Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Bardhaman

টিকিট না থাকায় কলেজ ছাত্রীকে হেনস্তা! বসতে পারেননি পরীক্ষায়, অপমানে ‘আত্মঘাতী’ মেধাবী পড়ুয়া

মৃত ছাত্রীর নাম জয়শ্রী সরকার। বয়স ২০ বছর। রসুলপুর মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্ধমান ওমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।

Advertisement
সৌরভ মাজি
সৌরভ মাজি

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ২০:৫৫

link
সৌরভ মাজি
সৌরভ মাজি

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ২০:৫৫

options
link
টিকিট না থাকায় কলেজ ছাত্রীকে হেনস্তা! বসতে পারেননি পরীক্ষায়, অপমানে ‘আত্মঘাতী’ মেধাবী পড়ুয়া zoom
মৃত ছাত্রী জয়শ্রী সরকার।

টিকিট না কাটায় স্টেশনে হেনস্তা করেন টিকিট পরীক্ষক! বসিয়ে রেখে ফাইন করা হয়। কলেজে পরীক্ষা থাকায় দেরি হয়ে যায়। সময় মতো পৌঁছতে পারেননি। বাড়ি ফিরে আত্মঘাতী হলেন কলেজ ছাত্রী! শুক্রবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায়।

মৃত ছাত্রীর নাম জয়শ্রী সরকার। বয়স ২০ বছর। রসুলপুর মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্ধমান ওমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। আজ, শুক্রবার কলেজে তাঁর পরীক্ষা ছিল। সেই মতো তিনি রসুলপুর থেকে ট্রেনে চেপে বর্ধমান যান। তাড়াহুড়ো থাকায় টিকিট কাটতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। ট্রেন থেকে নামতেই প্লাটফর্মে টিকিট পরীক্ষককে টিকিট দেখাতে না পারায়, তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, জয়শ্রী টিকিট পরীক্ষককে কলেজে পরীক্ষার কথা বললেও, তাঁকে ছাড়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে তাঁর থেকে ফাইন নেওয়া হয়। সব কিছু মিটিয়ে বেরতে বেরতে পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়।

Advertisement

ফলে জয়শ্রী আর পরীক্ষা দিতে পারেননি। দুপুরে বাড়ি ফিরে আসেন। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না তাঁর মা রিঙ্কু সরকার। তিনি স্থানীয় বুথের বিএলওর দায়িত্ব পেয়েছেন। ছিলেন বিডিও অফিসে। কাজে বেরিয়ে ছিলেন ছাত্রীর বাবা জয়দেব সরকার। জয়দেববাবু বাড়িতে ফিরে দেখেন মেয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না জড়ানো অবস্থায় ঝুলছেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ টিকিট পরীক্ষকের অমানবিক আচারণের কারণে জয়শ্রী আত্মঘাতী হয়েছেন। অপমান মেনে নিতে পেরে ও পরীক্ষা দিতে না পারার আক্ষেপে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়।

ঘটনার নিন্দা করেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ। তিনি বলেন, “খুবই অমানবিক ঘটনা। পরীক্ষা রয়েছে প্রথমেই ফাইন করে টিটিই ছেড়ে দিতে পারতেন। আটকে রেখে হেনস্তা করে, দেরি করে দেওয়া উচিত হয়নি। একটু মানবিক হলে এই রকম মর্মান্তিক পরিণতি হত না।”

পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বিশাল কাপুর বলেন, “বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। মেয়েটির টিকিট লাগতো ১০ টাকা। আর জরিমানা দিতে হতো ২৫০ টাকা। সেখানে কোনও সমস্যা নেই। ওর কাছে টাকা ছিল না বলে কম টাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানতে পেরেছি। তবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা বা অন্য যা বিষয়ের কথা উঠে এসেছে আমরা সে বিষয়ে তদন্ত করছি। সমস্ত স্তরে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে আর একটু মানবিক হওয়া উচিত ছিল কর্মরত টিটিই-র।” তাহলে কি ওই টিটিই-র বিরুদ্ধে রেল কোনও ব্যবস্থা বা তদন্ত করবে কিনা প্রশ্নে মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানান, “সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর পদক্ষেপ করা হবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.