Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
BJP

দুর্গাপুরে কমল মেলায় পারফর্ম করতে গিয়ে হেনস্তা! বিজেপির বিরুদ্ধে ফুঁসছে ‘পাঁচফোড়ন’ ব্যান্ড

'শিল্পীদের সম্মান দিতে জানে না, দেশ চালাবে কীভাবে?' ফেসবুক লাইভে অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন ব্যান্ডের সদস্যরা।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১৫:৫২

link
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১৫:৫২

options
link
দুর্গাপুরে কমল মেলায় পারফর্ম করতে গিয়ে হেনস্তা! বিজেপির বিরুদ্ধে ফুঁসছে ‘পাঁচফোড়ন’ ব্যান্ড zoom
বিজেপিক কমল মেলায় নীতীন নবীনের অনুষ্ঠানের পর পারফর্ম করতে গিয়ে হেনস্তার মুখে বাংলা ব্যান্ড 'পাঁচফোড়ন'।
Advertisement

বিজেপির অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়ে পারফর্ম করতে গিয়ে চরম হেনস্তার মুখে বাংলা ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’! শেষমেশ দুর্গাপুরের কমল মেলার অনুষ্ঠান বাতিল করে ফিরে যান ব্যান্ডের সদস্যরা। এরপর ফেসবুক লাইভে নাম না করে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত’ বলে দায় এড়িয়েছেন মেলার উদ্যোক্তা থেকে বিজেপি নেতা, বিধায়করাও।

বুধবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার মঞ্চে পারফর্ম করার জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল আসানসোলের জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’কে। সঠিক সময়ে তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে গেলেও তাঁদের মঞ্চে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ঢুকতে দেওয়া হয়নি গ্রিন রুমে, শিল্পীদের চা-জল দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাঁরা ফিরে যান। এরপরই ফেসবুক লাইভ করে শিল্পীরা ক্ষোভ উগরে দেন উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে। ব্যান্ডের মূল গায়িকা অমৃতা মুখোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে বলেন, “আমাদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠান করার জন্যে যোগাযোগ করেছিলেন। অ্যাডভান্স পেমেন্ট করেননি। বুধবার সকালে আমাদের ফোন করে বলা হয় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান করার জন্য। আমাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকলেও আমরা রাজি হই।”

Advertisement

ব্যান্ডের লিড সিঙ্গার অমৃতা মুখোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে বলেন, “আমাদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠান করার জন্যে যোগাযোগ করেছিলেন। অ্যাডভান্স পেমেন্ট করেননি। বুধবার সকালে আমাদের ফোন করে বলা হয় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান করার জন্য। আমাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকলেও আমরা রাজি হই।”

তাঁদের অভিযোগ, এরপর অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠার পরই হেনস্থা শুরু। সাড়ে ৬টায় এলেও তাঁদের গ্রিন রুমে ঢুকতে দেয়নি উদ্যোক্তারা। গাড়িতেই বসেছিলেন তাঁরা। কেন আজ এসেছেন? এদিন তাঁদের অনুষ্ঠান আছে বলেও নাকি জানতেন না উদ্যোক্তারা বলে তাঁদের বলা হয়। অমৃতা ফেসবুক লাইভে বলেন, “এটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান, আগে জানলে আসতাম না। আমরা অসম্মানিত, অপমানিত। তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো।” দলের আরেক সদস্য বিজেপির নাম না করে বলেন, “পুলিশে অভিযোগ করব। ভবিষ্যতে বাংলার বুকে কোন শিল্পী যেন এই ধরনের মেলায় অংশ না নেন তার আবেদন জানাই। বাংলার সংস্কৃতির আবেগ বোঝে না এই রাজনৈতিক দলটি। শিল্পীদের সম্মান করতে পারে না, এরা দেশ চালাবে কীভাবে?”

দলের আরেক সদস্য বিজেপির নাম না করে বলেন, “পুলিশে অভিযোগ করব। ভবিষ্যতে বাংলার বুকে কোন শিল্পী যেন এই ধরনের মেলায় অংশ না নেন তার আবেদন জানাই। বাংলার সংস্কৃতির আবেগ বোঝে না এই রাজনৈতিক দলটি। শিল্পীদের সম্মান করতে পারে না, এরা দেশ চালাবে কীভাবে?”

এরপর প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষার পর অনুষ্ঠান বাতিল করে চলে যান তাঁরা। এদিকে এই বিষয়ে কার্যত মুখ লুকিয়েছেন মেলার উদ্যোক্তা থেকে বিজেপি নেতারা। মেলার দায়িত্বে থাকা বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি মনীষা শিকদারের প্রতিক্রিয়া, “আমি মেলার সংস্কৃতি কমিটির সঙ্গে ওই ব্যান্ডের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছি মাত্র। তারপর কিছু জানি না। এটা লজ্জাজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” মেলার আহ্বায়ক কুন্দন সাউ সব শুনে ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই জানিয়ে দেন, ”এই বিষয়ে কিছুই জানি না।” এই বিষয়ে দুর্গাপুরের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রণজিৎ গুহ বলেন, “ঘোরতর অন্যায় কাজ হয়েছে। আমন্ত্রণ করে অপমান! এটা মানা যায় না। অন্যায় কাজ করেছেন উদ্যোক্তারা।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.