সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: অরণ্য ধ্বংস করে টুরগা প্রজেক্ট করা যাবে না। শুক্রবার পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও কার্যালয় ঘেরাও করে তাঁকে গণডেপুটেশনের মধ্য দিয়ে ফের এই বার্তা দিল প্রকৃতি বাঁচাও সংগঠন। এদিন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল, প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও মঞ্চ-সহ মোট ১৫টি সংগঠন পুরুলিয়া বনবিভাগ কার্যালয়ের কাছে জমায়েত করে। রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় নিয়ে টুরগা প্রজেক্ট বাতিলের দাবিতে সরব হন ওই সংগঠনগুলির নেতা, কর্মী-সমর্থকরা। বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল একেবারে স্তব্ধ হয়ে যায়। এদিন সন্ধ্যায় পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও কার্তিকায়েন এম বলেন, “বিভিন্ন দাবি নিয়ে ডেপুটেশন পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। “
টুরগা প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ২০১৮ সাল থেকে আন্দোলন চলছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বানকে ঘিরে আন্দোলন আরও জোরদার হয় অযোধ্যা পাহাড়ে। সপ্তাহখানেক আগে অযোধ্যা পাহাড়ে পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও-সহ অযোধ্যা ও বাঘমুন্ডি বনাঞ্চলের আধিকারিককে ঘেরাও করেছিলেন এই আন্দোলনে শামিল থাকা মানুষজন। গ্রাম সভার অনুমতি ছাড়া ডিএফও অযোধ্যা পাহাড়ের গ্রামগুলিতে ঢুকতে পারবেন না এমন হুঁশিয়ারিও দেন তারা। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে স্বয়ং ডিএফও’র অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। তবে এদিন একেবারে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়।
[আরও পড়ুন: G-20: দিল্লিতে মোদি-হাসিনা বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’, তবে মিলল না তিস্তা প্রশ্নের উত্তর]
পুলিশি ব্যবস্থা ছিল একেবারে চোখে পড়ার মতো। এদিন শহর পুরুলিয়ার সুভাষ উদ্যান থেকে মিছিল করে ওই সংগঠনগুলো। শহর পরিক্রমা করে তারা পুরুলিয়া বন বিভাগের কার্যালয়ের কাছে জমায়েত করেন। কেন তারা টুরগা প্রজেক্ট বাতিল চাইছেন এদিন তা তুলে ধরা হয়। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের জেলা পারগানা রতনলাল হাঁসদা বলেন, “প্রকৃতির সম্পদ, অক্সিজেনের ভান্ডার অযোধ্যা পাহাড়ে লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে টুরগা প্রজেক্ট আমরা চাই না। অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যে ই-টেন্ডার হয়েছে তার আমরা বাতিল চাই। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করবো। এটা আমাদের প্রতীকী গণডেপুটেশন। যদি ওই প্রকল্প বাতিল না হয় তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা বিভিন্ন জেলা স্তব্ধ করে দেব। ২০১৭ সালে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিউলেশনের মাধ্যমে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। ভুল তথ্যের উপরে পরিবেশ মন্ত্রক থেকে ছাড় পায়। আমরা ডিএম, ডিএফওকে সাবধান করে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে চাই প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে অরণ্য ধ্বংসকারী শিল্প আমরা চাই না।”
এদিন পুরুলিয়া বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হওয়া মানুষজনদের হাতে হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। ওই প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল অযোধ্যা পাহাড়ের টুরগা-বান্দো পাম্পড স্টোরেজ প্রজেক্ট বাতিল করো। টুরগার পাশাপাশি বান্দো পাম্প স্টোরেজ প্রকল্পও রয়েছে বলে তারা জানান। তাদের অভিযোগ, এই প্রজেক্ট-র ফলে প্রায় ৭০০ হেক্টর বনভূমি নষ্ট হয়ে যাবে। অরণ্য নির্ভর ১৯ টি গ্রামের মানুষজনের জীবন-জীবিকায় সমস্যা হবে। বিপন্ন হবে বন্যপ্রাণ। টুরগা প্রকল্প বাতিল ছাড়াও এদিন তাদের দাবি ছিল, ২০০৬ বনাধিকার আইন বাস্তবায়িত করতে হবে। অহেতুক বনদপ্তরের অভিযোগে যে মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
দেখুন ভিডিও:
[আরও পড়ুন: ‘মিথ্যা কথা বলছেন’, রেজিস্ট্রারদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যপালকে ফের কটাক্ষ ব্রাত্যর]
সর্বশেষ খবর
-
সোশাল মিডিয়ায় আলাপ, ভিনরাজ্যে ‘ধর্ষণে’র শিকার বঙ্গকন্যা, প্রভাব খাটিয়ে জেলমুক্ত যুবক!
-
কঠিন সময়ে অলকাকে বিশেষ বার্তা শানু ও শানের, কী বললেন তাঁরা?
-
ভারতে ঢুকেছিল তিনটি পাকিস্তানি বিমান, এয়ার ইন্ডিয়া বিপত্তির এক সপ্তাহ আগে
-
সারান্ডায় তাড়া খেয়ে বাংলামুখী, ১৪ বছর পর ‘ঘরে’ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের?
-
তারাতলার গুদাম নির্মাণে ‘কুখ্যাত’ আসগর, বিপর্যয়ের বহু আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল বাম কর্মী ইউনিয়ন