BREAKING NEWS

১৬ ফাল্গুন  ১৪২৭  সোমবার ১ মার্চ ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

রক্তশূন্য ব্লাড ব্যাংক, থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্তদান মানবিক মেডিক্যাল অফিসারের

Published by: Sayani Sen |    Posted: April 6, 2020 2:44 pm|    Updated: April 6, 2020 9:47 pm

An Images

রঞ্জন মহাপাত্র,কাঁথি: করোনা রুখতে লকডাউন চলছে রাজ্যে। তার ফলে বন্ধ রক্তদান শিবির। রক্তের জোগান নেই। তাই আপাতত রক্তশূন্য ব্লাড ব্যাংকগুলি। তারই মাঝে মুমূর্ষ থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্ত দিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন কাঁথি ব্লাড ব্যাংকের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সৌম্য ঘোষ। তাঁর সাহায্য পেয়ে বেজায় খুশি কিশোরের পরিবার। আধিকারিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি এলাকার বাসিন্দা অপু দাসের ছেলে বছর চোদ্দর অরূপ দাস থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। তাই প্রত্যেক ১০দিন অন্তর অরূপের শরীরে রক্তের প্রয়োজন হয়। বাবা অপু ছেলেকে ১০দিন অন্তর কাঁথি মহকুমা হাসাপাতালে নিয়ে এসে রক্তদেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে রাজ্যে চলছে লকডাউন। ফলে সমস্ত রক্তদান শিবির বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাঁথি ব্লাড ব্যাংকেও রক্তের জোগান নেই। এমনিতেই গরম পড়লে রক্তের চাহিদা বাড়ে। রক্তদান শিবির না হওয়ায় রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে যান চলাচলও বন্ধ। ফলে ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অরূপের শরীরে রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি তার বাবার।

[আরও পড়ুন: এলাকায় করোনা হাসপাতাল নয়, দাবিতে হাসপাতালে ভাঙচুর-আগুন উন্মত্ত জনতার]

ছেলে ক্রমশ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে দেখে বাবা তাকে নিয়ে সাইকেলে করে ৪০ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। ছেলেকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভরতিও করেন। কিন্তু ব্লাড ব্যাংকে নেই রক্ত। এদিকে সাইকেল করে সুদূর খেঁজুরি থেকে এসেছেন ছেলেকে নিয়ে। কী করবেন? কোথায় যাবেন? কোথায় পাবেন রক্তদাতাকে? এমন সব চিন্তা নিয়ে হাসপাতালে আসা একের পর এক রোগীর আত্মীয়দের হাতজোড় করে আবেদন জানান রক্ত দিয়ে তার ছেলের প্রাণ বাঁচানোর জন্য।

কিন্তু তাঁর কথা কারও কানে যায়নি। পাশ কাটিয়ে একের পর এক মানুষেরা চলে গিয়েছেন। এমন সময় ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মীর মাধ্যমে মেডিক্যাল অফিসার (এমও) ডাঃ সৌম্য ঘোষ বিষয়টি জানতে পারেন। রক্ত না পেয়ে আরও অসুস্থ হতে থাকে অরূপ। রবিবার কাঁথি থানার উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে রক্ত এসে তা পরীক্ষা করে রোগীর শরীরে দিতে বেশ কয়েক ঘন্টা দেরি হয়ে যাবে। তাই অরূপের সঙ্গে নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় তিনি নিজেই রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই মতো অরূপের বাবাকে ডেকে পাঠান। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরই রক্ত দেওয়া শুরু করেন। ডাঃ সৌম্য ঘোষ বলেন, “ছেলেটি রক্ত না পেয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। তাছাড়া রক্তের জোগান না থাকায় তার বাবা সাইকেলে করে খেঁজুরি থেকে এসেছেন কোথায় বা যাবেন রক্ত খুঁজতে। তাই নিজেই রক্ত দিলাম।” সৌম্যবাবুর উদ্যোগে খুশি অরূপের বাবা। বিপদের দিনে তাঁকে ‘দেবদূত’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন অসহায় বাবা।

[আরও পড়ুন: মোদির ডাকে সাড়া দিয়ে অকাল দীপাবলি উদযাপন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নৈহাটিতে]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement