রাজ্যে একসময় তৃণমূল-বিজেপি ‘বাইনারি থিওরি’ চলত। ক্ষমতার পালাবদলেই সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের একটা বড় অংশ কার্যত বিজেপির ‘বি’ টিম। এমনকী বিধানসভায় বিরোধী দলও শাসক বিজেপি ঘেঁষা। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরে একটা বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্ত্রে শান দিচ্ছে কাস্তে-হাতুড়ি-তারার দল। পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে শ্রমিক, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষকে পাশে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে সাড়াও মিলছে। মিটিং-মিছিলে জনসমাগমের ভিড়ও বুঝিয়ে দিচ্ছে, ঘুরে দাঁড়ানোর জোর পাচ্ছে সিপিএম, হাওয়ায় ফের উড়ছে সর্বহারার লাল নিশান।

আরও পড়ুন:
জেলায় এখন উচ্ছেদ নোটিস সিপিএমের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বর্ধমান, মেমারি, পূর্বস্থলী, কাটোয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় রেলের উচ্ছেদের ফলে প্রবল ক্ষোভ জমেছে মানুষের মনে। আবার মেমারি-সহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জায়গায় থাকা দোকান, ঘর উচ্ছেদ নিয়ে মাইকে প্রচার করছে পূর্তদপ্তর। মেমারি শহরকে যানজটমুক্ত করতে বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে জবরদখলকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা না হয়। আবার মেমারি, পালসিট, দেবীপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় পূর্ত দপ্তরের জায়গা জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের কথা জানিয়ে দিয়েছে। আর একে হাতিয়ার করে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে সিপিএম।
আসলে শূন্য থেকে এক হওয়ার পর এমনিতেই তলানিতে যাওয়া জনসমর্থন কিছুটা ফিরে পেয়েছে লাল ব্রিগেড। রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আশার আলো দেখছে বামেরা। নিয়ম করে লাগাতর কর্মসূচি নিতে দেখা যাচ্ছে সিপিএম ও তাদের বিভিন্ন সংগঠনকে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপির তৈরি করা বিরোধী দল হয়েছে। মানুষ সেটা বুঝতে পেরেছেন। গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ বুঝতে পেরেছেন, তাঁদের হকের দাবি আদায়ে সিপিএমই ভরসা দিচ্ছে। তাই মানুষের ভিড় বাড়ছে সিপিএমের সভা-সমিতিতে।”

রাস্তায় রাস্তায় সভা, সমিতি হচ্ছে। তাতে মানুষের ভিড় আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে সিপিএমকে। উচ্ছেদ ইস্যুতে কে মানুষের পাশে থাকছে, তা নিয়ে বিজেপি-সিপিএমের দড়ি টানাটানিও চলছে। কয়েকদিন আগে রেলের তরফে বর্ধমানের লোকো বসতিতে উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল। তা নিয়ে আন্দোলনে নামে সিপিএম। রেলের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে, আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে বামেরা। বর্ধমানের লোকো কলোনির বসতিবাসীদের অনেকে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও সেখানকার বিজেপি নেতা সুধীররঞ্জন সাউ ওরফে জগ্গু সেখানকার বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ান। রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রীর মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র রেলের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদ আপাতত স্থগিত রেখেছেন। বাসিন্দাদের ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি এই খবর জানান।
এই নিয়ে সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়েছে। বামেদের দাবি, তাদের গণ আন্দোলন, আদালতের হস্তক্ষেপে পিছু হঠে রেল। এদিকে, গেরুয়া শিবিরের দাবি, মন্ত্রীর চেষ্টাতেই উচ্ছেদ আপাতত আটকানো গিয়েছে। আসলে শূন্য থেকে এক হওয়ার পর এমনিতেই তলানিতে যাওয়া জনসমর্থন কিছুটা ফিরে পেয়েছে লাল ব্রিগেড। রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আশার আলো দেখছে বামেরা। নিয়ম করে লাগাতর কর্মসূচি নিতে দেখা যাচ্ছে সিপিএম ও তাদের বিভিন্ন সংগঠনকে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপির তৈরি করা বিরোধী দল হয়েছে। মানুষ সেটা বুঝতে পেরেছেন। গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ বুঝতে পেরেছেন, তাঁদের হকের দাবি আদায়ে সিপিএমই ভরসা দিচ্ছে। তাই মানুষের ভিড় বাড়ছে সিপিএমের সভা-সমিতিতে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মার্কিন তারকার লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফিফাকে ফোনের কথা স্বীকার ট্রাম্পের, ঠিক কী বলেছিলেন?
-
মানুষের চাকরি খাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এক লপ্তে ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফ্টের
-
বাবুই ঘাসের হস্তশিল্পে নতুন দিশা, শিল্পীদের দক্ষতা বাড়াতে ঝাড়গ্রামে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল
-
রামপুরহাটের ‘দুমকা রোড’ এখন শ্যামাপ্রসাদের নামে, জন্মদিবসে মূর্তি স্থাপন করে ঘোষণা বিধায়কের
-
পরপর টার্গেট বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা! দীপক, সম্বিতের পর সাইবার হামলার শিকার অজয় পোদ্দার