২৮ কার্তিক  ১৪২৬  শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধীমান রায়, কাটোয়া: এবার নিজের খাসতালুকেই কাটমানি নিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়লেন ‘অনুব্রত মণ্ডল’। সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী বেষ্টিত শাসকদলের এই ‘দাপুটে নেতার’ সামনে কেউ বললেন, ‘‘আমাদের টাকা ফেরত চাই।’’ কেউ রীতিমত টিপ্পনি কেটে বললেন, ‘‘সততার প্রতীক ভাই, কাটমানি ফেরত চাই। আমাদের টাকা ফেরত চাই।” তারপর, নেতা কি করলেন অনুব্রত? পাঠকরা বোধ হয় এখন উৎকন্ঠার সঙ্গে এটাই জানতে চাইছেন। তবে বলে রাখি, না কিছুই করেননি পাঁচন, নকুলদানা দাওয়াই খ্যাত অনুব্রত। বরং চুপচাপ বসেই ছিলেন তিনি। কেন? কারণ, স্ট্যাচুর মত চুপচাপ বসে থেকে তীব্র অস্বস্তির অভিব্যক্তি চোখেমুখে ফুটিয়ে তোলাই ছিল ঝুলন কমিটির নির্দেশ। সেটাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা করে দেখিয়েছেন এক খুদে ‘অনুব্রত মণ্ডল’। যা দেখে দর্শনার্থীরা রীতিমত তারিফ করেছেন।

[ আরও পড়ুন: বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের, বিভিন্ন প্রান্তে বেড়েই চলেছে মৃত্যু]

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার বেলাড়ি গ্রামে ঝুলন উৎসবের থিমে উঠে এল কাটমানি ইস্যু। আর এই কাটমানি ফেরত চাওয়ার দৃশ্যে তুলে ধরা হয়েছে, খোদ অনুব্রত মণ্ডলের কাছেই কাটমানির টাকা ফেরত চাইছেন গরীব মানুষরা। বেলাড়ি গ্রামে শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে ৬ দিন ব্যাপী মানব ঝুলন উৎসব। রবিবার রাতে বেলাড়ি সূর্য সংঘের ঝুলনের থিমে রাখা হয়েছিল কাটমানি ইস্যু। যা নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন দশক ধরে আউশগ্রামের বেলাড়ি গ্রামে ঝুলন উৎসব চলে আসছে। প্রতি বছর বেলাড়ি গ্রামীণ পাঠাগার এবং বেলাড়ি সূর্য সংঘ নামের দুটি সংস্থা গ্রামের ফুটবল মাঠে ঝুলন উৎসবের আয়োজন করে। গ্রামের কচিকাঁচা থেকে প্রবীণরাও ঝুলনে সেজে অভিনয় করে। প্রত্যেকদিন একাধিক থিম থাকে। আউশগ্রাম ছাড়াও দূরদুরান্তের দর্শনার্থীরা বেলাড়ির ঝুলন দেখতে ভিড় জমান। মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। দুই উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি মণ্ডপ থাকে। থিমের নিরিখে একে অপরের সঙ্গে থাকে প্রছন্ন লড়াই।

[ আরও পড়ুন: মিষ্টিতে মেলবন্ধন পতাকা-রাখির, স্বাধীনতা দিবসে নয়া আকর্ষণ বর্ধমানে ]

রবিবার রাতে সূর্য সংঘের পক্ষ থেকে অন্যান্য কয়েকটি থিমের পাশাপাশি কাটমানি ইস্যুকে থিম হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আর এই থিমটি কার্যত হিট দর্শনার্থীদের বিচারে। থিমে তুলে ধরা হয়েছে অনুব্রত মণ্ডল সাধারণ মানুষকে নিয়ে জনতার দরবার করছেন। তার পিছনে রয়েছেন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। গরিব উপভোক্তারা জরাজীর্ণ বেশে হতাশ হয়ে নেতার কাছে কাটমানি ফেরত চাইছেন। এই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন বেলাড়ি গ্রামেরই কয়েকজন কচিকাঁচা। জানা গিয়েছে বেলাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাদুস-নুদুস চেহারার রনি পাল ‘অনুব্রত মণ্ডল’ সেজেছিলেন। সূর্য সংঘের কর্মকর্তা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় এই থিম প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এই থিমের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। মানুকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে। যেহেতু এবছর কাটমানি সাম্প্রতিক ইস্যু তাই এটাকেও বেছে নেওয়া হয়েছে।”

[ আরও পড়ুন: মৌসুমী বায়ু-ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলা, শ্রাবণ শেষে ভরপুর বর্ষার স্বাদ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ]

উল্লেখ্য, বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকার দলীয় পর্যবেক্ষক। উদ্যোক্তারা তাকেও ঝুলন উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আসতে পারেননি তিনি। তবে ঝুলনের ওই থিমের কথা জানতে পেরে হেসেই লুটোপুটি খান অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘দারুন মজার থিম করেছে ওরা। বেলাড়ি গ্রামের ঝুলন উৎসবে সকলে মিলেমিশে আনন্দ করুক, এটাই কামনা করি।” পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘আমি বারবার দলীয় কর্মীদের বলেছি, কোনও গরিব মানুষের কাছে কাটমানি নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি সাধারন মানুষেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন৷”

ছবি: জয়ন্ত দাস।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং