Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৭ আগস্ট ২০২৬
Tarapith Temple

১৫ ধরে একটি কমিটির ‘দখলে’ই তারাপীঠ! সরকার বদলাতেই মন্দিরে বড় ‘পরিবর্তন’

পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ''সমস্ত মন্দির কমিটি যাতে স্বচ্ছভাবে চলে সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা মেনেই এখন চলবে।''

বিপিন পাল
বিপিন পাল

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৭:১৯

link
বিপিন পাল
বিপিন পাল

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৭:১৯

options
link
১৫ ধরে একটি কমিটির ‘দখলে’ই তারাপীঠ! সরকার বদলাতেই মন্দিরে বড় ‘পরিবর্তন’ zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

বীরভূমের (Birbhum) প্রসিদ্ধ সিদ্ধপীঠ হল তারাপীঠ। দূর দূরান্ত থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও অগণিত ভক্ত মায়ের টানে তারাপীঠে ছুটে আসেন মা তারার পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যে। বিশেষ বিশেষ দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে মন্দিরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করতে বিশাল পুলিশবাহিনীকে। শুধু তাই নয়, মন্দির যাতে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হয় সেজন্য রয়েছে মন্দির কমিটিও। প্রত্যেক সদস্যের ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কমিটি তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরে নতুন কমিটি তৈরি হয়নি। একটা কমিটিই তারাপীঠ মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। রাজ্যে পালা বদলের পর সেই মন্দির কমিটি ভেঙে সর্বসম্মতভাবে গঠন করা হল নতুন মন্দির কমিটি।

নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”বিগত ১৫ বছর ধরে মন্দিরের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেবায়েতদের একটা অংশ কমিটি দখল করে বসেছিল। বক্তব্য ছিল, যতদিন সরকার থাকবে তাঁরা থাকবেন।” 

জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে কমিটি গঠন করতে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই সর্বসম্মতি ভাবে মৌখিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারাপীঠ মন্দিরে (Tarapith Temple) নতুন কমিটির গঠন করা হয়। এতদিন ধরে তারাপীঠ মন্দিরের মন্দির কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তারাময় মুখোপাধ্যায়। তবে এবার সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি তারাপীঠ মন্দিরের অন্যতম একজন সেবাইত। সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাপীঠ মন্দিরের অপর এক সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়কে। 

Advertisement

তাঁদের অভিযোগ, কোন নিয়ম না মেনে ১৫ বছর ধরে কমিটি মন্দিরটিকে নিজেদের ইচ্ছামত পরিচালনা করেছিলেন। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই কমিটি চলেছে বলেও অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”কমিটির কিছু নিয়ম রয়েছে। প্রত্যেকবছর বৈশাখ মাসে প্রথম কমিটি গঠন হয়। সর্বোচ্চ মেয়াদ হয় পাঁচবছর। কিন্তু প্রত্যেকবছর বৈঠক করে সেই কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বোচ্চ মেয়াদ হয় তিন বছর।” তাঁর কথায়, ”বিগত ১৫ বছর ধরে মন্দিরের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেবায়েতদের একটা অংশ কমিটি দখল করে বসেছিল। বক্তব্য ছিল, যতদিন সরকার থাকবে তাঁরা থাকবেন।” কিন্তু সরকারের সঙ্গে মন্দিরের কি সম্পর্ক? কখনই তা চলতে পারে না বলে দাবি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ”সরকারের সঙ্গে মন্দিরের কোনও সম্পর্ক নেই। এখানে কোনও দল নয়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে হবে কাজ।”

অন্যদিকে পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”সমস্ত মন্দির কমিটি যাতে স্বচ্ছভাবে চলে সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা মেনেই এখন চলবে।” তাঁর কথায়, মা’কে যাতে সবাই সুন্দরভাবে দর্শন করতে পারেন সেদিকে নজর রেখে আগামিদিনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে লাইন নিয়ে ভক্তদের একটা অভিযোগ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে নয়া কমিটির এই সদস্য জানান, দুটি লাইনের মধ্যে ভক্তদের লাইন সীমাবদ্ধ থাকবে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য, অন্যটি বিশেষ লাইন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে লাইন থাকবে। এর বাইরে আর কোনও লাইন থাকবে না। দীর্ঘ ১৫ বছর পর নতুন কমিটি হওয়ায় মন্দির সেবায়েতদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উচ্ছ্বাস। নতুন কিছু আশায় বুক বাঁধছে নতুন কমিটির সদস্যরাও।  

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.