সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: একসময়ে জঙ্গলমহলই ছিল তাঁর ঠিকানা৷ কিন্তু বর্তমানে ঠিকানা বদলেছেন তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের হয়ে ঘাটাল থেকে লড়াই করছেন একসময়ের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক৷ ভোটের আগে জনসংযোগে ব্যস্ত ভারতী ঘোষ৷ তবে তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে ভোটপ্রার্থীরা প্রচার করছেন ঠিকই৷ কিন্তু তিনি সকলের থেকে এক্কেবার আলাদা৷ তাই ভোটারদের সচেতন করাই তাঁর লক্ষ্য৷
[ আরও পড়ুন: কংগ্রেস ‘জনবিচ্ছিন্ন’,রাহুলের পালটা সভায় মৌসমকে পাশে নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর]
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের৷ কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই ছেদ পড়েছে সম্পর্কে৷ নানা টানাপোড়েনের পর বর্তমানে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছেন সেখানকার প্রাক্তন পুলিশ সুপার৷ একেই গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীতালিকা ঘোষণায় দেরি হয়ে গিয়েছে৷ তাই স্বাভাবিকভাবে জনসংযোগের কাজ শুরু করতেও সময় কেটেছে যথেষ্টই৷ এবার আর মোটেও সময় নষ্ট করতে নারাজ বিজেপি প্রার্থীরা৷ সোমবার থেকেই ফেলে রাখা কাজ শুরু করলেন ভারতী ঘোষ৷ এদিন প্রথমে খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকের মহিষা গ্রামের মনসা মন্দিরে পুজো দেন গেরুয়া শিবিরের সৈনিক৷

[ আরও পড়ুন: ‘জনবিরোধী’ সরকার গড়ার ডাক, তৃণমূল প্রার্থীর দেওয়াল লিখন ঘিরে বিতর্ক]
ভগবানের আশীর্বাদ নিয়ে তিনি সোজা চলে যান দাসপুরে৷ গ্রামের রাস্তায় তখন প্রায় অন্ধকার নেমেছে৷ তবু জনসংযোগে কোনও ঘাটতি রাখতে চান না প্রার্থী৷ বেলতলা বাজারে ঘুরে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের সঙ্গেই কথা বললেন ভারতী ঘোষ৷ শুনলেন সমস্যার কথাও৷

বিদায়ী সাংসদ দেবকে একহাত নিতে ছাড়লেন না ভারতী৷ তিনি বলেন,‘‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি৷ কোনও জায়গার এতটুকু উন্নয়ন হয়নি৷ সাংসদ পাঁচ বছরে ৫ বারও আসেননি৷ হাজার হাজার মানুষ কাকে বলবেন সমস্যার কথা?’’ তাঁর আরও দাবি, তিনি সাংসদ হলে নিজের লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় সর্বক্ষণ থাকবেন৷ মন দিয়ে সকলের সমস্যার কথা যেমন শুনবেন, তেমনই আবার সমাধানেরও যথাযথ বন্দোবস্ত করবেন৷ একজন আদর্শ সাংসদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের উন্নতি করার চেষ্টা করবেন বলেও পরামর্শ সদ্য রাজনীতিতে পা রাখা এককালের আইপিএস অফিসারের৷ বারবার বিদায়ী সাংসদ দেব দাবি করেছেন কেন্দ্রের তরফে কোনও সাহায্য না মেলায় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান সফল হয়নি৷ এ বিষয়েও দেবের বিরুদ্ধে সুর চড়ান ভারতী৷ তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক খারাপ হলে কি ভাল কাজ হয়? ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা, এলাকার উন্নয়ন করা একজন সাংসদের কাজ৷ কাউকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই৷’’
[ আরও পড়ুন: গান গাওয়ার আবদার সমর্থকের, ভরা সভায় মেজাজ হারালেন শতাব্দী রায়]
দাসপুরের পর এদিন হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে যান ভারতী৷ ওই গ্রামেও ঘুরে ঘুরে কেন্দ্রীয় সরকারে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন বিজেপি প্রার্থী৷ আবারও কেন্দ্রের ক্ষমতায় এলে বিজেপি এলাকার উন্নতি করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি৷
দেখুন ভিডিও:
সর্বশেষ খবর
-
সাগরেই লুকিয়ে ইউরেনিয়াম খনি! পরমাণু শক্তি বৃদ্ধিতে চিনের ‘কেমিক্যাল ফাঁদ’, টেক্কা আমেরিকাকে
-
ডেলিভারির আড়ালে বাইক চুরি! সিসিটিভি দেখে বেলঘরিয়ার ‘বান্টি-বাবলি’কে ধরল পুলিশ
-
পুলিশ হেফাজতেই সোমনাথের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার! ফের হাজতে নির্মল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
-
‘ট্রিপল ইঞ্জিনেও বিপর্যয়’, দিল্লিতে বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ‘দায়বদ্ধতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাহুলের
-
মুসলিম হয়েও দোকানের নামে হিন্দুত্বের ছোঁয়া! মালিকের ধর্ম পরিচয় লেখার ‘নিদান’ সনাতন জাগরণ মঞ্চর