Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
SIR in West Bengal

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন, আতঙ্কে ‘আত্মঘাতী’ মগরাহাটের বাসিন্দা রফিক

গত শনিবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমবেশি প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে জনমানসে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। শুধু তাই নয়, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের নাম বিচারাধীন রাখা হয়েছে।

Advertisement
সুরজিৎ দেব
সুরজিৎ দেব

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৫:২৪

link
সুরজিৎ দেব
সুরজিৎ দেব

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৫:২৪

options
link
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন, আতঙ্কে ‘আত্মঘাতী’ মগরাহাটের বাসিন্দা রফিক zoom
প্রতীকী ছবি।

কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নামের পাশে লেখা ‘বিচারাধীন’। তা দেখার পর থেকেই আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছিল মগরাহাটের উস্তি থানার ঘোলা নয়পাড়ার বাসিন্দা রফিক আলী গাজীকে। এরমধ্যেই মঙ্গলবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন পেশায় ভ্যানচালক বছর ৪৪ এর রফিক। পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও ভোটার লিস্টে নাম বিচারাধীন থাকায় আতঙ্কে ছিলেন তিনি। সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মঘাতী হন রফিক। খবর পেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পরেই দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। এমনকী উস্তি-শিরাকোল রোড অবরোধ করা হয়। 

এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্থানীয় উস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের স্ত্রী আমিনা বিবি। যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের নাম রয়েছে।

Advertisement

গত শনিবার এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমবেশি প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে জনমানসে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। শুধু তাই নয়, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের নাম বিচারাধীন রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় ছিলেন রফিক আলী গাজীও।

দেহ নিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের।

জানা যায়, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন তিনি। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই রয়েছে। আগেও একাধিকবার ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু এবার এসআইআর শুনানিতে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রকাশিত ভোটার লিস্টে তাঁর নাম বিচারাধীন হিসেবে রয়েছে। এরপর থেকেই রফিক আতঙ্কে ছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

রফিকের নামের উপর উল্লেখ বিচারাধীন।

মৃতের স্ত্রী আমিনা বিবির অভিযোগ, ”এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ায় শুনানিতে সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও ভোটার লিস্টে নামের পাশে লেখা ছিল বিচারাধীন। এরপর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন।” অবসাদ থেকেই এই ঘটনা বলে দাবি আমিনা বিবির। এখন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন আমিনা। রফিক আলী গাজীর মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের প্রতিবেশীরাও। বিচারের দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষজন।

মৃত রফিক আলী গাজী।

অন্যদিকে কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। মগরাহাট পশ্চিমের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইমরান হাসান বলেন, ”নির্বাচন কমিশনের একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্তের জেরেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু প্রান্তিক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। রফিক আলীর মৃত্যু নির্বাচন কমিশনের সেই তুঘলকি সিদ্ধান্তের আরও একটি নজির হয়ে রইল।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.