বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বাংলার ৯ মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও নিখোঁজ ৬ জন। ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে রওনা দেওয়া ট্রলার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতে উদ্ধার হয় রবিবার। এই ঘটনায় এবার শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে এই ট্রলারডুবির বিষয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” ট্রলারডুবি ও মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা শুনে দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে জানাই সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আহতদের দেওয়া হবে ৫০,০০০…
— PMO India (@PMOIndia) July 13, 2026
সোমবার বিকেলে মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিজনদের সঙ্গে কাকদ্বীপে দেখা করেন মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দেরি না করেই সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে এবং পরিবারগুলি পাশে থাকবে।” রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার সীতারামপুরে গিয়ে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের তল্লাশি অভিযানে তদারকি করেন রাতভর। মন্ত্রী জানান, গোটা ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাও চলছে। উপস্থিত ছিলেন কাকদীপ মহকুমা প্রশাসন ও সুন্দরবন পুলিশ জেলার আধিকারিক, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ কর্মী এবং বন দপ্তরের অফিসাররা, বনকর্মী এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে বিজন মাইতি, সতীনাথ পাত্র সহ অন্যান্যরা।
দিঘার শংকরপুরের দুর্ঘটনাগ্রস্ত জয় মা কালী ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ মৎস্যজীবীর দেহ ময়নাতদন্ত হল কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে। তবে দেহগুলি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় দেহ শনাক্তকরণের কাজ এদিন হয়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তারপর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে। আপাতত দেহগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেহ শনাক্ত করতে আসা মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিজনদের চোখেমুখে তাই এখন গভীর উৎকণ্ঠা। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, ট্রলারের ভিতর আর কোনও দেহ মেলার সম্ভাবনা নেই। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের উত্তাল সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্রজুড়ে চলছে তল্লাশি। উপকূলরক্ষী বাহিনীর কপ্টার আকাশপথে এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের ট্রলারগুলি নিখোঁজদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বেআইনি মদ-মাদক চক্র নির্মূলে বিশেষ অভিযানে কলকাতা পুলিশ, তৈরি পাচারকারীদের তালিকাও
-
‘ধর্ষণে’ অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! চাঞ্চল্য কালচিনিতে
-
এবার হরমুজ পারে দিতে হবে মোটা কর! ঘোষণা ‘অভিভাবক’ ট্রাম্পের, ছাড় নয় ভারতকেও?
-
প্রবল বর্ষণ, হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়, ধসে অবরুদ্ধ একাধিক সড়ক
-
সম্পত্তির লোভে শাশুড়িকে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামাইয়ের