সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা প্রচারে কত রাস্তাই না দেখাচ্ছে প্রশাসন, পুলিশ। এবার লকডাউনে মেনে চলার আবেদন জানিয়ে তুলি হাতে প্রচারে নামল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। সঙ্গী পুলিশও। রাজপথে রংবেরঙের আলপনা এঁকে আর লিখে তাদের বার্তা – ‘ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।’ আর পুলিশ-প্রশাসনিক কর্তাদের এই যৌথ শিল্পকর্মে চেহারাই পালটে গেল পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের একাংশের।

পথে প্রতিবাদ – এটা চেনা ছবি। তবে এবার রাজপথ হয়ে উঠল সচেতনতা প্রচারেরও ‘পথ’ও। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পথে রং-তুলি-আলপনায় সচেতনতার পাঠ দিচ্ছে প্রশাসন। আসলে, লকডাউনের মধ্যেও যেভাবে রাস্তায়, বাজারে মানুষজন বের হচ্ছেন, কোনওরকম সতর্কতা ছাড়াই, তাতে তাঁদের সচেতন করতে যে কোনও উপায় অবলম্বন করতে হচ্ছে। তাই রাজপথেই রং-তুলির আঁকিবুঁকিতে আমজনতাকে সচেতন করতে চাইছে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। সেই সচেতনতায় প্রথম স্লোগান, ‘ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন’, নানা রং দিয়ে যে স্লোগান ফুটে উঠেছে পিচ রাস্তার বুকে।
[আরও পড়ুন: বড়ঞার পুনরাবৃত্তি শান্তিপুরের মসজিদে, লকডাউনের মধ্যেই চলছে নমাজ]
এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাও অনন্য। এর আগে করোনা সচেতনতা প্রচারে উর্দিধারীদের গায়কের ভূমিকা বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। এবার তাদের শিল্পীসত্ত্বাও বিকশিত হল। পুরুলিয়ার শিল্পশহর রঘুনাথপুরে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, কনস্টেবল-সহ রঘুনাথপুর এক নম্বর ব্লকের কর্মীরা তুলি, রং হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। তুলির নিপুণ টানে পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কে ট্রাফিক মোড়ের কাছে ফুটে ওঠে করোনা রোগের একাধিক উপসর্গ। সেই উপসর্গ দেখা দিলেই যে স্বাস্থ্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে, সেই বার্তা দেওয়া হয় রাজপথের অঙ্কন শিল্পে। রঘুনাথপুর এক নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ মণ্ডল বলেন, “করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের নানাভাবে সচেতনতার প্রচার চলছে। তার মধ্যে রাস্তায় রঙ-তুলিতে ছবি এঁকে মানুষজনকে সচেতন করা হচ্ছে। এই কাজে রোগের উপসর্গ যেমন তুলে ধরছি আমরা, সেরকমই রাজপথের আঁকিবুঁকিতেই বার্তা দিচ্ছি – ঘরে থাকুন। খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বার হবেন না।”
[আরও পড়ুন: ‘রাজ্যে রাজনৈতিক রং দেখে রেশন বিলি হচ্ছে’, কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রীকে চিঠি স্বপন দাশগুপ্তর]
যেভাবে দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে তাতে প্রশাসন, পুলিশ উদ্বিগ্ন। তাই রাস্তাতেও অঙ্কন শিল্পের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে পথে নামল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিক থেকে পুলিশ কর্মী, সকলেই। এই জেলায় শুক্রবার সন্ধে পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা ছিল ৪৩২৫। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন এখনও ৫০৮ জন। আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা সাত।

ছবি: অমিত সিং দেও।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্ব জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে রুপো বসন্তের, হাই জাম্পে ভারতের নতুন ইতিহাস
-
২ কয়লা মাফিয়াকে নিয়ে তল্লাশি এসটিএফের, বিরাট অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসনে!
-
অনুপ্রবেশ-চোরাচালানে বাধা! ভারতীয় চাষিকে তুলে নিয়ে গেল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা, হুলস্থূল জলপাইগুড়িতে
-
ফের ভবানী ভবনে অভিষেকের পিএ সুমিত, জমি দুর্নীতিতে টানা দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদ সিআইডির
-
‘বাবা-মায়েরা যা পারেনি, তোমরা করেছ’, জেন জি-কে বার্তা রাহুলের, ঝাড়খণ্ড মনে করাল বিজেপি