সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে ‘ব্রেক দ্য চেন’ নিয়মে সপ্তাহে দু’দিন করে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন (Complete Lockdown)। আজ আগস্টের দ্বিতীয় পূর্ণ লকডাউনের দিন। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিয়ম ভাঙার ছবিটা চোখে পড়ল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কেউ আবার পুলিশের হাত থেকে পালাতে গিয়ে জখম করলেন পুলিশ কর্মীকেই। অবশ্য পুলিশও নিয়ম ভঙ্গকারীদের কড়া হাতে শাস্তি দিল।
সকাল সকাল মালদহ শহরে সাইকেল, গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে দেখা গেল অনেককেই। তাঁদের কারও মুখে আবার মাস্কটুকুও নেই। রাস্তায় রাস্তায় টহলরত পুলিশও অবশ্য একেবারে কড়া পদক্ষেপের পথেই হাঁটল। গাড়ি থামিয়ে, চালকদের নামিয়ে সটান কান ধরে ওঠবোস করাল। শাস্তি পেয়ে সকলেই কবুল করলেন অপরাধ। প্রতিশ্রুতি দিলেন, আর কখনও এমন ভুল করবেন না। এত কিছুর পর ছাড়া হল তাঁদের। সকলেই বুঝলেন, আইনরক্ষকদের নজর এড়িয়ে নিয়ম ভাঙা সহজ নয় মোটেও। এছাড়া মালদহের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে পুলিশের নাকা চেকিং। ফাঁক গলে বেরনোর উপায়মাত্র নেই।
[আরও পড়ুন: পারিবারিক অশান্তির জের, শিশুকে আলমারিতে বন্দি করে খুনের অভিযোগ জেঠিমার বিরুদ্ধে]
এ তো গেল মালদহের কথা। রাজ্যে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় সকালে দেখে গেল, চায়ের দোকান খুলেছে। সেখানে মাস্ক ছাড়াই কয়েকজন ভিড় জমিয়েছেন চা খেতে। পুলিশের নজরে পড়তেই অবশ্য চায়ের ভাঁড় ফেলে পালানোর ব্যস্ততা ক্রেতাদের। আর দোকানদারও ঝাঁপ ফেলতে তৎপর। এখানে অবশ্য পুলিশকে তেমন কোনও কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়নি। লকডাউনের নিয়ম ভাঙছেন, তা বুঝে নিজেরাই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন বাসিন্দারা। শুধু এইই নয়, দমদম, বিধাননগর এলাকাতেও এমন কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটল। নাগেরবাজার এলাকায় সকালে স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন একজন। তাঁকে পুলিশ আটকায়, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি পালাতে গেলে তাঁর স্কুটির ধাক্কায় সামান্য আহত হন এক পুলিশকর্মী। তাঁকে আটক করেছে দমদম থানার পুলিশ। ওঠবোস করানো হয়েছে।
[আরও পড়ুন: করোনায় মৃত পানিহাটির পুর প্রশাসকের দেহ নিয়ে শোকমিছিল! সংক্রমণ বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা]
নিউটাউনের নবাবপুরে সকালে খোলা হয়েছিল একটি লটারির দোকান। সেখানে ক্রেতাদের ভিড়ও জমেছিল। তবে তা পুলিশের চোখে পড়ামাত্র লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে। ভয়ে সকলে বাড়ি ফিরে যান। আটক করা হয়েছে দোকানদারকে। হাতিয়াড়াতেও একই ছবি। সেখানেও পুলিশ সকলকে বাড়ি পাঠিয়েছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত বিধিভঙ্গের অভিযোগে ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে মোট ৮টি গাড়ি। বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি, ট্রাফিক ধৃতিমান সরকার নিজে রাস্তায় নেমে তল্লাশি চালান। এছাড়া প্রতিটি থানার তরফে ২টি করে RT ভ্যান টহল দিচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে সল্টলেক, বাগুইআটি এলাকা শুনশান, পথঘাট জনশূন্য।
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ