Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
নবদম্পতি

তারকেশ্বরে বরণের আগে নবদম্পতিকে বেধড়ক মারধর, অভিযুক্ত বিজেপি

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, অভিযোগ উড়িয়ে দাবি বিজেপির।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০১৯, ২০:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০১৯, ২০:৪১

options
link
তারকেশ্বরে বরণের আগে নবদম্পতিকে বেধড়ক মারধর, অভিযুক্ত বিজেপি zoom
Advertisement

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: নবদম্পতিকে বরণ করার আগেই গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে তারকেশ্বরের আসতারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দত্তপুরে, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। এর পাশাপাশি বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন আটজন। এদের মধ্যে বরের ভাই শৌভিকের আঘাত গুরুতর। তাই তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

[আরও পড়ুন- আষাঢ়েও অনাবৃষ্টি! পুরুলিয়ায় জঙ্গল তৈরি করতে ‘সিড বল’ ছড়ানোর সিদ্ধান্ত বনদপ্তরের]

সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দত্তপুর এলাকায়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি দিলীপ যাদব, তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সামন্ত-সহ অন্যরা। স্থানীয়রা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারকেশ্বর থানায় স্থানীয় বিজেপি নেতা নবকুমার ঘোষ, সুরজিৎ ঘোষ, অসিত খাঁ-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন আসতারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনন্দমোহন ঘোষ।

Advertisement

 BJP, TMC
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিয়ে হয়েছে আনন্দবাবুর ভাইপো কৌশিক ঘোষের। সোমবার সকালে মেয়ের বাড়ি থেকে দত্তপুরের উদ্দেশে রওনা হয় নবদম্পতি। আনন্দমোহন ঘোষ জানান, সকাল পৌনে দশটা নাগাদ ভাইপো ও বউমা সবেমাত্র গাড়ি করে এসে বাড়িতে পৌঁছেছে। তখনও গাড়ি থেকে নামেনি। সবাই বরণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় স্থানীয় বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তীর প্ররোচনায় নবকুমার ঘোষ, সুরজিৎ ঘোষ ও অসিত খাঁ-সহ প্রায় জনা ২২ দুস্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড ও টাঙি নিয়ে হামলা চালায়। বর ও বউকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। নবদম্পতির সোনার অলঙ্কারও লুট করে। কৌশিকের সারা শরীরে লোহার রডের আঘাতে কালশিটে পড়ে যায়। চোখের সামনে এই ঘটনা দেখে বাধা দিতে যান পরিবারের অন্য সদস্যরা। এর জেরে কৌশিকের বাবা কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ, ভাই শৌভিক ঘোষ ও বাড়ির অন্য মহিলাদের লোহার রড দিয়ে মারধর করে দুষ্কৃতীরা। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণে মারারও হুমকি দেয়। রডের আঘাতে শৌভিকের মাথায় মারাত্মক চোট লাগে। ফলে ঘটনাস্থলেই বমি করতে থাকে সে। এরপর বাড়ির ভিতর ঢুকে আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা।

[আরও পড়ুন- বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিপ্লব, তৃণমূল নেতাকে দলে নেওয়ায় বিজেপি ছাড়ছেন শ্রমিক নেতা]

পরে এই ঘটনায় জখম আটজন সদস্যকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সাতজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শৌভিককে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনার কথা জানার পরই ঘটনাস্থলে যান দিলীপ যাদব। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। পরে জানান, বিজেপির দুষ্কৃতীরা যেভাবে মানুষের উপর আক্রমণ করছে তার তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত। বিজেপির এই দুষ্কৃতী ও নেতাদের অবিলম্বে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ডাক দেন তিনি। পুলিশের কাছে দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য আবেদনও জানান।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক গণেশ চক্রবর্তী। উলটে তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের কারণে হয়েছে। রবিবার কিছু ছেলে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। তাদের ঠেকাতে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বিজেপির উপর দায় চাপাচ্ছে। বিজেপি কোনও হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.