২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে ‘খুন’ হয়েছিলেন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাস। পুলিশ ও তৎকালীন শাসকদলের চাপে পরিবার বাধ্য হয়েছিল দেহ করব দিতে। থানা-পুলিশ করার চেষ্টা করা হলেও স্বাভাবিকভাবেই কোনও লাভ হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই পদক্ষেপ। আদালতের নির্দেশে উদ্ধার করা হল বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাসের দেহাবশেষ। পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
ভোটের ফল ঘোষণার দিন আস্তিকচন্দ্র দাস বাজারে গিয়েছিলেন। সেই সময় এলাকায় তৃণমূলের বিজয় মিছিল চলছিল। নিরঞ্জনের মোড় দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, কোমরের বেল্ট, লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি পাশের পুকুরে পড়ে গেলে সেখান থেকেও তুলে ফের মারধর করা হয়। এমনকী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাধা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
বসিরহাটের ন্যাজাট থানার কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝনঝনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন নিহত আস্তিকচন্দ্র দাস। ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতরভাবে জখম হন আস্তিকচন্দ্র দাস। মৃতের ছেলে সুব্রত দাসের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার দিন তাঁর বাবা বাজারে গিয়েছিলেন। সেই সময় এলাকায় তৃণমূলের বিজয় মিছিল চলছিল। নিরঞ্জনের মোড় দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাবার উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, কোমরের বেল্ট, লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি পাশের পুকুরে পড়ে গেলে সেখান থেকেও তুলে ফের মারধর করা হয়। এমনকী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাধা দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পেরে গ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে আস্তিকের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঘটনার কয়েকদিন পর, ১০ মে বাড়িতেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। এরপরও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। সুব্রতর আরও অভিযোগ, সেই সময় ন্যাজাট থানার পুলিশের একাংশ তাদের বাড়ির সামনে পাহারায় দাঁড়িয়েছিল। এক পর্যায়ে ভয় দেখিয়ে দেহ সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁদের। তাঁর দাবি, ময়নাতদন্তের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং সেই সময় পুলিশ তাদের লিখিত অভিযোগও নেয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পর ফের আস্তিকচন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানায় তাঁর পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের দায়ের হয় মামলা। আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে পাঁচ বছর পর ঝনঝনিয়ায় সমাধিস্থল খুঁড়ে দেহাবশেষ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সমাধি খুঁড়ে কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মৃত আস্তিকচন্দ্র দাসের ছোট ছেলে প্রণব দাস এবং পুত্রবধূ ছন্দা দাস। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। পাঁচ বছর পর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আশার আলো দেখছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, এতদিন পর হলেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেই আশা করছি। প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাবেন বলেও জানায় দাস পরিবার।
সর্বশেষ খবর
-
ক্রাশও কি মজেছে আপনার প্রেমে? সরাসরি জিজ্ঞেস করার দরকার নেই, বলে দেবে এই ওয়েবসাইট
-
ভালো কাজের স্বীকৃতি! অজয় দেবগণের হাত থেকে পুরস্কৃত কলকাতার পরিচালক শিলাজিৎ
-
আগামী মাসেই এশিয়াসেরার যুদ্ধে ভারতে আসছে পাকিস্তান! নিশ্চিত করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী
-
ব্রিকসে মোদি-পুতিন-জিনপিংয়ের সঙ্গে একফ্রেমে কে এই তরুণ? ভাইরাল ছবির রহস্য ফাঁস
-
গণেশ চতুর্থীতে ঠাকুরঘরে জিৎ, নিষ্ঠাভরে বাপ্পার আরতি করলেন দেব, মারাঠি সাজে পুজো দিতিপ্রিয়ার