Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৫ জুন ২০২৬
Madhyamik Exam 2026

মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ সাফল্য লুপ্তপ্রায় বিরহোড় জনজাতির! শবর পড়ুয়ারা পেল ‘এ’ গ্রেড

২০০৯ সালে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে বিরহোড় জনজাতিকে শিক্ষার পথ দেখিয়েছিলেন বাঘমুন্ডির দুই ছাত্র।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ৮, ২০২৬, ২২:১০

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ৮, ২০২৬, ২২:১০

options
link
মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ সাফল্য লুপ্তপ্রায় বিরহোড় জনজাতির! শবর পড়ুয়ারা পেল ‘এ’ গ্রেড zoom
মাধ্যমিকে সাফল্য বিরহোড় জনজাতির শিশুপাল শিকারি ও ভারতী শিকারির। নিজস্ব ছবি

মাধ্যমিকে আবারও উজ্জ্বল জঙ্গলমহল। এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক থেকে দশের মেধাতালিকায় ১৩১ জনের মেধাতালিকার মধ্যে জঙ্গলমহলেরই ২৬ জন। বনমহলের চার জেলার মধ্যে ওই মেধাতালিকায় রয়েছে মোট ৩ জেলা। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর। বরাবরের মতো এবারও মেধাতালিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃতীর সংখ্যা বাঁকুড়ার। পুরুলিয়া থেকে ৯ জন রয়েছে মেধাতালিকায়। জঙ্গলমহলের এই জেলা হুগলির সঙ্গে যুগ্মভাবে পঞ্চম স্থানে, যা রেকর্ড। সেইসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩ জন। একইভাবে পাশের হারের ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ছাপ ফেলেছে বনমহল। 

যে চার বিরহোড় জনজাতির ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিকে সাফল্য পেয়েছে তারা সকলই বাঘমুন্ডির ভূপতি পল্লির বাসিন্দা। দুই ছাত্র ববি শিকারী ও শিশুপাল শিকারী। দুই ছাত্রী ভারতী শিকারী ও লক্ষ্মীমণি শিকারী। ববি ও ভারতী বাঘমুন্ডির ধসকা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। লক্ষ্মীমণি পড়াশোনা করে বাঘমুন্ডির কস্তুরবা গার্লস হাইস্কুলে। শিশুপাল ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠের ছাত্র। শিশুপালই এবারের মাধ্যমিকে সবচেয়ে বেশি, ২৯৫ নম্বর পেয়েছে।

তবে এবারের মাধ্যমিকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, রাজ্যের একেবারে লুপ্তপ্রায় জনজাতি বিরহোড় পড়ুয়ারা ১০০ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে। পুরুলিয়ার দুই বিরহোড় কন্যা ও দুই ছাত্র-সহ মোট ৪ জনই জীবনের এই প্রথম বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। যাকে বড়সড় সাফল্য হিসাবে দেখছে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর। আদিম শবর জনজাতির পড়ুয়ারাও সাফল্য পেয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মেধাতালিকায় থাকা জঙ্গলমহলের ২৬ জনের মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ১ জন করে। ষষ্ঠ স্থানে ৩ জন, সপ্তম স্থানে ১ জন, অষ্টম স্থানে ২ জন, নবম স্থানে মোট ৬ জন ও দশম স্থানে রয়েছে মোট ১২ জন। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দুই কৃতীই বাঁকুড়ার। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ৩ কৃতী বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের। সপ্তম স্থানে রয়েছে পুরুলিয়ার মেধাবী। অষ্টম স্থানে ২ জনই বাঁকুড়ার। নবম স্থানে ৬ জন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের। দশম স্থানে ১২ জন ওই তিন জেলারই। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক স্বামী জ্ঞানরূপানন্দ মহারাজ বলেন, ‘‘বিদ্যাপীঠের ফলাফলে মাধ্যমিকে জঙ্গলমহলের সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। আমরা ভীষণ খুশি।”

যে চার বিরহোড় জনজাতির ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিকে সাফল্য পেয়েছে তারা সকলই বাঘমুন্ডির ভূপতি পল্লির বাসিন্দা। দুই ছাত্র ববি শিকারী ও শিশুপাল শিকারী। দুই ছাত্রী ভারতী শিকারী ও লক্ষ্মীমণি শিকারী। ববি ও ভারতী বাঘমুন্ডির ধসকা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। লক্ষ্মীমণি পড়াশোনা করে বাঘমুন্ডির কস্তুরবা গার্লস হাইস্কুলে। শিশুপাল ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠের ছাত্র। শিশুপালই এবারের মাধ্যমিকে সবচেয়ে বেশি, ২৯৫ নম্বর পেয়েছে। বাঘমুন্ডি ১ নম্বর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অভিষেক পাল বলেন, ‘‘একেবারে ১০০ শতাংশ সাফল্য। এই জনজাতির এরাই ‘ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার’। এরা যাতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে আমরা তার সব রকম চেষ্টা করব।”

আসলে বিরহোড় জনজাতির ‘ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার’-এ পথ দেখিয়েছিলেন বাঘমুন্ডির ওই ভূপতি পল্লির কাঞ্চন ও সীতারাম শিকারি। তারা ২০০৯ সালে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। তারপর থেকে সাফল্য ধরে রেখেছে এক সময় জঙ্গলে বসবাস করা এই লুপ্তপ্রায় জনজাতি। মাধ্যমিকে সাফল্য পাওয়া শিশুপাল শিকারির কথায়, ‘‘কাঞ্চন দাদারা পথ দেখিয়েছিল। সেই পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।” আদিম শবর জনজাতির বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার মৌলা গ্রামের বাসিন্দা নিরুপম শবর এবার মাধ্যমিকে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। ওই পড়ুয়া মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের শুশুনিয়া একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল হাই স্কুলের ছাত্র। তার বাবা দিনমজুরির কাজ আর জঙ্গলের পাতা ও কাঠ কুড়িয়ে তা বিক্রি করে লেখাপড়া করান। ওই পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর ৪৫৭।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.