৩১ আষাঢ়  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: প্রচারের আর হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি৷ আগামী ২৯ তারিখ আসানসোলে ভোট৷ তাই শেষলগ্নের প্রচারের সুর একেবারে চড়ায়৷ বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় প্রচার করছিলেন মিঠানির গ্রাম ঢুকে৷ গাড়িতে যেতে যেতে গানও ধরছিলেন, “বোম্বে কাঁপিয়ে, ভারত নাচিয়ে এসেছি এই মিঠানিতে”। কিন্তু কিছুদূর যেতেই গান গেল থেমে৷ এক দৃশ্যে চোখ আটকে গেল সবার।

বাবুলের প্রচার গাড়ির সামনে পথ আগলে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি। মুখে দাড়ি। চোখ ছলছল। পাশে আরও কয়েকজন। হাতে প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা বেকার ভাইয়ের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বোনম্যারো ও ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সাহায্য চাই। ভাইয়ের চিকিৎসার সাহায্যের আরজি জানালেন বিদায়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র কাছে। তাও নির্বাচনী প্রচারের সময়। নির্বাচনী বিধিলঙ্ঘন করে তিনি প্রতিশ্রুতিও দিতে পারবেন না। আবার বিষয়টি মানবিক। তাই কিছুক্ষণের জন্য হকচকিয়ে যান তিনি৷ বিব্রত অবস্থা কাটিয়ে বাবুল তাঁকে জিজ্ঞেস করেন,  তাঁকে কোনও চিঠি দিয়েছিলেন কিনা। উত্তরে তাঁরা বলেন, এসব পদ্ধতি জানা নেই। কিছুদিন আগেই ঘটনাটি ঘটেছে। ততদিনে ভোট ঘোষণা হয়ে গেছে। বাবুল জানান, সংকটপূর্ণ গরীব রোগীদের জন্য প্রধামন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান আনিয়েছেন আসানসোলে। ভোটের পর একটা চিঠি দিয়ে আবেদন করতে। যোগাযোগ করলে কিছু করার চেষ্টা করবেন৷ 

[ আরও পড়ুন: মহুয়াকে যৌন হেনস্তামূলক মন্তব্য, বিজেপি নেতাকে শাস্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের]

মিঠানিতে বিদায়ী সাংসদ তথা মন্ত্রী প্রচারে আসবেন শুনে তড়িঘড়ি প্ল্যাকার্ড লিখেন জয়ন্ত চট্টরাজ। ভাই অনন্ত চট্টরাজ ভেলোরে চিকিৎসাধীন। তিনি বোনম্যারো ও ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। কিডনি দুটিও ড্যামেজ হয়ে গেছে। জয়ন্তবাবু বলেন, তিনি একটি দোকান চালান। ভাই অনন্ত একপ্রকার বেকারই বলা যায়। ছোট্ট একটা স্টেশনারি দোকান চালিয়ে সংসার তাঁর। হঠাৎ করে এই রোগ ধরা পড়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। তাই চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সাহায্য চাই বাবুলের কাছে। আরেক ভাই হেমন্ত বলেন, তিনি সবজির দোকান চালান। কোথায় তাঁরা চিকিৎসার টাকা পাবেন। কোন দরবারে গেলে আর্থিক সাহায্য মেলে তা তাঁদের জানা ছিল না। এসব শুনে বাবুল সুপ্রিয় তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।ভোট মিটলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। 

[ আরও পড়ুন: গত পঞ্চাশ বছরে রাজ্যের এই বুথে একবারও হারেনি বামেরা]

এদিন বাবুল সুপ্রিয়কে ফুলের মালা পরিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে অভিবাদন জানান মিঠানির বাসিন্দারা। আর গায়ক প্রার্থী মিঠানিতে গিয়ে বললেন, ‘আমার গান শুনুন, কাজ দেখুন, আবার ভোটও দিন। তিরিশ বছর আগে থেকে গান শুনে ভালোবেসেছিলেন। সাংসদ হয়ে কাজও করেছি। আবারও সাংসদ নির্বাচন করে আরও কাজ করার সুযোগ দিন।’ জনসংযোগ বাড়াতে বেজডি কোলিয়ারি এলাকায় বিরতি নিয়ে দোকানে বসে চা খান। সীতারামপুরে ক্রিকেট খেলেন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং