মল্লারপুরের ধীরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সুশান্ত পাল।
নন্দন দত্ত, সিউড়ি: পরপর ন’বার। গ্রাম পঞ্চায়েতের (Panchayat Election) তিনটি স্তরে জয়ী হয়ে জেলা তো বটেই রাজ্যেও রেকর্ড করলেন মল্লারপুরের ধীরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বামফ্রন্ট আমলেও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, এখন তৃণমূলের আমলে তো কথাই নেই। ৬৩ বছরের ধীরেন্দ্রবাবু এবার জয়ী হয়েছেন ময়ূরেশ্বর এক ব্লকের ডাবুক পঞ্চায়েত সমিতির ২০ নম্বর আসন থেকে।
পঞ্চায়েত রাজনীতির অগাধ পান্ডিত্য সত্বেও মহাভারতের বিদুরের মতনই তিনি ব্রাত্য। গতবারের জেলা পরিষদের মেন্টর থেকে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে দাঁড়াতে হলেও অভিমান থাকলেও দলের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর। তিনি জানান, “আসানসোল সংশোধনাগারে গিয়ে দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে গিয়ে এবার সভাধিপতির দাবি জানিয়েছিলাম। উনি রাজি ছিলেন। কিন্তু দল জেলা পরিষদের টিকিটই দিল না।”
১৯৮৩ সাল থেকে টানা ২০০৩ পর্যন্ত মল্লারপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। সিপিএমের আমলে তিনিই কেন্দ্রীয় সরকারের সেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরষ্কার এনেছেন। একবার একশো দিনের কাজের জন্য। অন্য চারবার সামগ্রিক বিচারে।একশো দিনের কাজে নিজের এলাকায় প্রথম শ্রমিকদের বায়োমেট্রিক পেমেন্টের ব্যবস্থা করেন। নিজস্ব তহবিল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স কেনেন এলাকাবাসীদের জন্য। বিদুরের মতনই রাজকার্যে বেশী আগ্রহী। দলগত প্রাণ। প্রশাসনিক পান্ডিত্য অগাধ। কিন্তু জনপ্রিয় হলেও সাংগঠনিক নন। তাঁর কোনও অনুগামী নেই। তাই জেলা তৃণমূলে তিনি বিদুরের ভূমিকায়।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Pratidin Prakashani Pvt. Ltd. All rights reserved.