযায়ী শ্রমিকের, অভিষেকের হস্তক্ষেপে বিমানে ফিরছে দেহ zoom
মৃত অনাদি মাহাতোর ঝালদার বাড়িতে তৃণমূল নেতৃত্ব। মঙ্গলবার রাতে।

ভিনরাজ্যে ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু (Migrant Labour Death)। মৃত পুরুলিয়ার ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের খৈরি গ্রামের বাসিন্দা উনত্রিশ বছরের অনাদি মাহাতো। মঙ্গলবার তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। পরিবার সূত্রে খবর, ওই দিন মৃতদেহ উদ্ধারের পরেও ময়নাতদন্ত না হওয়ায় সন্দেহ বাড়ে বাড়ির লোকজনের। তাঁরা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উজ্জ্বলবাবু তৎক্ষণাৎ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে এই খবর জানান। অভিষেক সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন। তার জেরে বুধবার অনাদি মাহাতোর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। বেঙ্গালুরু থেকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিমানে মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে পুরুলিয়ার গ্রামের বাড়িতে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ আসবে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১ টা থেকে প্রায় ১২ টা পর্যন্ত স্ত্রী প্রীতিলতা মাহাতোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন অনাদি। ৩ বছরের ছেলে ও ৬ বছরের মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। স্ত্রী প্রীতিলতা জানাচ্ছেন, “ও (অনাদি মাহাতো) প্রতিদিন ভোরবেলা রান্না করে কাজে বার হয়। তাই রাতে কথা বললেও ভোর ৪ টার সময় আমাকে ফোন করবেই। মঙ্গলবার ভোরে ফোন করেনি। ফলে আমার সন্দেহ হয়েছিল। আমি ওর ফোনে যোগাযোগ করলেও পাইনি। পরে সহকর্মীদের ফোন করলে জানতে পারি, ওর শরীর অসুস্থ। তারপরেই ওখান থেকে ফোনে জানানো হয়, আমার স্বামী মারা গিয়েছে। যে মানুষটা রাত পর্যন্ত কথা বলল, সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কয়েকঘণ্টার মধ্যে কী এমন হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।”

Advertisement

খৈরি গ্রামে প্রীতিলতা দেবী ৩ বছরের ছেলে ও ৬ বছরের মেয়ে এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থাকেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলেন মৃত পরিযায়ী অনাদি। প্রায় ৭-৮ বছর ধরে তিনি বেঙ্গালুরুতে কাজ করছিলেন। মৃতের শ্যালক ঝালদা ১ ব্লকের কলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাইডি গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণু মাহাতো বলেন, ”এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আছে। গত দেড় থেকে দু’বছর হল একটি অন্য কোম্পানিতে জামাইবাবু নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। আমরা ঠিক জানি না বেঙ্গালুরুর কোন এলাকায় তিনি থাকতেন। কোম্পানিটি ঠিক কোথায় সেটিও জানা নেই। খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।” পুজোতে বাড়ি এসেছিলেন অনাদি। তারপর অক্টোবরের শেষে বেঙ্গালুরু ফিরে যান। পরিবারকে জানিয়েছিলেন, আবার ভোট দিতে বাড়ি আসবেন। কিন্তু তা আর হল না।

মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা তৃণমূল নেতৃত্বের। নিজস্ব ছবি

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল অনাদি মাহাতোর খৈরি গ্রামের বাড়ি যায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান তাঁরা। ওই দলে ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান, প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার। তিনি বলেন, ‘‘পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানানোর পরেই আমি আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে যোগাযোগ করি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপেই আজ মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে। তারপর সেখান থেকে বিমানে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি পর্যন্ত মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স আনার ব্যবস্থা করছি। আমরা আবার ওই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যাব। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি। ওই পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.