কিংশুক প্রামাণিক: দুষ্কৃতী দেখলেই গ্রেফতার করতে হবে৷ তাঁর জাত কী, ধর্ম কী তা কোনওভাবেই বিবেচ্য নয়৷ এমনকী অভিযুক্ত কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ার রয়েছে, তাও দেখার দরকার নেই৷ তাঁর জমানায় অপরাধ ও অপরাধী, কাউকে রেয়াত করা যাবে না৷ বৃহস্পতিবার প্রশাসনে এই কঠোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থের উপস্থিতিতে এদিন বোলপুরে বীরভুম জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বলেছেন মমতা৷
জানা গিয়েছে, নানুর, পাড়ুই, ইলমবাজার, মহম্মদবাজার ইত্যাদি এলাকায় শান্তি বজায় রাখার কথা বলতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার এই বার্তা দেন৷ যা শুধু বীরভূম জেলা নয়, সার্বিকভাবে গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷ রাজনৈতিক রং না দেখে চলার বার্তা দিয়ে পুলিশের মনোবল মমতা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, “পুলিশ তার কাজ করুক৷ পুলিশকে কেউ ভয় দেখাতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না৷” মনে রাখতে হবে, ইতিপূর্বে দলীয় সভায় মমতা বলেছিলেন, “পুলিশ পুলিশের কাজ করবে৷ আমি সেটা দেখে নেব৷ তৃণমূলের কেউ যেন পুলিশের কাজে নাক না গলায়৷ সরকারি অফিসারদের পাশাপাশি গতকালের সভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রনাথ সিংহ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মন্ত্রীরাও ছিলেন৷
বস্তুত, দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দল ও প্রশাসনে কড়া মনোভাব নিতে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে৷ মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে রাজধর্ম পালন যে তাঁর লক্ষ্য, তা তোলাবাজির অভিযোগে দলের কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ এদিন তিনি যেভাবে ‘ধর্ম’, ‘জাতি’ না দেখেই দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের কথা বললেন তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ নানুর, পাড়ুইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম যে পুরোটাই রাজনৈতিক, সে কথা তুলে ধরে মমতা স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলেন৷ তিনি বলেন, “কেউ যাতে শান্তি নষ্ট করতে না পারে, তা দেখতে হবে৷ বাইরে থেকে লোক ঢুকে বদমায়েশি করে৷ এসব চলবে না৷” একই সঙ্গে জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে প্রশাসনকে সক্রিয় থাকতে বলেন৷
জানা গিয়েছে, সব চেয়ে নস্টালজিক পর্ব বৈঠকের মাঝেই৷ এক সময় হঠাত্ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খয়রাসোলের বিডিও কে? পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কে? দু’জনেই উঠে দাঁড়ান৷ এরপর একে একে সব গ্রামের নাম, কোথায় পুকুর আছে, সেটা কাটা হয়েছে কী না সবই বলতে থাকেন মমতা৷ সভায় উপস্থিত সচিবরা, প্রশাসনিক কর্তারা তো অবাক৷ উনি এত সব জানেন? তখনই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আরে আমি কেন জানব না৷ ওটা তো আমার গ্রাম৷ আমি জানব না তো কে জানবে?” ঠিকই তো৷ এই খয়রাসোলের কুসুম্বা গ্রাম মমতার মামার বাড়ি৷ ছোটবেলায় ছুটি মানে গ্রামের আলপথে ছিল ছুট৷ সেই মেয়েই তো এখন মুখ্যমন্ত্রী৷ মাটিকে তিনি ভুলবেন কেমন করে৷
সর্বশেষ খবর
-
হামের মারণ হানা বাংলাদেশে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৬০৫
-
পশুপাখির ঘর কেড়ে ১০ হাজার কক্ষের রিসর্ট! ট্রাম্পের জামাইয়ের বিরুদ্ধে জনগর্জন আলবেনিয়ায়
-
অফিসে জোর করে ধর্মান্তর! টিসিএসের পর উইপ্রো, বিস্ফোরক অভিযোগে ফের উত্তাল মহারাষ্ট্র
-
নেত্রী নাকি পরামর্শদাতা? মমতার ভূমিকা নিয়ে এবার ‘আসল তৃণমূলে’ও ফাটল!
-
সকাল থেকে নেই সাড়া! দিঘায় হোটেল থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ