Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২০ জুলাই ২০২৬
'বিষাদনগরী' আনন্দপুর
Anandapur Fire

বাইক না পেয়ে ‘অভিমানে’ বাড়িছাড়া! আনন্দপুরের ‘জতুগৃহে’ নিখোঁজ ১৮-এর তরতাজা তরুণ

মোটরবাইক কেনার আবদার করেছিল ছেলে। কিন্তু বাবার আর্থিক সামর্থ্য নেই, সেই কথা ছেলেকে জানিয়েছিলেন। সেই কথা শুনে 'অভিমানে' বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ১৮ বছরের দেবাদিত্য। কাজ নিয়েছিলেন আনন্দপুরের ওই কারখানায়।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১৮:২১

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১৮:২১

options
link
বাইক না পেয়ে ‘অভিমানে’ বাড়িছাড়া! আনন্দপুরের ‘জতুগৃহে’ নিখোঁজ ১৮-এর তরতাজা তরুণ zoom
ছেলের খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন মা। নিজস্ব চিত্র

মোটরবাইক কেনার আবদার করেছিল ছেলে। কিন্তু বাবার আর্থিক সামর্থ্য নেই, সেই কথা ছেলেকে জানিয়েছিলেন। সেই কথা শুনে ‘অভিমানে’ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ১৮ বছরের দেবাদিত্য। কাজ নিয়েছিলেন আনন্দপুরের ওই কারখানায়। রবিবার গভীর রাতে ওই কারখানা, গোডাউনে আগুন লাগে। ‘জতুগৃহে’ আটকে মারা গিয়েছেন অনেকে। অনেকে এখনও নিখোঁজ। ওই ঘটনার পর থেকে খোঁজ মিলছে না দেবাদিত্যের। ছেলের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন পরিবারের সদস্যরা। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা।

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে বাড়ি ওই পরিবারের। বাবা শঙ্কর দিন্দা কাপড়ের দোকানের সামান্য কর্মী। ১৮ বছরের দেবাদিত্য পড়াশোনা করে। সম্প্রতি ওই তরুণের মোটরবাইক কেনার শখ হয়েছিল। বাইক কেনার জন্য বাবার কাছে টাকাও চেয়েছিল। এই মুহূর্তে অত টাকা নেই, সেই কথা জানিয়েছিলেন বাবা। সেই নিয়ে অভিমান হয়েছিল দেবাদিত্যর। শেষপর্যন্ত নিজেই কলকাতায় গিয়ে কাজ করবে বলে মাকে জানিয়েছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সেই মতো কলকাতার উপকণ্ঠে আনন্দপুরের ওই কারখানা, গুদামে কাজ শুরু করেছিল। রবিবার রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে সেখানে। ওই রাতে দেবাদিত্য সেখানেই ছিল বলে পরিবারের দাবি। পরদিন সকালে আগুনের ঘটনা দেখে ছেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেছিলেন উদ্বিগ্ন বাবা-মা। কিন্তু ছেলেকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে কলকাতার আনন্দপুরে ডেকরেটারের গুদামে আগুন লাগার পর থেকে খোঁজ নেই পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের দেবাদিত্যর। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও কোনও সন্ধান মিলছে না তার। মা শর্মিষ্ঠা ছেলের খোঁজ না পেয়ে কেঁদেই চলেছেন।

মায়ের কথায়, “কয়েক দিন পরে চলেও আসবে বলেছিল। বলেছিল পরীক্ষাটাও দেবে। হিরোর মতো দেখতে আমার ছেলেকে।” তিনি আরও বলেন, “সেই রাতে ছেলে বলেছিল, মা আমি কাজ করতে যাব। আমি বললাম, কেন যাবি। আমার তো অভাব নেই। সকালবেলা বাবা বকবে বলে, না বলে চলে গিয়েছিল। আমি নিজে হাতে ওর ব্যাগ গোছালাম। রাতে শেষবার ছেলেটার গলা শুনলাম।” বুকে ছবি আঁকড়ে বসে রয়েছেন দেবাদিত্যর মা। কেঁদেই চলেছেন দেবাদিত্যর বাবাও। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে তমলুক ব্লকের শালিকাগড়চক, ধনিচকের দু’টি গ্রামের প্রায় ছ’জন নিখোঁজ! একজন আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.