সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা (Coronavirus) সংক্রমণ ধরা পড়েছে গৃহবধূর শরীরে। সংক্রমিত পরিবারের আরও তিনজন। খবর পেয়ে রিষড়া পুরসভার কর্মীরা পৌঁছন ওই বাড়িতে। বাড়ির আশেপাশের এলাকায় কনটেনমেন্ট করার পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভরতি করানোর উদ্দেশে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁদের যা অভিজ্ঞতা হল, তা বোধহয় ভোলা মুশকিল।
পুরকর্মীদের কাছে কাকুতিমিনতি করলেন বাড়ির কর্তা। তাঁর অনুরোধ, আর যাকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হোক, যেন তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতেই রাখা হয়। কেন এমন অনুরোধ? পুরকর্মীদের এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর স্বামী সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, বউ হাসপাতালে গেলে বাড়িতে রান্না করবে কে? যা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান পুরকর্মীরা। পরে অবশ্য করোনা আক্রান্ত গৃহবধূর চিকিৎসা হয়। আপাতত তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
[আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত ভরতি হাসপাতালে, প্রতিবেশীদের হেনস্তার শিকার পরিবার, মিলছে না বাজার-ওষুধ]
ঘটনা মাসখানেক আগেকার। করোনা কালে স্বাস্থ্যকর্মী, পুরকর্মীদের কেমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তা বোঝাতে গিয়েই এই কাহিনি প্রকাশ্যে আসে। রিষড় পুরসভার এক কর্মীই এই পরিবারের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিবারের চারজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে ভরতি করানোর জন্য গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা। সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে শুনে মুখ কাঁচুমাঁচু হয়ে যায় বাড়ির কর্তার। তিনি পুরকর্মীদের অনুরোধ করেন, অন্যদের নিয়ে যাওয়া হোক, কিন্তু তাঁর স্ত্রীকে যেন বাড়িতেই রাখা হয়। এমন আবদার শুনে পুরকর্মীরা প্রথমে একটু বিরক্ত বোধ করেন। পরে তাঁকে প্রশ্ন করতেই বেরিয়ে আসে আসল কথা। স্বামী বলেন, ”ও চলে গেলে বাড়িতে রান্না করার কেউ থাকবে না।” একথা শুনে বিস্ময় যেন আর কাটতেই চায় না তাঁদের।
[আরও পড়ুন: লক্ষ্য একুশ, বিজেপিতে ভাঙন ধরিয়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিপ্লব মিত্রর]
এমন ঘটনার সাক্ষী ছিলেন রিষড়া পুরসভার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্বে থাকা নোডাল অফিসার (Nodal Officer)। তিনি গৃহকর্তাকে বোঝান যে করোনা আক্রান্ত গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েই চিকিৎসা করাতে হবে। নাহলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে আরও। গৃহকর্তা নিজেও সংক্রমিত হবেন। তা সত্ত্বেও নাছোড় গৃহবধূর স্বামী। শেষমেশ অবশ্য খানিকটা জোর করেই ওই মহিলাকে স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রথমে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে ভরতি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নিত্যদিনের কাজ ফের চলছে তাঁর হাত ধরেই। কিন্তু ঘটনার কথা ভুলতে পারেননি কেউ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আজকের দিনেও বাড়ির বউয়ের মূল দায়িত্ব স্রেফ রান্না! তাই কি মহামারীতে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে ভরতি হওয়ার অনুমোদন মেলে না তাঁর?
সর্বশেষ খবর
-
মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
জমি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ! পুলিশের জালে তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন বিধায়ক
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম
-
৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি! রেলমন্ত্রীর বুলেট ট্রেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া উত্তরে