Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৩ জুলাই ২০২৬

পুলিশ ছেলে খেতে দেয় না, জন্মদাত্রীকে তাড়াল দুই সন্তানই

মারধর করে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মাকে রাস্তায় ফেলে দেয় ছেলেরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৭, ১৪:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৭, ১৪:৫৮

options
link
পুলিশ ছেলে খেতে দেয় না, জন্মদাত্রীকে তাড়াল দুই সন্তানই zoom

স্টাফ রিপোর্টার: একদিকে যখন পুলিশের এক এসআই বাংলা ভাগ রুখতে নিজের আত্মাহুতি দিলেন, তখন অন্যদিকে পুলিশেরই আর এক মুখ দেখে স্তম্ভিত রাজ্যবাসী।

পুলিশ বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে যাওয়ার পরেও ফের বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিল দুই ছেলে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের দুই ছেলেকে ভৎর্সনা করে ৭০ পার হওয়া সহায়-সম্বলহীন মাকে বাড়িতে রেখে এলেন পুলিশ অফিসাররা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু’দুবার পুলিশ কেন বাড়িতে এল এই অজুহাতে রাতেই ফের মাকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছে বড় ছেলে। এর মধ্যে ছোট ছেলে আবার রাজ্য পুলিশে কর্মরত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বাংলাকে ভাগ হতে দেব না, সংকল্প ছিল শহিদ অমিতাভের]

চরম অমানবিক ও লজ্জাজনক এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুরের বিড়াল মিস্ত্রি পাড়ায়।দুই ছেলের হেনস্থার শিকার  কল্পনা দাস। তাঁর স্বামী সুনীল দাস সাত বছর আগে মারা যান। বড় ছেলে শিবনাথ ও বউমা মাম্পি দাস। ছোট ছেলে সোমনাথ। একসময় কল্পনা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। সামান্য খাবারও চারজনে ভাগ করে খেতেন। স্বামী সুনীল দাস দৃষ্টিশক্তি না থাকায় বারুইপুর স্টেশনে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। পরে কল্পনা টাকা জমিয়ে এক কাঠা জমি কেনেন। পরে বড় ছেলে আরও এক কাঠা জমি কেনেন বলে মায়ের দাবি।

পুলিশ জানিয়েছে, কে খেতে দেবে তাই নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বিবাদ দীর্ঘদিনের। এমনকী রেশনকার্ড আটকে রেখে দু’টাকা কিলো চালও রেশন থেকে তুলতে ছেলেরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার মারধর করে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কল্পনাদেবীকে  রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা মাথায় জল ঢেলে জ্ঞান ফেরাতেই কল্পনাদেবী বারুইপুর থানায় যান। বড় ছেলে ও বউমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। এক বৃদ্ধা মায়ের এমন করুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে দেখে আইসি অরূপ ভৌমিক পুলিশ অফিসার পাঠিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরে ওষুধ ও খাবার দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

[ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই ঘরোয়া টোটকাই হাতিয়ার উত্তর ২৪ পরগনার পঞ্চায়েতগুলির]

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার কল্পনাদেবীকে মারধর করা হয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার অবনতি হয় শুক্রবার বেলায়। ফের ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেয় বড় ছেলের স্ত্রী। বৃদ্ধা এক প্রতিবেশীর পুকুরপাড়ে অভুক্ত অবস্থায় বসে আছেন। খবর যায় বারুইপুর থানায়। আইসি দ্রুত অফিসার পাঠান। পুলিশ দেখে কান্নাকাটি শুরু করেন মা। দরজা খুলিয়ে বৃদ্ধাকে ঘরে বসিয়ে দেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। যদিও মাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই ভাই। এমন অমানবিক ঘটনার খবরে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিধায়ক ও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান,“পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন ও পঞ্চায়েতকে বলেছি সমস্ত রকম সাহায্য নিয়ে অসহায় বৃদ্ধাকে পাশে দাড়াতে।”

ছবি : বিশ্বজিৎ নস্কর

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.